গাজীপুর , শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :

কালিয়াকৈরে জমি বিরোধে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম, বাড়ি ও নগদ লুট

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
  • ২৬ Time View

মোঃ সাইফুল আলম, গাজীপুর প্রতিনিধি:

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের ঠেঙ্গারবান গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক ব্যবসায়ীকে নৃশংস হামলার শিকার হতে হলো। মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে শফিকুল নামে ওই ব্যবসায়ী শনিবার (৭ মার্চ ২০২৬) সকাল ৯টার দিকে পরিকল্পিতভাবে একদল নারী ও পুরুষের দ্বারা তার ডুপ্লেক্স বাড়িতে হামলা চালানোর শিকার হন। হামলাকারীরা তার দুই হাত ও দুই পা ভেঙে দেয়ার পাশাপাশি চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা চালায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শফিকুলের বসতবাড়ির জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। পারিবারিক জমি নিয়ে সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিপক্ষ তার বসতবাড়ি দখলের পরিকল্পনা করে। শনিবার সকালে হামলাকারীরা হঠাৎ বাড়ির কেসি গেটসহ চারটি প্রধান দরজা ভেঙে প্রবেশ করে। প্রবেশ করার পর তারা শফিকুলকে একা পেয়ে ধারালো কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। নৃশংসতার এক পর্যায়ে তার দুই হাত ও দুই পা ভেঙে দেওয়া হয়। চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা চালানোর সময় শফিকুলের স্ত্রী, মা ও বোন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদেরও মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়।

হামলাকারীরা শুধু নৃশংসতা চালিয়েই থেমে থাকে না, তারা অর্থ এবং মূল্যবান জিনিসপত্রও লুট করে। শফিকুল ২১৮ বিঘা জমি ভাড়া নিয়ে বড় মৎস্য প্রকল্প পরিচালনা করতেন। ঘটনার আগের দিনই তিনি বিশাল অঙ্কের মাছ বিক্রি করেছেন। হামলাকারীরা সেই নগদ অর্থ ৩৭ লক্ষ টাকা এবং প্রায় ছয় ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে। পরিবার অভিযোগ করেছে, মূলত বাড়িটি দখলের উদ্দেশ্য নিয়ে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।

গুরুতর আহত শফিকুলকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা তার অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন। এলাকাবাসীও এই নৃশংস ঘটনার পর চরম উত্তেজিত হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর এখন জনসাধারণের নজর কেন্দ্রীভূত হয়েছে। হামলাকারীদের গ্রেফতারের জন্য ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে পরিবার এবং প্রতিবেশীরা অভিযোগ করেছেন, এই ধরনের জমি বিরোধ এবং আর্থিক লুটপাটের ঘটনায় প্রশাসনের কার্যক্রম প্রায়শই ধীরগতি দেখা যায়। তাদের দাবি, দ্রুত এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।

শফিকুলের পরিবার ও প্রতিবেশীরা বলছেন, “এই হামলা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। হামলাকারীরা আমাদের বাড়ি দখল করতে এবং ব্যবসায়ীর নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করতে প্রবেশ করেছে। আমরা চাই এই নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হোক। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করা না হলে এলাকায় আরও উত্তেজনা দেখা দিতে পারে।”

স্থানীয় রাজনৈতিক এবং সামাজিক নেতৃবৃন্দও এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, জমি বিরোধের নাম করে কেউ ব্যক্তির জীবন বিপন্ন করার হক রাখে না। এ ধরনের নৃশংসতা সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতার শিকার হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হামলাকারীদের ধরতে তদন্ত চলছে। ঘটনার সময় বাড়িতে উপস্থিত সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রতিবেশীদের বর্ণনার ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া শফিকুলের পরিবার পুলিশের সঙ্গে বিস্তারিত তথ্য শেয়ার করেছে যাতে দোষীরা দ্রুত শনাক্ত হয়।

এই হামলার ঘটনা এলাকায় নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলেছে। মানুষ প্রশ্ন করছেন, যাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত আইন-শৃঙ্খলা, তারা কেন বড় ধরনের পরিকল্পিত হামলার ঘটনা আটকাতে পারল না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জমি বিরোধ ও আর্থিক লোভ থেকে এমন নৃশংস ঘটনা ঘটতে পারে। তাই প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য।

স্থানীয়রা আরও জানিয়েছেন, হামলার পর থেকে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় জনগণ পুলিশের কার্যক্রমের প্রতি মনোযোগী হলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, এই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

শফিকুলের আহত অবস্থায় হাসপাতালের বেডে থাকা এবং পরিবারের মানসিক চাপ পরিস্থিতিকে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলেছে। তারা অনুরোধ করেছেন, সরকার ও প্রশাসন যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।

কালিয়াকৈর ও আশপাশের এলাকায় এই হামলার ঘটনা সামাজিক এবং অর্থনৈতিক উভয় ক্ষেত্রে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতার শিকার হতে পারেন, এমন আশঙ্কা নিয়ে এখন সকলে সতর্ক।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রশাসন, পুলিশ ও সমাজের সকল পর্যায়ের মানুষের কাছে আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে হত্যাচেষ্টা, লুটপাট এবং নৃশংসতার মতো ঘটনা রোধ করা যায়। দ্রুত বিচার এবং সুষ্ঠু আইন কার্যকর না হলে, এই ধরনের নৃশংস ঘটনা সমাজে আরও ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

