
রোকসানা আক্তার|গাজীপুর
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কোনাবাড়ী মেট্রো থানার আওতাধীন জরুন বাজার এলাকার জমিদারের ইটখোলা এলাকায় প্রকাশ্যে দেহ ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অসামাজিক কর্মকাণ্ড চললেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারভীন সুলতানা ওরফে শাহানাজ নামের এক নারী কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সহায়তায় এলাকায় দেহ ব্যবসার একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, ভাড়া বাসাকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন নিয়মিতভাবে ৫ থেকে ৭ জন নারীকে দিয়ে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, জরুন বাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যক্রম চললেও স্থানীয় থানা পুলিশের কোনো কার্যকর অভিযান দেখা যায়নি। ফলে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে—কেন প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে এবং কারা এই চক্রকে রক্ষা করছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদেরও বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়। এমনকি সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য চাপ প্রয়োগের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এতে পরিস্থিতি আরও রহস্যজনক হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, অভিযুক্ত স্থানের আশপাশেই রয়েছে স্কুল, মাদরাসা, মসজিদ এবং ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এমন পরিবেশে প্রকাশ্যে দেহ ব্যবসা চলতে থাকলে তরুণ সমাজ বিপথগামী হতে পারে। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, শিল্পাঞ্চল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ গাজীপুর অঞ্চলে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে মাদক, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধও বাড়তে পারে। তাই সামাজিক পরিবেশ রক্ষা এবং জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

Reporter Name 


















