গাজীপুর , সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
সোনাপুর ইউনিয়ন মেম্বার প্রার্থী ছাব্বির হোসেনের উন্নয়ন ও প্রতিশ্রুতি নওগাঁয় ব্র্যাক প্রাইজ প্রকল্পের কারিগরি প্রশিক্ষণ সনদ বিতরণ ব্র্যাকের প্রশিক্ষণে দুধ উৎপাদন ও গাভী পালনে দক্ষতা বৃদ্ধি ধনবাড়ীতে ৫ বছরে ১২ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত কালিয়াকৈরে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু: নলুয়া এলাকায় হৃদয়বিদারক ঘটনা নাসিরনগরে অটোরিকশা চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চালকের মৃ/ত্যু ঢাকা ডিসি অফিস পিয়ন ফিরোজ: চাঁদাবাজি-জমি দখল তদন্ত শুরু কালিয়াকৈরে প্রিপেইড মিটার সমস্যায় পল্লী বিদ্যুৎ ভোগান্তি চরমে গণরায় বাস্তবায়ন ও চট্টগ্রাম সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমানের কঠোর বার্তা বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশের সিভিল টিমের চমকপ্রদ সাফল্য অর্জন

বিরামপুর বালি উত্তোলন: কৃষি ক্ষতির ঝুঁকিতে ফসলি জমি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩৬ Time View

দিনাজপুরের বিরামপুরে কাটলা ইউনিয়নের চৌঘরিয়া জিরো পয়েন্ট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিরামপুর বালি উত্তোলন হচ্ছে অবৈধভাবে। স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কর তার নিজস্ব জমির অজুহাতে প্রতিদিন শত শত ট্রাক বালি কেটে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন। এই কার্যক্রম শুধু জমির ওপর নয়, আশপাশের ফসলি জমি এবং পরিবেশের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, দিনে-রাতে চলা বালি উত্তোলনের কারণে তাদের জমি ফাটল ধরছে এবং অনেক অংশ চাষের উপযোগী থাকছে না। ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন কমে যাওয়ায় কৃষকরা বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তারা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি করছেন, দ্রুত এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলেন, অনুমতি ছাড়া জমি থেকে বালি উত্তোলন করলে ভূমির ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। এতে জলাবদ্ধতা, মাটির উর্বরতা হ্রাস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ে।

সরকারি আইন অনুযায়ী, কৃষিজমি থেকে বালি উত্তোলন করা সম্পূর্ণ বেআইনি। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া বালি উত্তোলনের জন্য জরিমানা এবং কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে কিছু ব্যক্তি আইন উপেক্ষা করে অবাধে বালি ব্যবসা চালাচ্ছেন।

এলাকার কৃষকরা এবং সচেতন নাগরিকরা উপজেলা প্রশাসন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ চাচ্ছেন। তারা বলছেন, “আমাদের ফসলি জমি বাঁচাতে অবৈধ বালি উত্তোলন এখনই বন্ধ করতে হবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা উচিত।” প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ছাড়া ভবিষ্যতে পুরো এলাকার কৃষি এবং পরিবেশ বিপন্ন হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সোনাপুর ইউনিয়ন মেম্বার প্রার্থী ছাব্বির হোসেনের উন্নয়ন ও প্রতিশ্রুতি

বিরামপুর বালি উত্তোলন: কৃষি ক্ষতির ঝুঁকিতে ফসলি জমি

Update Time : ০১:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

দিনাজপুরের বিরামপুরে কাটলা ইউনিয়নের চৌঘরিয়া জিরো পয়েন্ট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিরামপুর বালি উত্তোলন হচ্ছে অবৈধভাবে। স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কর তার নিজস্ব জমির অজুহাতে প্রতিদিন শত শত ট্রাক বালি কেটে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন। এই কার্যক্রম শুধু জমির ওপর নয়, আশপাশের ফসলি জমি এবং পরিবেশের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, দিনে-রাতে চলা বালি উত্তোলনের কারণে তাদের জমি ফাটল ধরছে এবং অনেক অংশ চাষের উপযোগী থাকছে না। ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন কমে যাওয়ায় কৃষকরা বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তারা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি করছেন, দ্রুত এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলেন, অনুমতি ছাড়া জমি থেকে বালি উত্তোলন করলে ভূমির ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। এতে জলাবদ্ধতা, মাটির উর্বরতা হ্রাস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ে।

সরকারি আইন অনুযায়ী, কৃষিজমি থেকে বালি উত্তোলন করা সম্পূর্ণ বেআইনি। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া বালি উত্তোলনের জন্য জরিমানা এবং কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে কিছু ব্যক্তি আইন উপেক্ষা করে অবাধে বালি ব্যবসা চালাচ্ছেন।

এলাকার কৃষকরা এবং সচেতন নাগরিকরা উপজেলা প্রশাসন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ চাচ্ছেন। তারা বলছেন, “আমাদের ফসলি জমি বাঁচাতে অবৈধ বালি উত্তোলন এখনই বন্ধ করতে হবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা উচিত।” প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ছাড়া ভবিষ্যতে পুরো এলাকার কৃষি এবং পরিবেশ বিপন্ন হবে।