গাজীপুর , শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
গাইবান্ধায় বালু বিক্রির অভিযোগ, নেতার দাবি ‘মিথ্যা ও অপপ্রচার’ ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন দেলোয়ার হোসেন | মাতৃজগত পরিবারের বার্তা গাজীপুরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা শওকত হোসেন সরকারের গাজীপুর মহানগরবাসীকে ঈদুল ফিতরের আন্তরিক শুভেচ্ছা। গাজীপুর ১৮নং ওয়ার্ড প্রার্থী মনিরুজ্জামানের ঈদ শুভেচ্ছা গাজীপুরবাসীকে ঈদ শুভেচ্ছা ও নিরাপদ যাত্রার আহ্বান চট্টগ্রামে জমজমাট ঈদের কেনাকাটা, টুপি ও নতুন নোটে আগ্রহ ফরিদপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিধন ও ড্রেন-খাল পরিষ্কার অভিযান শুরু পাঁচবিবিতে পুকুরে বিষে মাছ নিধন, চাষির ১০ লাখ টাকার ক্ষতি পীরগঞ্জে আকস্মিক বৃষ্টিতে কৃষকের ফসল নষ্ট, বিপাকে ক্ষুদ্র চাষি
ভোটের হাওয়া
পার্বত্য তিন জেলা পরিষদ নির্বাচন: প্রধানমন্ত্রীর কাছে সমঅধিকার দাবি কালিয়াকৈরে মানবিক নেতা সাইজুদ্দিন আহমেদ কালিয়াকৈর পৌরসভা: দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত উদ্যোগে জসিম উদ্দিন চট্টগ্রামে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মিদের খুঁজছে পুলিশ গাজীপুরে ঝুট ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলা, লুটপাট ও ককটেল সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় নাসরিন রহমান পপি শহরের মতো গ্রাম গড়ার অঙ্গীকার আলা উদ্দিনের শ্রীপুরে মাওনা–উজিলাব সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন নকলায় এমপির সাথে এবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক নেতাদের সাক্ষাৎ চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৪ এপ্রিল

কোনো শুল্ক ছাড়াই বাংলাদেশ থেকে পোশাক নেবে যুক্তরাষ্ট্র

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১১ Time View

অফিস ডেস্ক :

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড (এআরটি)’ স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিকৃত বাংলাদেশি পোশাকের ওপর রেসিপ্রোকল ট্যারিফ বা পাল্টা শুল্ক শূন্য করা হয়েছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ওপর আরোপিত চূড়ান্ত পাল্টা শুল্কের হার এক শতাংশ কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভার্চুয়ালি এই চুক্তিতে স্বাক্ষর হয়। বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান এবং সহকারী মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ।

চুক্তি স্বাক্ষরের মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে। এ উপলক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি বাণিজ্য আলোচক দল বর্তমানে ওয়াশিংটনে অবস্থান করছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার আলোচনায় সামগ্রিক নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের আলোচক দলের ‘অবিশ্বাস্য প্রচেষ্টার’ প্রশংসা করেন। গ্রিয়ার বলেন, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে।

বাংলাদেশের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘এই চুক্তি আমাদের দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে একটি নতুন ঐতিহাসিক স্তরে উন্নীত করেছে। এর ফলে উভয় দেশ একে অপরের বাজারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার পাবে।’

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও বাংলাদেশের প্রধান আলোচক ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘পারস্পরিক শুল্ক হ্রাস বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য বাড়তি সুবিধা সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামাল ব্যবহার করে উৎপাদিত নির্দিষ্ট টেক্সটাইল ও পোশাক পণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা আমাদের পোশাক খাতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।’

চুক্তিটি সোমবার উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন পেয়েছে। উভয় পক্ষ আনুষ্ঠানিক নোটিফিকেশন জারি করলে এটি কার্যকর হবে।

তবে চুক্তির বিস্তারিত শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। কারণ এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিষয়টি গোপন রাখার বাধ্যবাধকতায় সম্মত হয় বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য, গত বছরের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১০০ দেশের ওপর বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন, যেখানে বাংলাদেশের জন্য হার ছিল ৩৭ শতাংশ। পরে তা পর্যায়ক্রমে কমিয়ে প্রথমে ৩৫ শতাংশ, এরপর ২০ শতাংশ এবং সর্বশেষ চূড়ান্ত চুক্তিতে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, এই চুক্তিতে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা, ডিজিটাল বাণিজ্য ও প্রযুক্তি, উৎসবিধি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে গম, সয়াবিন তেল, ভুট্টা, তুলা, উড়োজাহাজ ও এর যন্ত্রাংশ, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)সহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি শুরু করেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গাইবান্ধায় বালু বিক্রির অভিযোগ, নেতার দাবি ‘মিথ্যা ও অপপ্রচার’

কোনো শুল্ক ছাড়াই বাংলাদেশ থেকে পোশাক নেবে যুক্তরাষ্ট্র

Update Time : ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অফিস ডেস্ক :

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড (এআরটি)’ স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিকৃত বাংলাদেশি পোশাকের ওপর রেসিপ্রোকল ট্যারিফ বা পাল্টা শুল্ক শূন্য করা হয়েছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ওপর আরোপিত চূড়ান্ত পাল্টা শুল্কের হার এক শতাংশ কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভার্চুয়ালি এই চুক্তিতে স্বাক্ষর হয়। বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান এবং সহকারী মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ।

চুক্তি স্বাক্ষরের মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে। এ উপলক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি বাণিজ্য আলোচক দল বর্তমানে ওয়াশিংটনে অবস্থান করছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার আলোচনায় সামগ্রিক নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের আলোচক দলের ‘অবিশ্বাস্য প্রচেষ্টার’ প্রশংসা করেন। গ্রিয়ার বলেন, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে।

বাংলাদেশের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘এই চুক্তি আমাদের দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে একটি নতুন ঐতিহাসিক স্তরে উন্নীত করেছে। এর ফলে উভয় দেশ একে অপরের বাজারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার পাবে।’

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও বাংলাদেশের প্রধান আলোচক ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘পারস্পরিক শুল্ক হ্রাস বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য বাড়তি সুবিধা সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামাল ব্যবহার করে উৎপাদিত নির্দিষ্ট টেক্সটাইল ও পোশাক পণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা আমাদের পোশাক খাতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।’

চুক্তিটি সোমবার উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন পেয়েছে। উভয় পক্ষ আনুষ্ঠানিক নোটিফিকেশন জারি করলে এটি কার্যকর হবে।

তবে চুক্তির বিস্তারিত শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। কারণ এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিষয়টি গোপন রাখার বাধ্যবাধকতায় সম্মত হয় বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য, গত বছরের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১০০ দেশের ওপর বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন, যেখানে বাংলাদেশের জন্য হার ছিল ৩৭ শতাংশ। পরে তা পর্যায়ক্রমে কমিয়ে প্রথমে ৩৫ শতাংশ, এরপর ২০ শতাংশ এবং সর্বশেষ চূড়ান্ত চুক্তিতে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, এই চুক্তিতে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা, ডিজিটাল বাণিজ্য ও প্রযুক্তি, উৎসবিধি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে গম, সয়াবিন তেল, ভুট্টা, তুলা, উড়োজাহাজ ও এর যন্ত্রাংশ, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)সহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি শুরু করেছে।