
নরসিংদীর বেলাব উপজেলার চর আসলাব গ্রামে অবস্থিত বেলাব ফালু শাহ মাজার শরীফ আজ আধ্যাত্মিকতা, মানবসেবা ও সামাজিক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। হযরত শাহ সূফী মোঃ ফজলুল হক ফালু শাহ (র.)-এর স্মৃতিবিজড়িত এই পবিত্র স্থান প্রতিদিন হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ধর্মপ্রাণ মানুষ এখানে এসে দোয়া, মান্নত ও আত্মিক শান্তির খোঁজ করেন।
মাজার প্রাঙ্গণে নিয়মিত আউল-বাউল ও লালন সংগীতের আসর বসে। এসব সাংস্কৃতিক আয়োজনে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে শত শত মানুষ অংশ নেন। অনেক ভক্ত দাবি করেন, এখানে এসে দোয়া ও মান্নতের মাধ্যমে তারা মানসিক শান্তি এবং জীবনের কাঙ্ক্ষিত সফলতা পেয়েছেন। সেই আনন্দ থেকেই অনেকে গরু, ছাগল ও মহিষ দান করেন মাজারে।
বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ রুহুল আমিনের ব্যক্তিগত অর্থায়নে মাজারটির আধুনিক উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে মাজারের পরিবেশ অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন, মনোরম ও দর্শনার্থীবান্ধব। পাশাপাশি নির্মিত দৃষ্টিনন্দন মসজিদটিও আগতদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
হযরত ফালু শাহ (র.) ছিলেন প্রচারবিমুখ ও মানবপ্রেমী একজন আধ্যাত্মিক সাধক। তিনি সারাজীবন স্রষ্টার ইবাদত, কঠোর রিয়াজত ও মানবকল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। ১০ মাঘ ১৪১৩ বঙ্গাব্দে তিনি ওফাত লাভ করেন। তবে তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ এখনো মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছে।
এই মাজারের সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগ হলো ফ্রি লঙ্গরখানা। গত ১৯ বছর ধরে এখানে প্রতিদিন তিন বেলা বিনামূল্যে উন্নতমানের খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। জাতি, ধর্ম বা শ্রেণিভেদ ছাড়াই সবাই এখানে সমানভাবে খাবার গ্রহণ করতে পারেন। শনিবার ও মঙ্গলবার গরু ও মহিষের মাংস পরিবেশন করা হয়। অন্যদিনগুলোতে খাসি, হাঁস ও মোরগের মাংস রাখা হয় খাবারের তালিকায়।
স্থানীয়দের মতে, এই লঙ্গরখানা শুধু খাদ্য বিতরণের কার্যক্রম নয়, বরং এটি মানবতার এক বিরল উদাহরণ। প্রতিদিন শত শত অসহায় ও পথচারী মানুষ এখানে বিনামূল্যে খাবার খেয়ে উপকৃত হচ্ছেন।
মাজারটির সৌন্দর্য ও মানবিক কার্যক্রম দেখতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিয়মিত আসছেন। নরসিংদী সদর প্রেসক্লাবের সভাপতি রানা বাবুল একাধিকবার এই মাজার পরিদর্শন করেছেন। তাঁর সঙ্গে সরকারের সাবেক এক প্রভাবশালী মন্ত্রীও এখানে এসেছিলেন। তারা মাজারের শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ, মানবসেবা ও আধ্যাত্মিক আবহের প্রশংসা করেন।
চর আসলাবের বেলাব ফালু শাহ মাজার শরীফ এখন শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়। এটি মানবতা, সম্প্রীতি ও আধ্যাত্মিক শান্তির এক অনন্য প্রতীক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

Reporter Name 

















