গাজীপুর , বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
রাঙামাটি সদর জোনে বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ-২০২৬ উদ্বোধন আউশকান্দিতে শিক্ষার অগ্রগতি ও গভর্নিং বডি নির্বাচন নিয়ে মতবিনিময় মিরসরাইয়ে বিএনপি নেতা আলীউল কবিরের চেয়ারম্যান মনোনয়ন চাওয়া ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ রিফাত বিন হামিদ রাফি রোবটিক্স ও STEM অলিম্পিয়াডে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌকা বাইচে চ্যাম্পিয়ন ক্ষমতাপুর শাপলা বয়েজ ক্লাব প্রবাসীর জমি দখলের অভিযোগ, বাধা দেওয়ায় হামলার দাবি ধামইরহাট চেয়ারম্যান প্রার্থী রুহুল আমিন হাসপাতালে সুজনের খোঁজ নিলেন নওগাঁ জেলা কমিউনিটি পুলিশিং সমন্বয় আহ্বায়ক কমিটি গঠন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি আমিনুল ইসলামের
ভোটের হাওয়া
সোনাপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সরোয়ার হোসেনের দোয়া-সমর্থন বাটাজোড়ের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী আনোয়ারা বেগম পত্নীতলায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশাল আনন্দ র‍্যালি গাইবান্ধায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আনন্দ র‍্যালি পাঁচুপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নির্বাচন: গণসংযোগে ব্যস্ত নিয়ামত আলী বাবু দোয়ারাবাজারে রেজাউল করিমকে ঘিরে বাড়ছে জনআলোচনা সোনাপুরে মানবিক কর্মকাণ্ডে জনসমর্থন পাচ্ছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী ছারোয়ার সরিকল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম মৃধাকে ঘিরে আলোচনা ২৩ জুনকে ঘিরে সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেন আহমদ শফিক শুভ বাসন থানায় পুলিশের জালে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা লিটন মন্ডল

কোনো শুল্ক ছাড়াই বাংলাদেশ থেকে পোশাক নেবে যুক্তরাষ্ট্র

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩৮ Time View

অফিস ডেস্ক :

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড (এআরটি)’ স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিকৃত বাংলাদেশি পোশাকের ওপর রেসিপ্রোকল ট্যারিফ বা পাল্টা শুল্ক শূন্য করা হয়েছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ওপর আরোপিত চূড়ান্ত পাল্টা শুল্কের হার এক শতাংশ কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভার্চুয়ালি এই চুক্তিতে স্বাক্ষর হয়। বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান এবং সহকারী মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ।

চুক্তি স্বাক্ষরের মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে। এ উপলক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি বাণিজ্য আলোচক দল বর্তমানে ওয়াশিংটনে অবস্থান করছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার আলোচনায় সামগ্রিক নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের আলোচক দলের ‘অবিশ্বাস্য প্রচেষ্টার’ প্রশংসা করেন। গ্রিয়ার বলেন, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে।

বাংলাদেশের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘এই চুক্তি আমাদের দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে একটি নতুন ঐতিহাসিক স্তরে উন্নীত করেছে। এর ফলে উভয় দেশ একে অপরের বাজারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার পাবে।’

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও বাংলাদেশের প্রধান আলোচক ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘পারস্পরিক শুল্ক হ্রাস বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য বাড়তি সুবিধা সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামাল ব্যবহার করে উৎপাদিত নির্দিষ্ট টেক্সটাইল ও পোশাক পণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা আমাদের পোশাক খাতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।’

চুক্তিটি সোমবার উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন পেয়েছে। উভয় পক্ষ আনুষ্ঠানিক নোটিফিকেশন জারি করলে এটি কার্যকর হবে।

তবে চুক্তির বিস্তারিত শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। কারণ এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিষয়টি গোপন রাখার বাধ্যবাধকতায় সম্মত হয় বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য, গত বছরের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১০০ দেশের ওপর বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন, যেখানে বাংলাদেশের জন্য হার ছিল ৩৭ শতাংশ। পরে তা পর্যায়ক্রমে কমিয়ে প্রথমে ৩৫ শতাংশ, এরপর ২০ শতাংশ এবং সর্বশেষ চূড়ান্ত চুক্তিতে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, এই চুক্তিতে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা, ডিজিটাল বাণিজ্য ও প্রযুক্তি, উৎসবিধি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে গম, সয়াবিন তেল, ভুট্টা, তুলা, উড়োজাহাজ ও এর যন্ত্রাংশ, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)সহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি শুরু করেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

রাঙামাটি সদর জোনে বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ-২০২৬ উদ্বোধন

কোনো শুল্ক ছাড়াই বাংলাদেশ থেকে পোশাক নেবে যুক্তরাষ্ট্র

Update Time : ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অফিস ডেস্ক :

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড (এআরটি)’ স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিকৃত বাংলাদেশি পোশাকের ওপর রেসিপ্রোকল ট্যারিফ বা পাল্টা শুল্ক শূন্য করা হয়েছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ওপর আরোপিত চূড়ান্ত পাল্টা শুল্কের হার এক শতাংশ কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভার্চুয়ালি এই চুক্তিতে স্বাক্ষর হয়। বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান এবং সহকারী মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ।

চুক্তি স্বাক্ষরের মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে। এ উপলক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি বাণিজ্য আলোচক দল বর্তমানে ওয়াশিংটনে অবস্থান করছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার আলোচনায় সামগ্রিক নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের আলোচক দলের ‘অবিশ্বাস্য প্রচেষ্টার’ প্রশংসা করেন। গ্রিয়ার বলেন, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে।

বাংলাদেশের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘এই চুক্তি আমাদের দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে একটি নতুন ঐতিহাসিক স্তরে উন্নীত করেছে। এর ফলে উভয় দেশ একে অপরের বাজারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার পাবে।’

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও বাংলাদেশের প্রধান আলোচক ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘পারস্পরিক শুল্ক হ্রাস বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য বাড়তি সুবিধা সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামাল ব্যবহার করে উৎপাদিত নির্দিষ্ট টেক্সটাইল ও পোশাক পণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা আমাদের পোশাক খাতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।’

চুক্তিটি সোমবার উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন পেয়েছে। উভয় পক্ষ আনুষ্ঠানিক নোটিফিকেশন জারি করলে এটি কার্যকর হবে।

তবে চুক্তির বিস্তারিত শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। কারণ এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিষয়টি গোপন রাখার বাধ্যবাধকতায় সম্মত হয় বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য, গত বছরের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১০০ দেশের ওপর বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন, যেখানে বাংলাদেশের জন্য হার ছিল ৩৭ শতাংশ। পরে তা পর্যায়ক্রমে কমিয়ে প্রথমে ৩৫ শতাংশ, এরপর ২০ শতাংশ এবং সর্বশেষ চূড়ান্ত চুক্তিতে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, এই চুক্তিতে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা, ডিজিটাল বাণিজ্য ও প্রযুক্তি, উৎসবিধি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে গম, সয়াবিন তেল, ভুট্টা, তুলা, উড়োজাহাজ ও এর যন্ত্রাংশ, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)সহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি শুরু করেছে।