গাজীপুর , শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
নেত্রকোনা এসপির উদ্যোগে ১৫ দিনে হারানো মোবাইল উদ্ধার। গৌরনদী ইউএনও ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচার অভিযোগ রাঙ্গামাটিতে বিশেষ অভিযানে ৪ মাদকসেবী গ্রেফতার গাজীপুর কোনাবাড়িতে ব্যবসায়ী অপহরণ, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার কালীগঞ্জে মোবাইল কোর্ট: ইভটিজিংয়ে জেল, মাটি কাটায় জরিমানা নিয়ামতপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ৮০০ ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার রাঙামাটিতে জিরো টলারেন্সে ইয়াবাসহ আটক ১ শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা সভা মিরপুরে অনুষ্ঠিত ধনবাড়ীতে সাংবাদিকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি আদমদিঘী শ্রমিক ইউনিয়নে আলিফ মাহমুদের দায়িত্ব গ্রহণ

আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে সরকারি প্রকল্পের কাজ চলার অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৭ Time View

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় আদালতের স্পষ্ট রায় উপেক্ষা করে সরকারি প্রকল্পের কাজ অব্যাহত রাখার অভিযোগ উঠেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে। এতে চরম ভোগান্তি ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন আদালতে বিজয়ী এক নারী ভূমি মালিক।

রোববার (আজ) সকাল ১১টায় মিরসরাইয়ের একটি রুফটপ রেস্টুরেন্টে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শাহেদা বেগমের পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ হোসেন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

ভুক্তভোগী মোসাম্মদ শাহেদা বেগম (স্বামী: নুরুল ইসলাম) মিরসরাই পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম মিরসরাই এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘ ১৩ বছর আইনি লড়াই শেষে তার মালিকানাধীন জমির পক্ষে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল, চট্টগ্রাম থেকে রায় লাভ করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, মিরসরাই উপজেলার সামনে অবস্থিত—

আরএস ৩৩১৯ খতিয়ানের আরএস ১৫৫৪৮ দাগের ৬৩ শতক জমির মধ্যে ২০ শতক এবং

আরএস ৫৮০৯ খতিয়ানের আরএস ১৫৫৪৬ দাগের ৯১ শতক জমির মধ্যে ৩০ শতক

হেবানামা সূত্রে শাহেদা বেগমের মালিকানাধীন।

উক্ত জমি সংক্রান্ত বিরোধে তিনি ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল আদালতে এলএসটি মামলা নং–১২৮৩/২০২৪ দায়ের করেন। গত ২৭ মে ২০২৫ তারিখে বিজ্ঞ আদালত আদেশ নং–২০ এর মাধ্যমে বাদীর পক্ষে রায় প্রদান করেন।

রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির বিএস ৮ নম্বর খতিয়ান সরকার (বিবাদী) পক্ষের নামে লিপিবদ্ধ হওয়া ভুল ও ভিত্তিহীন। একই সঙ্গে আদালত ওই ভুল লিপি বাতিল করে বাদীর অনুকূলে খতিয়ান সংশোধনের নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের রায়ের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি), তহসিলদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হয়।

তবে অভিযোগ রয়েছে, আদালতের রায় কার্যকর না করে এখনো ওই জমিতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে শাহেদা বেগম বলেন,

“দীর্ঘ ১৩ বছর মামলা পরিচালনার পর আদালত থেকে ন্যায়বিচার পেয়েছি। কিন্তু রায় পাওয়ার পরও যদি তা মানা না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের আইনের ওপর আস্থা কোথায় থাকবে?”

