গাজীপুর , শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
নেত্রকোনা এসপির উদ্যোগে ১৫ দিনে হারানো মোবাইল উদ্ধার। গৌরনদী ইউএনও ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচার অভিযোগ রাঙ্গামাটিতে বিশেষ অভিযানে ৪ মাদকসেবী গ্রেফতার গাজীপুর কোনাবাড়িতে ব্যবসায়ী অপহরণ, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার কালীগঞ্জে মোবাইল কোর্ট: ইভটিজিংয়ে জেল, মাটি কাটায় জরিমানা নিয়ামতপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ৮০০ ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার রাঙামাটিতে জিরো টলারেন্সে ইয়াবাসহ আটক ১ শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা সভা মিরপুরে অনুষ্ঠিত ধনবাড়ীতে সাংবাদিকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি আদমদিঘী শ্রমিক ইউনিয়নে আলিফ মাহমুদের দায়িত্ব গ্রহণ

কক্সবাজার সৈকতে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হবে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
  • ৯৫ Time View

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে যে কোনো ধরনের অবৈধ স্থাপনা এক সপ্তাহের মধ্যে উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্রকে রোহিঙ্গা বস্তির মতো গড়ে ওঠতে দেওয়া হবে না বলে উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন, সৈকতের পরিবেশ, সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলা রক্ষায় অবৈধ স্থাপনাগুলি দ্রুত অপসারণ করা হবে।

সোমবার (৯ মার্চ) কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে সমুদ্রসৈকতে অবৈধ দোকান, অস্থায়ী স্থাপনা ও অননুমোদিত কাঠামো দ্রুত অপসারণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, কক্সবাজার আমাদের দেশের গর্ব এবং এটিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সৈকতের পরিবেশ ও সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।

দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন অংশে অবৈধ দোকান, অস্থায়ী খাবারের স্টল, চেয়ার-ছাতা ভাড়া দেওয়ার নামে অনিয়ন্ত্রিত ব্যবসা, বালুচরে স্থায়ী কাঠামো নির্মাণ এবং পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এসব স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এর ফলে সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে এবং পর্যটকদের ভোগান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সৈকতের ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে একটি নতুন বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কমিটি সৈকতের শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা এবং পর্যটন ব্যবস্থাপনা তদারকি করবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের অংশ হিসেবে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান। এতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও তদন্ত কার্যক্রম সহজ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কক্সবাজার সফরে এ পদক্ষেপ নেন। তিনি রোববার (৮ মার্চ) বিকালে দুদিনের সফরে নিজ নির্বাচনী জেলা কক্সবাজারে আসেন। এছাড়া, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে জঙ্গলের অভয়ারণ্য এলাকায় চার হাজার পুলিশ, র‍্যাব, এপিবিএন, বিজিবি ও সেনাবাহিনী সদস্যদের নিয়ে স্মরনকালের বৃহত্তম সাঁড়াষী অভিযান শুরু হয়েছে, যা এখনো চলমান। এই অভিযানে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয় লক্ষ্য করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ কক্সবাজার সৈকতের পর্যটন মান বৃদ্ধি ও পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও সুসংগঠিত পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কক্সবাজার সৈকত এখন থেকে নিয়ম ও শৃঙ্খলার মধ্যে পরিচালিত হবে, যা দেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে সহায়ক হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

নেত্রকোনা এসপির উদ্যোগে ১৫ দিনে হারানো মোবাইল উদ্ধার।

কক্সবাজার সৈকতে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হবে

Update Time : ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে যে কোনো ধরনের অবৈধ স্থাপনা এক সপ্তাহের মধ্যে উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্রকে রোহিঙ্গা বস্তির মতো গড়ে ওঠতে দেওয়া হবে না বলে উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন, সৈকতের পরিবেশ, সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলা রক্ষায় অবৈধ স্থাপনাগুলি দ্রুত অপসারণ করা হবে।

সোমবার (৯ মার্চ) কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে সমুদ্রসৈকতে অবৈধ দোকান, অস্থায়ী স্থাপনা ও অননুমোদিত কাঠামো দ্রুত অপসারণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, কক্সবাজার আমাদের দেশের গর্ব এবং এটিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সৈকতের পরিবেশ ও সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।

দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন অংশে অবৈধ দোকান, অস্থায়ী খাবারের স্টল, চেয়ার-ছাতা ভাড়া দেওয়ার নামে অনিয়ন্ত্রিত ব্যবসা, বালুচরে স্থায়ী কাঠামো নির্মাণ এবং পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এসব স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এর ফলে সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে এবং পর্যটকদের ভোগান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সৈকতের ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে একটি নতুন বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কমিটি সৈকতের শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা এবং পর্যটন ব্যবস্থাপনা তদারকি করবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের অংশ হিসেবে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান। এতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও তদন্ত কার্যক্রম সহজ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কক্সবাজার সফরে এ পদক্ষেপ নেন। তিনি রোববার (৮ মার্চ) বিকালে দুদিনের সফরে নিজ নির্বাচনী জেলা কক্সবাজারে আসেন। এছাড়া, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে জঙ্গলের অভয়ারণ্য এলাকায় চার হাজার পুলিশ, র‍্যাব, এপিবিএন, বিজিবি ও সেনাবাহিনী সদস্যদের নিয়ে স্মরনকালের বৃহত্তম সাঁড়াষী অভিযান শুরু হয়েছে, যা এখনো চলমান। এই অভিযানে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয় লক্ষ্য করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ কক্সবাজার সৈকতের পর্যটন মান বৃদ্ধি ও পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও সুসংগঠিত পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কক্সবাজার সৈকত এখন থেকে নিয়ম ও শৃঙ্খলার মধ্যে পরিচালিত হবে, যা দেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে সহায়ক হবে।