
জাহাঙ্গীর আলম মানিক (নওগাঁ) প্রতিনিধ
নওগাঁ জেলার সাপাহার সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান রোধে বিজিবি যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, তারই ধারাবাহিকতায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। বিশেষ এই অভিযানে ১০ হাজার পিস ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ১১ মার্চ ২০২৬ তারিখ ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি) এর অধীনস্থ আদাতলা বিওপির একটি টহল দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। টহল কমান্ডার হাবিলদার মো. শাহজাহানের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে সাপাহার উপজেলার জলশুকা গ্রামের ইদগাহ মাঠ সংলগ্ন পাকা সড়কে সন্দেহজনক তল্লাশি চালানো হয়।
অভিযানের একপর্যায়ে রাস্তার পাশে মালিকবিহীন অবস্থায় একটি ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে ব্যাগটি তল্লাশি করে ১০,০০০ পিস ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, চোরাকারবারিরা সীমান্ত পথে মাদক পাচারের উদ্দেশ্যে এসব ট্যাবলেট সেখানে রেখে পালিয়ে যায়। তবে অভিযানের সময় কোনো পাচারকারীকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্য বলে জানিয়েছে বিজিবি। ট্যাপেন্টাডল একটি শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধ হলেও এটি অবৈধভাবে মাদক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই সীমান্ত এলাকা দিয়ে এই ধরনের ওষুধ পাচারের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিজিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক, গরু পাচার ও অন্যান্য চোরাচালান কার্যক্রম রোধে নিয়মিত টহল ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে সম্প্রতি মাদক পাচারের প্রবণতা বাড়ায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম, পিএসসি বলেন, “সাপাহার সীমান্তে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় অবৈধ পারাপার, গরু পাচার, মাদক ব্যবসা ও সব ধরনের চোরাচালান বন্ধ করতে বিজিবি সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।”
তিনি আরও জানান, সীমান্ত এলাকায় স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সন্দেহজনক কোনো কার্যকলাপ দেখলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত জানাতে অনুরোধ করেন।
এদিকে উদ্ধার হওয়া ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার সংক্রান্ত বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নওগাঁ জেলার সাপাহার থানায় জমা দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পরবর্তীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সীমান্ত এলাকায় বিজিবির এই ধরনের অভিযান স্থানীয় জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। এলাকাবাসী মনে করছেন, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে মাদক পাচার অনেকাংশে কমে আসবে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় মাঝে মধ্যেই মাদক, ফেনসিডিল, ইয়াবা ও বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ ওষুধ পাচারের ঘটনা ঘটে। এসব অপরাধ ঠেকাতে বিজিবি নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার বন্ধ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণও প্রয়োজন। এতে করে সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে এবং সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

Reporter Name 