তিনি আরও বলেন,

“আমি আদালতের রায় হাতে নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শেষ ভরসা হিসেবে গণমাধ্যমের দ্বারস্থ হয়েছি।”

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, মিরসরাই উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলাউদ্দিন কাদের সাংবাদিকদের জানান,

“বিএস খতিয়ান সংক্রান্ত বিষয়ে মামলা হয়েছে এবং আদালতের রায় বাদীর পক্ষে এসেছে। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে পুনরায় আপিল করা হয়েছে। স্থাপনা নির্মাণের কাজ বর্তমানে চলমান আছে কিনা, সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই।”

আইন ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্টদের মতে, আদালতের রায় অমান্য করে সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করা আইনের শাসনের পরিপন্থী। তারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Motaleb Hossain

Popular Post

নেত্রকোনা এসপির উদ্যোগে ১৫ দিনে হারানো মোবাইল উদ্ধার।

আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে সরকারি প্রকল্পের কাজ চলার অভিযোগ

Update Time : ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় আদালতের স্পষ্ট রায় উপেক্ষা করে সরকারি প্রকল্পের কাজ অব্যাহত রাখার অভিযোগ উঠেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে। এতে চরম ভোগান্তি ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন আদালতে বিজয়ী এক নারী ভূমি মালিক।

রোববার (আজ) সকাল ১১টায় মিরসরাইয়ের একটি রুফটপ রেস্টুরেন্টে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শাহেদা বেগমের পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ হোসেন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

ভুক্তভোগী মোসাম্মদ শাহেদা বেগম (স্বামী: নুরুল ইসলাম) মিরসরাই পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম মিরসরাই এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘ ১৩ বছর আইনি লড়াই শেষে তার মালিকানাধীন জমির পক্ষে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল, চট্টগ্রাম থেকে রায় লাভ করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, মিরসরাই উপজেলার সামনে অবস্থিত—

আরএস ৩৩১৯ খতিয়ানের আরএস ১৫৫৪৮ দাগের ৬৩ শতক জমির মধ্যে ২০ শতক এবং

আরএস ৫৮০৯ খতিয়ানের আরএস ১৫৫৪৬ দাগের ৯১ শতক জমির মধ্যে ৩০ শতক

হেবানামা সূত্রে শাহেদা বেগমের মালিকানাধীন।

উক্ত জমি সংক্রান্ত বিরোধে তিনি ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল আদালতে এলএসটি মামলা নং–১২৮৩/২০২৪ দায়ের করেন। গত ২৭ মে ২০২৫ তারিখে বিজ্ঞ আদালত আদেশ নং–২০ এর মাধ্যমে বাদীর পক্ষে রায় প্রদান করেন।

রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির বিএস ৮ নম্বর খতিয়ান সরকার (বিবাদী) পক্ষের নামে লিপিবদ্ধ হওয়া ভুল ও ভিত্তিহীন। একই সঙ্গে আদালত ওই ভুল লিপি বাতিল করে বাদীর অনুকূলে খতিয়ান সংশোধনের নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের রায়ের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি), তহসিলদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হয়।

তবে অভিযোগ রয়েছে, আদালতের রায় কার্যকর না করে এখনো ওই জমিতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে শাহেদা বেগম বলেন,

“দীর্ঘ ১৩ বছর মামলা পরিচালনার পর আদালত থেকে ন্যায়বিচার পেয়েছি। কিন্তু রায় পাওয়ার পরও যদি তা মানা না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের আইনের ওপর আস্থা কোথায় থাকবে?”

তিনি আরও বলেন,

“আমি আদালতের রায় হাতে নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শেষ ভরসা হিসেবে গণমাধ্যমের দ্বারস্থ হয়েছি।”

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, মিরসরাই উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলাউদ্দিন কাদের সাংবাদিকদের জানান,

“বিএস খতিয়ান সংক্রান্ত বিষয়ে মামলা হয়েছে এবং আদালতের রায় বাদীর পক্ষে এসেছে। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে পুনরায় আপিল করা হয়েছে। স্থাপনা নির্মাণের কাজ বর্তমানে চলমান আছে কিনা, সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই।”

আইন ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্টদের মতে, আদালতের রায় অমান্য করে সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করা আইনের শাসনের পরিপন্থী। তারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান।