গাজীপুর , সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
সোনাপুর ইউনিয়ন মেম্বার প্রার্থী ছাব্বির হোসেনের উন্নয়ন ও প্রতিশ্রুতি নওগাঁয় ব্র্যাক প্রাইজ প্রকল্পের কারিগরি প্রশিক্ষণ সনদ বিতরণ ব্র্যাকের প্রশিক্ষণে দুধ উৎপাদন ও গাভী পালনে দক্ষতা বৃদ্ধি ধনবাড়ীতে ৫ বছরে ১২ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত কালিয়াকৈরে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু: নলুয়া এলাকায় হৃদয়বিদারক ঘটনা নাসিরনগরে অটোরিকশা চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চালকের মৃ/ত্যু ঢাকা ডিসি অফিস পিয়ন ফিরোজ: চাঁদাবাজি-জমি দখল তদন্ত শুরু কালিয়াকৈরে প্রিপেইড মিটার সমস্যায় পল্লী বিদ্যুৎ ভোগান্তি চরমে গণরায় বাস্তবায়ন ও চট্টগ্রাম সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমানের কঠোর বার্তা বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশের সিভিল টিমের চমকপ্রদ সাফল্য অর্জন

নরসিংদীতে ভুয়া ভূমি কর্মকর্তা সেজে ২১ লাখ টাকা আত্মসাৎ, পাপন গ্রেফতার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬৪ Time View

নরসিংদীতে ভুয়া ভূমি কর্মকর্তা পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা চালিয়ে আসা পাপন মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত মোঃ পাপন মিয়া (২৬) নিজেকে কখনো ভূমি অফিসের বড় কর্মকর্তা, আবার কখনো এসিল্যান্ড অফিসের প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিতেন।

নরসিংদী মডেল থানার তথ্য অনুযায়ী, গত ২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগী হাসিব হায়দারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চিনিশপুর এলাকার বাসিন্দা হাসিব হায়দারের সঙ্গে পাপনের পরিচয় হয় স্থানীয় ভূমি অফিসে। তখন পাপন সেখানে মাস্টার রোলে কাজ করতেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকায় জমি বিক্রির প্রলোভন দেখান।

পাপন নিজেকে ভুয়া ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীকে আশ্বস্ত করেন যে জমি রেজিস্ট্রিতে কোনো সমস্যা হবে না। এরপর ধাপে ধাপে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা নেওয়া শুরু করেন।

২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে খারিজ বাবদ ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা,

২০ ডিসেম্বর ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা,

২৩ ডিসেম্বর ৫ লাখ টাকা এবং

১১ মার্চ ২০২৬ তারিখে আরও ৫০ হাজার টাকা নেন।

সব মিলিয়ে তিনি মোট ২১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন।

পরবর্তীতে পাপন একটি দলিল তৈরি করে দিলেও, জমির দখল নিতে গেলে প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসে। জানা যায়, একই জমি আগেই অন্য ব্যক্তিদের নামে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি করে দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ সম্পূর্ণ বিষয়টি ছিল পরিকল্পিত জালিয়াতি।

তদন্তে আরও জানা গেছে, পাপন আগে থেকেই পেশাদার প্রতারক হিসেবে পরিচিত। তিনি এর আগেও একই কৌশলে বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এমনকি চাকরির সময়ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। স্থানীয়রা এই ঘটনায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং এমন প্রতারকদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সোনাপুর ইউনিয়ন মেম্বার প্রার্থী ছাব্বির হোসেনের উন্নয়ন ও প্রতিশ্রুতি

নরসিংদীতে ভুয়া ভূমি কর্মকর্তা সেজে ২১ লাখ টাকা আত্মসাৎ, পাপন গ্রেফতার

Update Time : ০১:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

নরসিংদীতে ভুয়া ভূমি কর্মকর্তা পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা চালিয়ে আসা পাপন মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত মোঃ পাপন মিয়া (২৬) নিজেকে কখনো ভূমি অফিসের বড় কর্মকর্তা, আবার কখনো এসিল্যান্ড অফিসের প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিতেন।

নরসিংদী মডেল থানার তথ্য অনুযায়ী, গত ২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগী হাসিব হায়দারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চিনিশপুর এলাকার বাসিন্দা হাসিব হায়দারের সঙ্গে পাপনের পরিচয় হয় স্থানীয় ভূমি অফিসে। তখন পাপন সেখানে মাস্টার রোলে কাজ করতেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকায় জমি বিক্রির প্রলোভন দেখান।

পাপন নিজেকে ভুয়া ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীকে আশ্বস্ত করেন যে জমি রেজিস্ট্রিতে কোনো সমস্যা হবে না। এরপর ধাপে ধাপে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা নেওয়া শুরু করেন।

২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে খারিজ বাবদ ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা,

২০ ডিসেম্বর ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা,

২৩ ডিসেম্বর ৫ লাখ টাকা এবং

১১ মার্চ ২০২৬ তারিখে আরও ৫০ হাজার টাকা নেন।

সব মিলিয়ে তিনি মোট ২১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন।

পরবর্তীতে পাপন একটি দলিল তৈরি করে দিলেও, জমির দখল নিতে গেলে প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসে। জানা যায়, একই জমি আগেই অন্য ব্যক্তিদের নামে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি করে দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ সম্পূর্ণ বিষয়টি ছিল পরিকল্পিত জালিয়াতি।

তদন্তে আরও জানা গেছে, পাপন আগে থেকেই পেশাদার প্রতারক হিসেবে পরিচিত। তিনি এর আগেও একই কৌশলে বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এমনকি চাকরির সময়ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। স্থানীয়রা এই ঘটনায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং এমন প্রতারকদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।