গাজীপুর , বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ভোটের হাওয়া

গাজীপুরে রহম আলীর অবৈধ করাতকল: গজারী বন ধ্বংস

  • Reporter Name
  • Update Time : ২ ঘন্টা আগে
  • ১৮ Time View

সাংবাদিক মোঃ শামীম মিয়া গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় প্রকাশ্যে চলছে অবৈধ করাতকলের দৌরাত্ম্য। সংরক্ষিত বন এলাকায় দিনের পর দিন গজারী গাছ কেটে ধ্বংস করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার নীরব সহযোগিতায় এই অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রভাবশালী ব্যক্তি রহম আলী।

শ্রীপুর থানার রাজাবাড়ী এলাকায় ঢাকা বন বিভাগের আওতাধীন সূর্যনারায়ণপুর বিট ও রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জের অধীনে এই অবৈধ করাতকল পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, রহম আলী দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে গজারী গাছ কেটে করাতকলে চিরাই করছেন। এতে দ্রুতগতিতে গজারী বন ধ্বংস হচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ৫ মে রহম আলীর বিরুদ্ধে বন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মামলায় অভিযোগ ছিল, তিনি অবৈধভাবে সংরক্ষিত বন থেকে গাছ কেটে করাতকলে প্রক্রিয়াজাত করছিলেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রায় ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই মামলার কোনো কার্যকর ফল দেখা যায়নি। বরং বর্তমানে তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন ২ থেকে ৩টি ট্রাকে করে বন থেকে গজারী গাছ এনে রহম আলীর করাতকলে চিরাই করা হয়। এই পুরো কার্যক্রম চলে প্রকাশ্যে। অথচ বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, “বন বিভাগের লোকজন এলাকায় টহল দেয়, কিন্তু রহম আলীর করাতকলের দিকে তাকায় না। সবাই জানে কী হচ্ছে, কিন্তু কেউ কিছু বলে না।”

স্থানীয়দের দাবি, নিয়মিত মাসোহারা দিয়েই এই অবৈধ ব্যবসা চালানো হচ্ছে। ফলে আইন যেন শুধু সাধারণ মানুষের জন্য, আর প্রভাবশালীদের জন্য আলাদা নিয়ম—এমন ধারণা তৈরি হয়েছে জনমনে।

পরিবেশবিদদের মতে, এইভাবে গজারী বন উজাড় হতে থাকলে এলাকায় বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। গজারী বন শুধু কাঠের উৎস নয়, এটি জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বন ধ্বংস হলে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট হবে, তাপমাত্রা বাড়বে এবং জলবায়ুর ভারসাম্য নষ্ট হবে।

বর্তমানে অবৈধ করাতকল বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা না থাকায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। এলাকাবাসী বলছেন, দ্রুত অভিযান চালিয়ে এই করাতকল বন্ধ না করলে শ্রীপুরের অবশিষ্ট বনও ধ্বংস হয়ে যাবে।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দিতে চাননি। কেউ কেউ তদন্তের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে রহম আলীর অবৈধ করাতকল উচ্ছেদ এবং জড়িত বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আর কোনো বন অবশিষ্ট থাকবে না।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

গাজীপুরে রহম আলীর অবৈধ করাতকল: গজারী বন ধ্বংস

Update Time : ২ ঘন্টা আগে

সাংবাদিক মোঃ শামীম মিয়া গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় প্রকাশ্যে চলছে অবৈধ করাতকলের দৌরাত্ম্য। সংরক্ষিত বন এলাকায় দিনের পর দিন গজারী গাছ কেটে ধ্বংস করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার নীরব সহযোগিতায় এই অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রভাবশালী ব্যক্তি রহম আলী।

শ্রীপুর থানার রাজাবাড়ী এলাকায় ঢাকা বন বিভাগের আওতাধীন সূর্যনারায়ণপুর বিট ও রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জের অধীনে এই অবৈধ করাতকল পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, রহম আলী দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে গজারী গাছ কেটে করাতকলে চিরাই করছেন। এতে দ্রুতগতিতে গজারী বন ধ্বংস হচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ৫ মে রহম আলীর বিরুদ্ধে বন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মামলায় অভিযোগ ছিল, তিনি অবৈধভাবে সংরক্ষিত বন থেকে গাছ কেটে করাতকলে প্রক্রিয়াজাত করছিলেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রায় ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই মামলার কোনো কার্যকর ফল দেখা যায়নি। বরং বর্তমানে তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন ২ থেকে ৩টি ট্রাকে করে বন থেকে গজারী গাছ এনে রহম আলীর করাতকলে চিরাই করা হয়। এই পুরো কার্যক্রম চলে প্রকাশ্যে। অথচ বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, “বন বিভাগের লোকজন এলাকায় টহল দেয়, কিন্তু রহম আলীর করাতকলের দিকে তাকায় না। সবাই জানে কী হচ্ছে, কিন্তু কেউ কিছু বলে না।”

স্থানীয়দের দাবি, নিয়মিত মাসোহারা দিয়েই এই অবৈধ ব্যবসা চালানো হচ্ছে। ফলে আইন যেন শুধু সাধারণ মানুষের জন্য, আর প্রভাবশালীদের জন্য আলাদা নিয়ম—এমন ধারণা তৈরি হয়েছে জনমনে।

পরিবেশবিদদের মতে, এইভাবে গজারী বন উজাড় হতে থাকলে এলাকায় বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। গজারী বন শুধু কাঠের উৎস নয়, এটি জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বন ধ্বংস হলে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট হবে, তাপমাত্রা বাড়বে এবং জলবায়ুর ভারসাম্য নষ্ট হবে।

বর্তমানে অবৈধ করাতকল বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা না থাকায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। এলাকাবাসী বলছেন, দ্রুত অভিযান চালিয়ে এই করাতকল বন্ধ না করলে শ্রীপুরের অবশিষ্ট বনও ধ্বংস হয়ে যাবে।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দিতে চাননি। কেউ কেউ তদন্তের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে রহম আলীর অবৈধ করাতকল উচ্ছেদ এবং জড়িত বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আর কোনো বন অবশিষ্ট থাকবে না।