গাজীপুর , সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
ভোটের হাওয়া
পার্বত্য তিন জেলা পরিষদ নির্বাচন: প্রধানমন্ত্রীর কাছে সমঅধিকার দাবি কালিয়াকৈরে মানবিক নেতা সাইজুদ্দিন আহমেদ কালিয়াকৈর পৌরসভা: দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত উদ্যোগে জসিম উদ্দিন চট্টগ্রামে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মিদের খুঁজছে পুলিশ গাজীপুরে ঝুট ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলা, লুটপাট ও ককটেল সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় নাসরিন রহমান পপি শহরের মতো গ্রাম গড়ার অঙ্গীকার আলা উদ্দিনের শ্রীপুরে মাওনা–উজিলাব সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন নকলায় এমপির সাথে এবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক নেতাদের সাক্ষাৎ চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৪ এপ্রিল

আইন অমান্য করে কারখানা চালু, পরিবেশ অধিদপ্তরের নীরবতা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৫ Time View

মাসুদ রানা বাবুল:

নরসিংদী জেলার বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) ছাড়াই ডাইং ও টেক্সটাইল কারখানার কার্যক্রম অব্যাহত থাকার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে এসব কারখানা থেকে অপরিশোধিত রাসায়নিক বর্জ্য সরাসরি নদী-খাল ও জলাশয়ে ফেলা হচ্ছে, যার ফলে জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাধবদী, শেখেরচর, পাঁচদোনা ও ঘোড়াশাল এলাকার একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান কার্যকর ইটিপি স্থাপন না করে কিংবা স্থাপন করেও সচল না রেখে উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে শীতলক্ষ্যা নদী, মেঘনা নদী ও ব্রহ্মপুত্র নদ-সহ আশপাশের জলাধার দূষিত হয়ে পড়ছে।

স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদীর পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় মৎস্যসম্পদ ধ্বংস হচ্ছে, ফসলি জমির উর্বরতা কমছে এবং পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। সম্প্রতি শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণের কারণে এক খামারির কোটি টাকার মাছ মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।

পরিবেশ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনে প্রতিটি ডাইং ও টেক্সটাইল কারখানায় কার্যকর ইটিপি স্থাপন ও সার্বক্ষণিক চালু রাখা বাধ্যতামূলক। আইন অমান্য করলে জরিমানা, কারখানা সিলগালা এবং পুনরাবৃত্তিতে কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রভাবশালী মালিকের ছত্রচ্ছায়ায় এসব অনিয়ম অব্যাহত থাকায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

এ বিষয়ে সচেতন মহল বলছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে পরিবেশ অধিদপ্তরের নজরদারি জোরদার না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

তাদের দাবি—নিয়মিত মনিটরিং, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং পরিবেশ আইন লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

আইন অমান্য করে কারখানা চালু, পরিবেশ অধিদপ্তরের নীরবতা

Update Time : ০৪:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মাসুদ রানা বাবুল:

নরসিংদী জেলার বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) ছাড়াই ডাইং ও টেক্সটাইল কারখানার কার্যক্রম অব্যাহত থাকার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে এসব কারখানা থেকে অপরিশোধিত রাসায়নিক বর্জ্য সরাসরি নদী-খাল ও জলাশয়ে ফেলা হচ্ছে, যার ফলে জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাধবদী, শেখেরচর, পাঁচদোনা ও ঘোড়াশাল এলাকার একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান কার্যকর ইটিপি স্থাপন না করে কিংবা স্থাপন করেও সচল না রেখে উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে শীতলক্ষ্যা নদী, মেঘনা নদী ও ব্রহ্মপুত্র নদ-সহ আশপাশের জলাধার দূষিত হয়ে পড়ছে।

স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদীর পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় মৎস্যসম্পদ ধ্বংস হচ্ছে, ফসলি জমির উর্বরতা কমছে এবং পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। সম্প্রতি শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণের কারণে এক খামারির কোটি টাকার মাছ মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।

পরিবেশ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনে প্রতিটি ডাইং ও টেক্সটাইল কারখানায় কার্যকর ইটিপি স্থাপন ও সার্বক্ষণিক চালু রাখা বাধ্যতামূলক। আইন অমান্য করলে জরিমানা, কারখানা সিলগালা এবং পুনরাবৃত্তিতে কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রভাবশালী মালিকের ছত্রচ্ছায়ায় এসব অনিয়ম অব্যাহত থাকায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

এ বিষয়ে সচেতন মহল বলছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে পরিবেশ অধিদপ্তরের নজরদারি জোরদার না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

তাদের দাবি—নিয়মিত মনিটরিং, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং পরিবেশ আইন লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।