গাজীপুর , সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
রাঙামাটি সদর জোনে বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ-২০২৬ উদ্বোধন আউশকান্দিতে শিক্ষার অগ্রগতি ও গভর্নিং বডি নির্বাচন নিয়ে মতবিনিময় মিরসরাইয়ে বিএনপি নেতা আলীউল কবিরের চেয়ারম্যান মনোনয়ন চাওয়া ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ রিফাত বিন হামিদ রাফি রোবটিক্স ও STEM অলিম্পিয়াডে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌকা বাইচে চ্যাম্পিয়ন ক্ষমতাপুর শাপলা বয়েজ ক্লাব প্রবাসীর জমি দখলের অভিযোগ, বাধা দেওয়ায় হামলার দাবি ধামইরহাট চেয়ারম্যান প্রার্থী রুহুল আমিন হাসপাতালে সুজনের খোঁজ নিলেন নওগাঁ জেলা কমিউনিটি পুলিশিং সমন্বয় আহ্বায়ক কমিটি গঠন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি আমিনুল ইসলামের
ভোটের হাওয়া
সোনাপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সরোয়ার হোসেনের দোয়া-সমর্থন বাটাজোড়ের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী আনোয়ারা বেগম পত্নীতলায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশাল আনন্দ র‍্যালি গাইবান্ধায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আনন্দ র‍্যালি পাঁচুপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নির্বাচন: গণসংযোগে ব্যস্ত নিয়ামত আলী বাবু দোয়ারাবাজারে রেজাউল করিমকে ঘিরে বাড়ছে জনআলোচনা সোনাপুরে মানবিক কর্মকাণ্ডে জনসমর্থন পাচ্ছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী ছারোয়ার সরিকল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম মৃধাকে ঘিরে আলোচনা ২৩ জুনকে ঘিরে সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেন আহমদ শফিক শুভ বাসন থানায় পুলিশের জালে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা লিটন মন্ডল

আইন অমান্য করে কারখানা চালু, পরিবেশ অধিদপ্তরের নীরবতা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৩৭ Time View

নরসিংদী জেলার বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ইটিপি ছাড়াই টেক্সটাইল কারখানা চালু থাকার অভিযোগ দিন দিন বাড়ছে। সরকারি নিয়ম না মেনে এসব ডাইং ও টেক্সটাইল কারখানা থেকে অপরিশোধিত রাসায়নিক বর্জ্য সরাসরি নদী, খাল ও জলাশয়ে ফেলা হচ্ছে। এতে করে পুরো এলাকার পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও কৃষি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, মাধবদী, শেখেরচর, পাঁচদোনা ও ঘোড়াশাল এলাকায় বেশ কিছু কারখানা কার্যকর ইটিপি (Effluent Treatment Plant) স্থাপন করেনি। আবার অনেক কারখানায় ইটিপি থাকলেও তা নিয়মিত চালু রাখা হয় না। ফলে কারখানার দূষিত পানি সরাসরি শীতলক্ষ্যা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র নদে মিশে যাচ্ছে। এর ফলে নরসিংদী নদী দূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা জানান, নদীর পানি এখন আর ব্যবহারযোগ্য নেই। এই পানি দিয়ে সেচ দিলে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। মাটির উর্বরতা কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে মাছের উৎপাদনও কমে গেছে। অনেক মাছ মারা যাচ্ছে। সম্প্রতি শীতলক্ষ্যা নদীতে দূষণের কারণে এক খামারির কোটি টাকার মাছ মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দূষিত পানির কারণে পানিবাহিত রোগ যেমন ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

বাংলাদেশের পরিবেশ আইনে প্রতিটি টেক্সটাইল ও ডাইং কারখানায় কার্যকর ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক। আইন অমান্য করলে জরিমানা, কারখানা বন্ধ এবং এমনকি কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রভাবশালী মালিকের কারণে এসব আইন ঠিকমতো প্রয়োগ হচ্ছে না।

সচেতন মহল মনে করছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের কঠোর নজরদারি ছাড়া এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। তারা দ্রুত নিয়মিত মনিটরিং, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পরিবেশ রক্ষা ও মানুষের সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

রাঙামাটি সদর জোনে বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ-২০২৬ উদ্বোধন

আইন অমান্য করে কারখানা চালু, পরিবেশ অধিদপ্তরের নীরবতা

Update Time : ০৪:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নরসিংদী জেলার বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ইটিপি ছাড়াই টেক্সটাইল কারখানা চালু থাকার অভিযোগ দিন দিন বাড়ছে। সরকারি নিয়ম না মেনে এসব ডাইং ও টেক্সটাইল কারখানা থেকে অপরিশোধিত রাসায়নিক বর্জ্য সরাসরি নদী, খাল ও জলাশয়ে ফেলা হচ্ছে। এতে করে পুরো এলাকার পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও কৃষি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, মাধবদী, শেখেরচর, পাঁচদোনা ও ঘোড়াশাল এলাকায় বেশ কিছু কারখানা কার্যকর ইটিপি (Effluent Treatment Plant) স্থাপন করেনি। আবার অনেক কারখানায় ইটিপি থাকলেও তা নিয়মিত চালু রাখা হয় না। ফলে কারখানার দূষিত পানি সরাসরি শীতলক্ষ্যা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র নদে মিশে যাচ্ছে। এর ফলে নরসিংদী নদী দূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা জানান, নদীর পানি এখন আর ব্যবহারযোগ্য নেই। এই পানি দিয়ে সেচ দিলে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। মাটির উর্বরতা কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে মাছের উৎপাদনও কমে গেছে। অনেক মাছ মারা যাচ্ছে। সম্প্রতি শীতলক্ষ্যা নদীতে দূষণের কারণে এক খামারির কোটি টাকার মাছ মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দূষিত পানির কারণে পানিবাহিত রোগ যেমন ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

বাংলাদেশের পরিবেশ আইনে প্রতিটি টেক্সটাইল ও ডাইং কারখানায় কার্যকর ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক। আইন অমান্য করলে জরিমানা, কারখানা বন্ধ এবং এমনকি কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রভাবশালী মালিকের কারণে এসব আইন ঠিকমতো প্রয়োগ হচ্ছে না।

সচেতন মহল মনে করছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের কঠোর নজরদারি ছাড়া এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। তারা দ্রুত নিয়মিত মনিটরিং, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পরিবেশ রক্ষা ও মানুষের সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।