
মাসুদ রানা বাবুল
দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার-এর সমুদ্রসৈকত দখলমুক্ত রাখতে ট্যুরিস্ট পুলিশের চলমান উচ্ছেদ অভিযান ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। তবে অভিযানের পর একটি স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের জেরে ট্যুরিস্ট পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগকে “ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ, কক্সবাজার রিজিয়ন সূত্র জানায়, অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সৈকতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদার এবং অবৈধ স্থাপনা অপসারণে ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক অভিযানে সৈকতের বিভিন্ন অংশে অবৈধভাবে স্থাপিত দোকান উচ্ছেদ করা হয় এবং দখলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
একটি প্রতিবেদনে ‘পর্যটক সেবার সরঞ্জাম ভাড়া দিয়ে মাসে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য’ শিরোনামে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তোলা হলেও ট্যুরিস্ট পুলিশের দাবি—প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়নি। রিজিয়ন প্রধান বলেন, “যদি কোনো অভিযোগের প্রমাণ থাকে, তা প্রকাশ করা হোক। আমরা তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করব।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের একাংশ বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে সৈকতের কিছু এলাকায় অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ছিল, যা পর্যটন শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছিল। তারা মনে করেন, দখলমুক্ত অভিযান পর্যটন পরিবেশ উন্নত করতে সহায়ক হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশ জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা হবে। আইন বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অভিযোগে মানহানি ও তথ্যপ্রযুক্তি আইন প্রযোজ্য হতে পারে, তাই নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক তদন্ত জরুরি।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও পর্যটক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক মানের নিরাপদ ও দখলমুক্ত সমুদ্রসৈকত গড়ে তুলতে প্রশাসন, গণমাধ্যম ও স্থানীয় সমাজের দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য।

Reporter Name 









