গাজীপুর , রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
ব্র্যাকের প্রশিক্ষণে দুধ উৎপাদন ও গাভী পালনে দক্ষতা বৃদ্ধি ধনবাড়ীতে ৫ বছরে ১২ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত কালিয়াকৈরে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু: নলুয়া এলাকায় হৃদয়বিদারক ঘটনা নাসিরনগরে অটোরিকশা চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চালকের মৃ/ত্যু ঢাকা ডিসি অফিস পিয়ন ফিরোজ: চাঁদাবাজি-জমি দখল তদন্ত শুরু কালিয়াকৈরে প্রিপেইড মিটার সমস্যায় পল্লী বিদ্যুৎ ভোগান্তি চরমে গণরায় বাস্তবায়ন ও চট্টগ্রাম সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমানের কঠোর বার্তা বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশের সিভিল টিমের চমকপ্রদ সাফল্য অর্জন রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জে বনভূমি দখল অভিযোগে লাল মিয়া বিতর্কে তোলপাড় নরসিংদীতে জুলাই আন্দোলন মামলা: গ্রেফতার দাবি জোরদার

ঢাকা ডিসি অফিস পিয়ন ফিরোজ: চাঁদাবাজি-জমি দখল তদন্ত শুরু

  • Reporter Name
  • Update Time : ১৮ ঘন্টা আগে
  • ৩৯ Time View

মোঃ বেল্লাল হোসাইন নাঈম,স্টাফ রিপোর্টার

ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অফিস সহায়ক (পিয়ন) মো. ফিরোজ, তার দুই ভাই আল আমিন ও আশরাফুল ইসলাম বাবরের বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজি, জমি দখল ও হুমকির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে ইতোমধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভোলা জেলার চরফ্যাশনের আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল কালাম মোল্লা ও হাজি নুর মোহাম্মদ মোল্লা গত ৩ জুন স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে তারা দাবি করেন, ঢাকা ডিসি অফিসের কর্মচারী ফিরোজ, তার ভাই আল আমিন এবং বাবর দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের ওপর প্রভাব খাটিয়ে চাঁদা দাবি, জমি দখলের চেষ্টা এবং হুমকি দিয়ে আসছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, আবুল কালাম মোল্লা দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করায় তার জমির কাগজপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে পরিবর্তন করে দখলের চেষ্টা করা হয়। তিনি দেশে ফিরে নিজের জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে বাধা দেন এবং মামলা দিয়ে হয়রানি করার হুমকি দেন।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, অভিযুক্তরা নিজেদের ঢাকার জেলা প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি এবং প্রশাসনিক প্রভাবশালী পরিচয় দিয়ে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি করেন। এমনকি আবুল কালাম মোল্লাকে কথিতভাবে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, হাজি নুর মোহাম্মদ মোল্লার অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ফিরোজ ও তার ভাইয়েরা এলাকায় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে চাঁদা দাবি করছেন এবং প্রায়ই মামলা-হামলার ভয় দেখাচ্ছেন। তারা নিজদের প্রভাবশালী পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আরও অভিযোগ রয়েছে যে, তারা স্থানীয় মসজিদ ও মাদ্রাসার জমি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে দখলের চেষ্টা করছে। পাশাপাশি হাজি নুর মোহাম্মদ মোল্লার ২৪ শতাংশ জমি দখলের হুমকি দিয়ে তার কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনার কারণে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই ভয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস পাচ্ছেন না।

এদিকে, সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে অভিযোগকারীরা জনপ্রশাসন সচিব, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকের কাছেও লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

আরও জানা যায়, মো. ফিরোজ ভোলার চরফ্যাশনের স্থায়ী বাসিন্দা হলেও ঢাকার ঠিকানা ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চাকরি পাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এই বিষয়ে একজন আইনজীবীর অভিযোগের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছেন ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাজিয়া সুলতানা।

প্রশাসনিক সূত্র বলছে, অভিযোগগুলো সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমানে এলাকাবাসী দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে পারে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ব্র্যাকের প্রশিক্ষণে দুধ উৎপাদন ও গাভী পালনে দক্ষতা বৃদ্ধি

ঢাকা ডিসি অফিস পিয়ন ফিরোজ: চাঁদাবাজি-জমি দখল তদন্ত শুরু

Update Time : ১৮ ঘন্টা আগে

মোঃ বেল্লাল হোসাইন নাঈম,স্টাফ রিপোর্টার

ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অফিস সহায়ক (পিয়ন) মো. ফিরোজ, তার দুই ভাই আল আমিন ও আশরাফুল ইসলাম বাবরের বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজি, জমি দখল ও হুমকির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে ইতোমধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভোলা জেলার চরফ্যাশনের আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল কালাম মোল্লা ও হাজি নুর মোহাম্মদ মোল্লা গত ৩ জুন স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে তারা দাবি করেন, ঢাকা ডিসি অফিসের কর্মচারী ফিরোজ, তার ভাই আল আমিন এবং বাবর দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের ওপর প্রভাব খাটিয়ে চাঁদা দাবি, জমি দখলের চেষ্টা এবং হুমকি দিয়ে আসছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, আবুল কালাম মোল্লা দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করায় তার জমির কাগজপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে পরিবর্তন করে দখলের চেষ্টা করা হয়। তিনি দেশে ফিরে নিজের জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে বাধা দেন এবং মামলা দিয়ে হয়রানি করার হুমকি দেন।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, অভিযুক্তরা নিজেদের ঢাকার জেলা প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি এবং প্রশাসনিক প্রভাবশালী পরিচয় দিয়ে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি করেন। এমনকি আবুল কালাম মোল্লাকে কথিতভাবে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, হাজি নুর মোহাম্মদ মোল্লার অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ফিরোজ ও তার ভাইয়েরা এলাকায় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে চাঁদা দাবি করছেন এবং প্রায়ই মামলা-হামলার ভয় দেখাচ্ছেন। তারা নিজদের প্রভাবশালী পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আরও অভিযোগ রয়েছে যে, তারা স্থানীয় মসজিদ ও মাদ্রাসার জমি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে দখলের চেষ্টা করছে। পাশাপাশি হাজি নুর মোহাম্মদ মোল্লার ২৪ শতাংশ জমি দখলের হুমকি দিয়ে তার কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনার কারণে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই ভয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস পাচ্ছেন না।

এদিকে, সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে অভিযোগকারীরা জনপ্রশাসন সচিব, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকের কাছেও লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

আরও জানা যায়, মো. ফিরোজ ভোলার চরফ্যাশনের স্থায়ী বাসিন্দা হলেও ঢাকার ঠিকানা ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চাকরি পাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এই বিষয়ে একজন আইনজীবীর অভিযোগের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছেন ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাজিয়া সুলতানা।

প্রশাসনিক সূত্র বলছে, অভিযোগগুলো সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমানে এলাকাবাসী দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে পারে।