গাজীপুর , বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
গৌরনদী ইউএনও ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচার অভিযোগ রাঙ্গামাটিতে বিশেষ অভিযানে ৪ মাদকসেবী গ্রেফতার গাজীপুর কোনাবাড়িতে ব্যবসায়ী অপহরণ, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার কালীগঞ্জে মোবাইল কোর্ট: ইভটিজিংয়ে জেল, মাটি কাটায় জরিমানা নিয়ামতপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ৮০০ ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার রাঙামাটিতে জিরো টলারেন্সে ইয়াবাসহ আটক ১ শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা সভা মিরপুরে অনুষ্ঠিত ধনবাড়ীতে সাংবাদিকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি আদমদিঘী শ্রমিক ইউনিয়নে আলিফ মাহমুদের দায়িত্ব গ্রহণ আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস: বগুড়ায় ৩১ দফা দাবী ঘোষণা

আইন অমান্য করে কারখানা চালু, পরিবেশ অধিদপ্তরের নীরবতা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭০ Time View

নরসিংদী জেলার বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ইটিপি ছাড়াই টেক্সটাইল কারখানা চালু থাকার অভিযোগ দিন দিন বাড়ছে। সরকারি নিয়ম না মেনে এসব ডাইং ও টেক্সটাইল কারখানা থেকে অপরিশোধিত রাসায়নিক বর্জ্য সরাসরি নদী, খাল ও জলাশয়ে ফেলা হচ্ছে। এতে করে পুরো এলাকার পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও কৃষি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, মাধবদী, শেখেরচর, পাঁচদোনা ও ঘোড়াশাল এলাকায় বেশ কিছু কারখানা কার্যকর ইটিপি (Effluent Treatment Plant) স্থাপন করেনি। আবার অনেক কারখানায় ইটিপি থাকলেও তা নিয়মিত চালু রাখা হয় না। ফলে কারখানার দূষিত পানি সরাসরি শীতলক্ষ্যা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র নদে মিশে যাচ্ছে। এর ফলে নরসিংদী নদী দূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা জানান, নদীর পানি এখন আর ব্যবহারযোগ্য নেই। এই পানি দিয়ে সেচ দিলে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। মাটির উর্বরতা কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে মাছের উৎপাদনও কমে গেছে। অনেক মাছ মারা যাচ্ছে। সম্প্রতি শীতলক্ষ্যা নদীতে দূষণের কারণে এক খামারির কোটি টাকার মাছ মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দূষিত পানির কারণে পানিবাহিত রোগ যেমন ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

বাংলাদেশের পরিবেশ আইনে প্রতিটি টেক্সটাইল ও ডাইং কারখানায় কার্যকর ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক। আইন অমান্য করলে জরিমানা, কারখানা বন্ধ এবং এমনকি কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রভাবশালী মালিকের কারণে এসব আইন ঠিকমতো প্রয়োগ হচ্ছে না।

সচেতন মহল মনে করছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের কঠোর নজরদারি ছাড়া এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। তারা দ্রুত নিয়মিত মনিটরিং, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পরিবেশ রক্ষা ও মানুষের সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গৌরনদী ইউএনও ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচার অভিযোগ

আইন অমান্য করে কারখানা চালু, পরিবেশ অধিদপ্তরের নীরবতা

Update Time : ০৪:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নরসিংদী জেলার বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ইটিপি ছাড়াই টেক্সটাইল কারখানা চালু থাকার অভিযোগ দিন দিন বাড়ছে। সরকারি নিয়ম না মেনে এসব ডাইং ও টেক্সটাইল কারখানা থেকে অপরিশোধিত রাসায়নিক বর্জ্য সরাসরি নদী, খাল ও জলাশয়ে ফেলা হচ্ছে। এতে করে পুরো এলাকার পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও কৃষি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, মাধবদী, শেখেরচর, পাঁচদোনা ও ঘোড়াশাল এলাকায় বেশ কিছু কারখানা কার্যকর ইটিপি (Effluent Treatment Plant) স্থাপন করেনি। আবার অনেক কারখানায় ইটিপি থাকলেও তা নিয়মিত চালু রাখা হয় না। ফলে কারখানার দূষিত পানি সরাসরি শীতলক্ষ্যা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র নদে মিশে যাচ্ছে। এর ফলে নরসিংদী নদী দূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা জানান, নদীর পানি এখন আর ব্যবহারযোগ্য নেই। এই পানি দিয়ে সেচ দিলে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। মাটির উর্বরতা কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে মাছের উৎপাদনও কমে গেছে। অনেক মাছ মারা যাচ্ছে। সম্প্রতি শীতলক্ষ্যা নদীতে দূষণের কারণে এক খামারির কোটি টাকার মাছ মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দূষিত পানির কারণে পানিবাহিত রোগ যেমন ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

বাংলাদেশের পরিবেশ আইনে প্রতিটি টেক্সটাইল ও ডাইং কারখানায় কার্যকর ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক। আইন অমান্য করলে জরিমানা, কারখানা বন্ধ এবং এমনকি কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রভাবশালী মালিকের কারণে এসব আইন ঠিকমতো প্রয়োগ হচ্ছে না।

সচেতন মহল মনে করছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের কঠোর নজরদারি ছাড়া এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। তারা দ্রুত নিয়মিত মনিটরিং, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পরিবেশ রক্ষা ও মানুষের সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।