
নিজস্ব প্রতিবেদক | মোঃ মোতালেব হোসেন
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশ দিয়ে চলমান পানি নিষ্কাশন ড্রেন নির্মাণকাজে অনিয়ম, নিম্নমানের নির্মাণ এবং নির্ধারিত মাপ অনুসরণ না করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, যথাযথ প্রকৌশলগত মান ও পরিকল্পনা অনুসরণ না করেই নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে মহাসড়কসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
সম্প্রতি নির্মাণাধীন ড্রেনটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন আসন্ন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী শফিকুল ইসলাম শফিক। পরিদর্শন শেষে তিনি নির্মাণকাজের বিভিন্ন দিক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, “এই ড্রেনটি এলাকার পানি নিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান অবকাঠামো। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ড্রেন নির্মাণে সর্বত্র একই মাপ ও গভীরতা বজায় রাখা হচ্ছে না। কোথাও প্রয়োজনীয় গভীরতা নেই, কোথাও আবার নকশা অনুযায়ী প্রস্থ রাখা হয়নি। এভাবে নির্মাণকাজ শেষ হলে সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হতে পারে এবং পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বেড়ে যাবে।”
তিনি আরও বলেন, “জনগণের করের টাকায় পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো ধরনের অবহেলা বা নিম্নমানের কাজ গ্রহণযোগ্য নয়। উন্নয়নের নামে এমন কাজ করা হলে এর ভোগান্তি সাধারণ মানুষকেই পোহাতে হবে। তাই নির্মাণকাজে গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং সিটি কর্পোরেশনকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
তিনি দাবি করেন, নির্মাণকাজে যদি কোনো অনিয়ম থেকে থাকে, তবে তা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থে কাজের মান নিশ্চিত না হলে তিনি এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আইনসম্মত উপায়ে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাবেন।
পরিদর্শনকালে শফিকুল ইসলাম শফিক আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ১৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সড়ক অবকাঠামো, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবেন। পাশাপাশি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করারও অঙ্গীকার করেন।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে বর্ষাকালে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তাই নতুন ড্রেন নির্মাণেও যদি নির্ধারিত মান ও পরিকল্পনা অনুসরণ না করা হয়, তাহলে জনগণের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। তারা অবিলম্বে নির্মাণকাজের গুণগত মান, নকশা ও পরিমাপ যাচাই করে প্রয়োজনে সংশোধনের দাবি জানান।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জনস্বার্থে সঠিক পরিকল্পনা ও মান বজায় রেখে ড্রেন নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হবে।

Reporter Name 















