গাজীপুর , মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
টঙ্গীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ১০,৫০০ ইয়াবা ও ৫৮ লাখ টাকা উদ্ধার ময়মনসিংহে তামাক নিয়ন্ত্রণ টাস্কফোর্স সভা, ধূমপান রোধে কঠোর নির্দেশ গাজীপুর শ্রীপুরের সংরক্ষিত বনে গাজারি গাছ চুরিতে ২ আটক ও অটো জব্দ এভারকেয়ার হাসপাতালে এমপি মতিনের স্ত্রীর খোঁজ নিলেন অধ্যাপক নরসিংদীতে ক্লু-লেস চালক হত্যা: ২৪ ঘণ্টায় রহস্য উদঘাটন, ২ গ্রেফতার দোয়ারাবাজারে কৃষি প্রযুক্তি মেলা ২০২৬ উদ্বোধন, কৃষি উন্নয়নে নতুন দিগন্ত বিদায় সংবর্ধনায় আবেগঘন বিদায় নিলেন প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি নেতার নির্দেশে ৩৮ সরকারি গাছ কাটা অভিযোগ মোঃ জাকির হোসেন সুন্দরবন ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে জনসমর্থনে শীর্ষে সাভারে শ্রমিক ছাঁটাই ও নির্যাতন বন্ধে মানববন্ধন, পুনর্বহালের দাবি

বীরগঞ্জে শিশু উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ অভিযোগ, বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৫ Time View

বীরগঞ্জে শিশু উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ অভিযোগ, বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ

রনজিৎ সরকার রাজ | দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে বাংলাদেশ লুথারেন চার্চ (বিএলসি) পরিচালিত উত্তরবঙ্গ শিশু উন্নয়ন প্রকল্পের প্রায় তিন লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প ব্যবস্থাপক রতন কুমার রায়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়, জাতীয় কম্প্যাশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, বীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, লুথারেন চার্চ কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগকারী কাহারোল উপজেলার ডহচী জয়নন্দহাট এলাকার বাসিন্দা সুর্দশন চন্দ্র রায় জানান, তার ছেলে পঙ্কজ রায় (আইডি নং–০০১২১) বীরগঞ্জ লুথারেন চার্চের অধিভুক্ত লক্ষ্মীপুর বিডি-০২৪৬ উত্তরবঙ্গ শিশু উন্নয়ন প্রকল্পের একজন সুবিধাভোগী শিশু। সেই সুবাদে শিশুদের মাঝে চাল বিতরণ, হাইজিন ও স্কুলিং কার্যক্রমের জন্য গত ২৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকল্প ব্যবস্থাপক রতন কুমার রায় তার কাছ থেকে তিন লাখ টাকা ধার নেন।

সুর্দশন রায় অভিযোগে উল্লেখ করেন, প্রকল্পের ফান্ড সংকটের কথা বলে রতন কুমার রায় একটি ল্যাপটপ কম্পিউটার, ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের ফাঁকা চেক, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ছবি এবং ১০০ টাকার তিনটি স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামা প্রদান করেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও ওই টাকা ফেরত না দিয়ে ‘ফান্ড আসেনি’, ‘অফিসে গ্লোবাল অডিট সমস্যা’সহ নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে আসছেন। বর্তমানে তিনি ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ করে পলাতক রয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রকল্পের এলসিসি কমিটির সভাপতি বিজয় কুমার রায় ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক রতন কুমার রায় একাধিক দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। এ বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে গত ২১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে সভাপতি বিজয় কুমার রায় ল্যাপটপ চুরির মিথ্যা অভিযোগে থানায় জিডি ও মামলা করার হুমকি দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।

এ বিষয়ে বীরগঞ্জ লুথারেন চার্চের চেয়ারম্যান নিলয় রায়ের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও তিনি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, এলসিসি প্রকল্পের সভাপতি ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক স্থানীয় জয়নন্দহাট ও কালোপীর বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাল, তেল, সাবান, ফলমূল, জুতা ও অন্যান্য সামগ্রী বাকিতে ক্রয় করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া স্বল্প মূল্যে পণ্য ক্রয় করে বেশি মূল্যের ভাউচার তৈরি, ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, বিষয়টির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রকল্প ব্যবস্থাপক রতন কুমার রায়ের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Motaleb Hossain

Popular Post

টঙ্গীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ১০,৫০০ ইয়াবা ও ৫৮ লাখ টাকা উদ্ধার

বীরগঞ্জে শিশু উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ অভিযোগ, বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ

Update Time : ১২:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

বীরগঞ্জে শিশু উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ অভিযোগ, বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ

রনজিৎ সরকার রাজ | দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে বাংলাদেশ লুথারেন চার্চ (বিএলসি) পরিচালিত উত্তরবঙ্গ শিশু উন্নয়ন প্রকল্পের প্রায় তিন লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প ব্যবস্থাপক রতন কুমার রায়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়, জাতীয় কম্প্যাশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, বীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, লুথারেন চার্চ কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগকারী কাহারোল উপজেলার ডহচী জয়নন্দহাট এলাকার বাসিন্দা সুর্দশন চন্দ্র রায় জানান, তার ছেলে পঙ্কজ রায় (আইডি নং–০০১২১) বীরগঞ্জ লুথারেন চার্চের অধিভুক্ত লক্ষ্মীপুর বিডি-০২৪৬ উত্তরবঙ্গ শিশু উন্নয়ন প্রকল্পের একজন সুবিধাভোগী শিশু। সেই সুবাদে শিশুদের মাঝে চাল বিতরণ, হাইজিন ও স্কুলিং কার্যক্রমের জন্য গত ২৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকল্প ব্যবস্থাপক রতন কুমার রায় তার কাছ থেকে তিন লাখ টাকা ধার নেন।

সুর্দশন রায় অভিযোগে উল্লেখ করেন, প্রকল্পের ফান্ড সংকটের কথা বলে রতন কুমার রায় একটি ল্যাপটপ কম্পিউটার, ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের ফাঁকা চেক, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ছবি এবং ১০০ টাকার তিনটি স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামা প্রদান করেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও ওই টাকা ফেরত না দিয়ে ‘ফান্ড আসেনি’, ‘অফিসে গ্লোবাল অডিট সমস্যা’সহ নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে আসছেন। বর্তমানে তিনি ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ করে পলাতক রয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রকল্পের এলসিসি কমিটির সভাপতি বিজয় কুমার রায় ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক রতন কুমার রায় একাধিক দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। এ বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে গত ২১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে সভাপতি বিজয় কুমার রায় ল্যাপটপ চুরির মিথ্যা অভিযোগে থানায় জিডি ও মামলা করার হুমকি দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।

এ বিষয়ে বীরগঞ্জ লুথারেন চার্চের চেয়ারম্যান নিলয় রায়ের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও তিনি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, এলসিসি প্রকল্পের সভাপতি ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক স্থানীয় জয়নন্দহাট ও কালোপীর বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাল, তেল, সাবান, ফলমূল, জুতা ও অন্যান্য সামগ্রী বাকিতে ক্রয় করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া স্বল্প মূল্যে পণ্য ক্রয় করে বেশি মূল্যের ভাউচার তৈরি, ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, বিষয়টির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রকল্প ব্যবস্থাপক রতন কুমার রায়ের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।