
এনামুল হক রাশেদী চট্টগ্রাম:
দেশের অর্থনীতি বর্তমানে সংকটময় অবস্থায় আছে। বিনিয়োগ কমেছে, দারিদ্র্য বেড়েছে, কর্মসংস্থান সংকুচিত, এবং দ্রব্যমূল্যের চাপ বেড়ে গেছে। এসময় দেশের পুঁজিবাজার দুর্বল, ব্যাংকিং সিস্টেম ঝুঁকিপূর্ণ, এবং বহু প্রতিষ্ঠান কার্যত ধ্বংসপ্রায়। এই বাস্তবতার মাঝেই নতুন সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন চট্টগ্রামের সন্তান আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এমপি, যা তার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
শপথ গ্রহণের পর গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, “মানুষের প্রত্যাশা অনেক, সেই প্রত্যাশা পূরণ করাই বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা ধীরে ধীরে সমস্যাগুলো সমাধানের পথ দেখাতে চাই। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা এই লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হব।”
আমীর খসরু আরও বলেন, দেশে দীর্ঘদিন পর গণতান্ত্রিক পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সংসদ গঠিত হয়েছে। এই সংসদ জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকবে। বহু বছর ধরে দেশের মানুষের মালিকানা প্রতিষ্ঠা ও স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে সংগ্রাম করার পর, এখন সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছি। জনগণ মুক্তভাবে কথা বলার, চলাফেরা করার এবং অধিকার ভোগ করার সুযোগ পাবে।
নতুন অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে আসায় আশার আলো দেখছেন দেশের পুঁজিবাজারের লাখো বিনিয়োগকারী। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি পুঁজিবাজারের একজন বিশেষজ্ঞ। তার নেতৃত্বে ধসে পড়া পুঁজিবাজার নতুন গতি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করছেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অভিজ্ঞতা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পুঁজিবাজারের জ্ঞান মিলিয়ে আমীর খসরু দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল ও গতি ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যবসাবান্ধব নীতি, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সংরক্ষণে তার অবদান ইতিবাচক হবে।
পটভূমি:
আমীর খসরু ১৯৯১ সালে চট্টগ্রাম-৮ আসনে উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে একাধিকবার নির্বাচিত হয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি রপ্তানি বৃদ্ধি, বেসরকারি খাত সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
চট্টগ্রামের বনেদী পরিবারে জন্ম নেওয়া আমীর খসরু ব্যবসা-বাণিজ্য ও পুঁজিবাজারে অভিজ্ঞ। তার নেতৃত্বে দেশের অর্থনীতি ইতিবাচক ধারায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী।

Reporter Name 









