গাজীপুর , রবিবার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
হারাগাছে নগ্ন ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার রাইখালীতে পাহাড় কেটে বালু উত্তোলন, বাড়ছে পরিবেশ ধ্বংসের ঝুঁকি সাংবাদিক ও শিক্ষানবিশআইনজীবী সাদিক হোসেন এপলু গাজীপুরে সাংবাদিকের ওপর হামলা, মোবাইল ছিনতাইচেষ্টার অভিযোগ বাসন থানার অভিযানে ইয়াবাসহ ছয় আসামি গ্রেপ্তার, আদালতে প্রেরণ কালিয়াকৈরে পিচ্চি আকাশ গ্রেপ্তার, ১৮ মামলার আসামির অস্ত্র উদ্ধার নাসিরনগরে জাল টাকা উদ্ধার: ১২টি নোটসহ একজন গ্রেপ্তার মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান হলেন চট্টগ্রাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতে ২৪৫ কোটি টাকার প্রস্তাব গাজীপুরে ড্রেন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, দ্রুত ব্যবস্থা চাইলেন এলাকাবাসী
ভোটের হাওয়া
দোয়ারাবাজারে রেজাউল করিমকে ঘিরে বাড়ছে জনআলোচনা সোনাপুরে মানবিক কর্মকাণ্ডে জনসমর্থন পাচ্ছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী ছারোয়ার সরিকল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম মৃধাকে ঘিরে আলোচনা ২৩ জুনকে ঘিরে সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেন আহমদ শফিক শুভ বাসন থানায় পুলিশের জালে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা লিটন মন্ডল মান্দা যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল: অপপ্রচার ও অশিষ্ট রাজনীতির প্রতিবাদ গাজীপুরে তারেক জিয়া পরিষদের ৪১ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা নাসিরনগরে ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল শোডাউন, থানায় মামলা দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর নতুন সিদ্ধান্তে তরিকুল ইসলাম সজিব নেত্রকোণা ছাত্রদল কমিটিতে সহ-সভাপতি হলেন গোলাম কিবরিয়া

কোনো শুল্ক ছাড়াই বাংলাদেশ থেকে পোশাক নেবে যুক্তরাষ্ট্র

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩২ Time View

অফিস ডেস্ক :

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড (এআরটি)’ স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিকৃত বাংলাদেশি পোশাকের ওপর রেসিপ্রোকল ট্যারিফ বা পাল্টা শুল্ক শূন্য করা হয়েছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ওপর আরোপিত চূড়ান্ত পাল্টা শুল্কের হার এক শতাংশ কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভার্চুয়ালি এই চুক্তিতে স্বাক্ষর হয়। বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান এবং সহকারী মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ।

চুক্তি স্বাক্ষরের মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে। এ উপলক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি বাণিজ্য আলোচক দল বর্তমানে ওয়াশিংটনে অবস্থান করছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার আলোচনায় সামগ্রিক নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের আলোচক দলের ‘অবিশ্বাস্য প্রচেষ্টার’ প্রশংসা করেন। গ্রিয়ার বলেন, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে।

বাংলাদেশের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘এই চুক্তি আমাদের দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে একটি নতুন ঐতিহাসিক স্তরে উন্নীত করেছে। এর ফলে উভয় দেশ একে অপরের বাজারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার পাবে।’

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও বাংলাদেশের প্রধান আলোচক ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘পারস্পরিক শুল্ক হ্রাস বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য বাড়তি সুবিধা সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামাল ব্যবহার করে উৎপাদিত নির্দিষ্ট টেক্সটাইল ও পোশাক পণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা আমাদের পোশাক খাতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।’

চুক্তিটি সোমবার উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন পেয়েছে। উভয় পক্ষ আনুষ্ঠানিক নোটিফিকেশন জারি করলে এটি কার্যকর হবে।

তবে চুক্তির বিস্তারিত শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। কারণ এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিষয়টি গোপন রাখার বাধ্যবাধকতায় সম্মত হয় বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য, গত বছরের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১০০ দেশের ওপর বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন, যেখানে বাংলাদেশের জন্য হার ছিল ৩৭ শতাংশ। পরে তা পর্যায়ক্রমে কমিয়ে প্রথমে ৩৫ শতাংশ, এরপর ২০ শতাংশ এবং সর্বশেষ চূড়ান্ত চুক্তিতে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, এই চুক্তিতে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা, ডিজিটাল বাণিজ্য ও প্রযুক্তি, উৎসবিধি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে গম, সয়াবিন তেল, ভুট্টা, তুলা, উড়োজাহাজ ও এর যন্ত্রাংশ, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)সহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি শুরু করেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

হারাগাছে নগ্ন ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

কোনো শুল্ক ছাড়াই বাংলাদেশ থেকে পোশাক নেবে যুক্তরাষ্ট্র

Update Time : ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অফিস ডেস্ক :

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড (এআরটি)’ স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিকৃত বাংলাদেশি পোশাকের ওপর রেসিপ্রোকল ট্যারিফ বা পাল্টা শুল্ক শূন্য করা হয়েছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ওপর আরোপিত চূড়ান্ত পাল্টা শুল্কের হার এক শতাংশ কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভার্চুয়ালি এই চুক্তিতে স্বাক্ষর হয়। বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান এবং সহকারী মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ।

চুক্তি স্বাক্ষরের মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে। এ উপলক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি বাণিজ্য আলোচক দল বর্তমানে ওয়াশিংটনে অবস্থান করছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার আলোচনায় সামগ্রিক নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের আলোচক দলের ‘অবিশ্বাস্য প্রচেষ্টার’ প্রশংসা করেন। গ্রিয়ার বলেন, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে।

বাংলাদেশের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘এই চুক্তি আমাদের দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে একটি নতুন ঐতিহাসিক স্তরে উন্নীত করেছে। এর ফলে উভয় দেশ একে অপরের বাজারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার পাবে।’

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও বাংলাদেশের প্রধান আলোচক ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘পারস্পরিক শুল্ক হ্রাস বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য বাড়তি সুবিধা সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামাল ব্যবহার করে উৎপাদিত নির্দিষ্ট টেক্সটাইল ও পোশাক পণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা আমাদের পোশাক খাতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।’

চুক্তিটি সোমবার উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন পেয়েছে। উভয় পক্ষ আনুষ্ঠানিক নোটিফিকেশন জারি করলে এটি কার্যকর হবে।

তবে চুক্তির বিস্তারিত শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। কারণ এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিষয়টি গোপন রাখার বাধ্যবাধকতায় সম্মত হয় বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য, গত বছরের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১০০ দেশের ওপর বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন, যেখানে বাংলাদেশের জন্য হার ছিল ৩৭ শতাংশ। পরে তা পর্যায়ক্রমে কমিয়ে প্রথমে ৩৫ শতাংশ, এরপর ২০ শতাংশ এবং সর্বশেষ চূড়ান্ত চুক্তিতে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, এই চুক্তিতে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা, ডিজিটাল বাণিজ্য ও প্রযুক্তি, উৎসবিধি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে গম, সয়াবিন তেল, ভুট্টা, তুলা, উড়োজাহাজ ও এর যন্ত্রাংশ, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)সহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি শুরু করেছে।