
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
রাজশাহী নগরীতে সাংবাদিকদের সংগঠন বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতির ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় ইতোমধ্যে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ঘটনাটি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বরেন্দ্র প্রেসক্লাব হামলা ঘটনার পর সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার (৭ মার্চ) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে রাজশাহী নগরীর শিরোইল কাঁচাবাজার এলাকায় অবস্থিত বরেন্দ্র প্রেসক্লাব ভবনে। অভিযোগ রয়েছে, প্রেসক্লাব পরিচালনার নামে চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে একদল সন্ত্রাসী সেখানে প্রবেশ করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে প্রেসক্লাবে হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় প্রধান অভিযুক্ত নুরে ইসলাম মিলন পিস্তল দেখিয়ে প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমকে ভয়ভীতি দেখান। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। সেই সময় সুরুজ আলী নামের এক হামলাকারী ধারালো অস্ত্র দিয়ে রেজাউল করিমকে আঘাত করেন। এতে তাঁর উরুতে গুরুতর জখম হয়। পরে চিকিৎসকেরা তাঁর ক্ষতস্থানে ১৩টি সেলাই দেন।
হামলার সময় প্রেসক্লাবের ভেতরে থাকা সাংবাদিকরা এবং আশপাশের স্থানীয় মানুষ দ্রুত এগিয়ে আসেন। তাদের প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা একটি গাড়ি ফেলে রেখে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পালানোর সময় তারা উপস্থিতদের প্রাণনাশের হুমকিও দেয়।
আহত প্রেসক্লাব সভাপতি রেজাউল করিমকে দ্রুত উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ হামলাকারীদের ফেলে যাওয়া একটি গাড়ি জব্দ করে। গাড়িটির নম্বর কুমিল্লা-চ-৫১-০০২৮।
ঘটনার পর বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখিত আসামিরা হলেন—নুরে ইসলাম মিলন (৪৫), সুরুজ আলী (৩০), সাইদ আলী (৩৮) এবং রেন্টু (৩০)। এছাড়া আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে রাজশাহী কোর্ট এলাকা থেকে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা হলেন—নগরীর টিকাপাড়া এলাকার করিমের ছেলে মিশাল (৩০) এবং বহরমপুর এলাকার মৃত মানিকের ছেলে ইব্রাহিম (৪০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিশালের বিরুদ্ধে আগেও একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে। অন্যদিকে ইব্রাহিম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেপ্তারের সময় উত্তেজিত জনতা ইব্রাহিমকে মারধর করে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মামলার আরেক অভিযুক্ত সাইদ আলী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, রাজশাহীতে সাংবাদিকের ওপর হামলা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে এই ঘটনার পর রাজশাহীর সাংবাদিক সমাজ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
সাংবাদিক নেতারা বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাতের সামিল। তাই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

Reporter Name 