পীরগঞ্জে ৩.৫ কোটি টাকায় ১৩ কিমি খাল পুনঃখনন উদ্বোধন

কালিয়াকৈরে জমি বিরোধে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম, বাড়ি ও নগদ লুট

Update Time : ০৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

মোঃ সাইফুল আলম, গাজীপুর প্রতিনিধি:

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের ঠেঙ্গারবান গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক ব্যবসায়ীকে নৃশংস হামলার শিকার হতে হলো। মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে শফিকুল নামে ওই ব্যবসায়ী শনিবার (৭ মার্চ ২০২৬) সকাল ৯টার দিকে পরিকল্পিতভাবে একদল নারী ও পুরুষের দ্বারা তার ডুপ্লেক্স বাড়িতে হামলা চালানোর শিকার হন। হামলাকারীরা তার দুই হাত ও দুই পা ভেঙে দেয়ার পাশাপাশি চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা চালায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শফিকুলের বসতবাড়ির জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। পারিবারিক জমি নিয়ে সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিপক্ষ তার বসতবাড়ি দখলের পরিকল্পনা করে। শনিবার সকালে হামলাকারীরা হঠাৎ বাড়ির কেসি গেটসহ চারটি প্রধান দরজা ভেঙে প্রবেশ করে। প্রবেশ করার পর তারা শফিকুলকে একা পেয়ে ধারালো কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। নৃশংসতার এক পর্যায়ে তার দুই হাত ও দুই পা ভেঙে দেওয়া হয়। চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা চালানোর সময় শফিকুলের স্ত্রী, মা ও বোন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদেরও মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়।

হামলাকারীরা শুধু নৃশংসতা চালিয়েই থেমে থাকে না, তারা অর্থ এবং মূল্যবান জিনিসপত্রও লুট করে। শফিকুল ২১৮ বিঘা জমি ভাড়া নিয়ে বড় মৎস্য প্রকল্প পরিচালনা করতেন। ঘটনার আগের দিনই তিনি বিশাল অঙ্কের মাছ বিক্রি করেছেন। হামলাকারীরা সেই নগদ অর্থ ৩৭ লক্ষ টাকা এবং প্রায় ছয় ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে। পরিবার অভিযোগ করেছে, মূলত বাড়িটি দখলের উদ্দেশ্য নিয়ে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।

গুরুতর আহত শফিকুলকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা তার অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন। এলাকাবাসীও এই নৃশংস ঘটনার পর চরম উত্তেজিত হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর এখন জনসাধারণের নজর কেন্দ্রীভূত হয়েছে। হামলাকারীদের গ্রেফতারের জন্য ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে পরিবার এবং প্রতিবেশীরা অভিযোগ করেছেন, এই ধরনের জমি বিরোধ এবং আর্থিক লুটপাটের ঘটনায় প্রশাসনের কার্যক্রম প্রায়শই ধীরগতি দেখা যায়। তাদের দাবি, দ্রুত এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।

শফিকুলের পরিবার ও প্রতিবেশীরা বলছেন, “এই হামলা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। হামলাকারীরা আমাদের বাড়ি দখল করতে এবং ব্যবসায়ীর নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করতে প্রবেশ করেছে। আমরা চাই এই নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হোক। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করা না হলে এলাকায় আরও উত্তেজনা দেখা দিতে পারে।”

স্থানীয় রাজনৈতিক এবং সামাজিক নেতৃবৃন্দও এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, জমি বিরোধের নাম করে কেউ ব্যক্তির জীবন বিপন্ন করার হক রাখে না। এ ধরনের নৃশংসতা সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতার শিকার হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হামলাকারীদের ধরতে তদন্ত চলছে। ঘটনার সময় বাড়িতে উপস্থিত সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রতিবেশীদের বর্ণনার ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া শফিকুলের পরিবার পুলিশের সঙ্গে বিস্তারিত তথ্য শেয়ার করেছে যাতে দোষীরা দ্রুত শনাক্ত হয়।

এই হামলার ঘটনা এলাকায় নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলেছে। মানুষ প্রশ্ন করছেন, যাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত আইন-শৃঙ্খলা, তারা কেন বড় ধরনের পরিকল্পিত হামলার ঘটনা আটকাতে পারল না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জমি বিরোধ ও আর্থিক লোভ থেকে এমন নৃশংস ঘটনা ঘটতে পারে। তাই প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য।

স্থানীয়রা আরও জানিয়েছেন, হামলার পর থেকে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় জনগণ পুলিশের কার্যক্রমের প্রতি মনোযোগী হলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, এই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

শফিকুলের আহত অবস্থায় হাসপাতালের বেডে থাকা এবং পরিবারের মানসিক চাপ পরিস্থিতিকে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলেছে। তারা অনুরোধ করেছেন, সরকার ও প্রশাসন যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।

কালিয়াকৈর ও আশপাশের এলাকায় এই হামলার ঘটনা সামাজিক এবং অর্থনৈতিক উভয় ক্ষেত্রে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতার শিকার হতে পারেন, এমন আশঙ্কা নিয়ে এখন সকলে সতর্ক।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রশাসন, পুলিশ ও সমাজের সকল পর্যায়ের মানুষের কাছে আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে হত্যাচেষ্টা, লুটপাট এবং নৃশংসতার মতো ঘটনা রোধ করা যায়। দ্রুত বিচার এবং সুষ্ঠু আইন কার্যকর না হলে, এই ধরনের নৃশংস ঘটনা সমাজে আরও ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে।