মাসুদ রানা বাবুল:
নরসিংদী জেলার বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) ছাড়াই ডাইং ও টেক্সটাইল কারখানার কার্যক্রম অব্যাহত থাকার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে এসব কারখানা থেকে অপরিশোধিত রাসায়নিক বর্জ্য সরাসরি নদী-খাল ও জলাশয়ে ফেলা হচ্ছে, যার ফলে জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাধবদী, শেখেরচর, পাঁচদোনা ও ঘোড়াশাল এলাকার একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান কার্যকর ইটিপি স্থাপন না করে কিংবা স্থাপন করেও সচল না রেখে উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে শীতলক্ষ্যা নদী, মেঘনা নদী ও ব্রহ্মপুত্র নদ-সহ আশপাশের জলাধার দূষিত হয়ে পড়ছে।
স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদীর পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় মৎস্যসম্পদ ধ্বংস হচ্ছে, ফসলি জমির উর্বরতা কমছে এবং পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। সম্প্রতি শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণের কারণে এক খামারির কোটি টাকার মাছ মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
পরিবেশ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনে প্রতিটি ডাইং ও টেক্সটাইল কারখানায় কার্যকর ইটিপি স্থাপন ও সার্বক্ষণিক চালু রাখা বাধ্যতামূলক। আইন অমান্য করলে জরিমানা, কারখানা সিলগালা এবং পুনরাবৃত্তিতে কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রভাবশালী মালিকের ছত্রচ্ছায়ায় এসব অনিয়ম অব্যাহত থাকায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এ বিষয়ে সচেতন মহল বলছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে পরিবেশ অধিদপ্তরের নজরদারি জোরদার না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
তাদের দাবি—নিয়মিত মনিটরিং, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং পরিবেশ আইন লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।