
মো: সাজজাকুল ইসলাম রাজ্জাক
গাজীপুরে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ডার্ড গ্রুপ ও সিজন্স ড্রেসেস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকদের অবশিষ্ট বকেয়া পাওনা দ্রুত পরিশোধের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ মে ২০২৬) বিকেল ৩টায় আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক নেতারা মালিকের সম্পত্তি বিক্রির মাধ্যমে শ্রমিকদের প্রাপ্য পরিশোধ এবং কারখানা পুনরায় চালুর দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ডার্ড গ্রুপের শ্রমিক মোঃ ইউসুফ। এতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম, গাজীপুর জেলা সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান, শ্রমিকনেতা দেলোয়ার হোসেন, কবির হোসেন হাওলাদার, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৌমিত্র কুমার দাস এবং এনামুল হক।
এছাড়াও বক্তব্য দেন ডার্ড গ্রুপের শ্রমিক সুবিমল ঘোষ এবং সিজন্স ড্রেসেস লিমিটেডের শ্রমিক মনির হোসেন। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কারখানা বন্ধ থাকায় হাজারো শ্রমিক ও তাদের পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শ্রমিকদের কয়েক মাসের বেতন, প্রভিডেন্ট ফান্ড, সার্ভিস বেনিফিট এবং অর্জিত ছুটির টাকা এখনও বকেয়া রয়েছে।
শ্রমিক নেতারা জানান, শুধুমাত্র সিজন্স ড্রেসেস লিমিটেড শ্রমিক দাবি অনুযায়ী প্রায় ২৩ কোটি টাকার পাওনা এখনও পরিশোধ হয়নি। তারা অভিযোগ করেন, মালিকপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকায় শ্রমিকরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বক্তারা আরও বলেন, ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর শ্রমিক, মালিকপক্ষ এবং প্রশাসনের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই চুক্তিতে শ্রম আইনে নির্ধারিত পূর্ণ সুবিধার পরিবর্তে শ্রমিকদের মাত্র ৫০ শতাংশ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও এখন পর্যন্ত সেটিও বাস্তবায়ন হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের উদ্দেশ্যে সরকার থেকে প্রায় ১৩ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই অর্থ সঠিকভাবে শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়নি। বিভিন্ন আন্দোলনের মাধ্যমে আনুমানিক ১১ কোটি টাকা বিতরণ করা হলেও এখনও বিপুল পরিমাণ অর্থ বকেয়া রয়েছে।
শ্রমিক নেতারা বলেন, কারখানার ভেতরে প্রায় ২০০ কোটি টাকার বিক্রয়যোগ্য মালামাল ও যন্ত্রপাতি পড়ে রয়েছে। কিন্তু সরকার বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এসব সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকায় অনেক মালামাল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, মালিকের বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে ৩০০টির বেশি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেই পরোয়ানা কার্যকর করার দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। একই সঙ্গে মালিকপক্ষ নিয়মিতভাবে হাইকোর্টে রিট দায়ের করে শ্রম আদালতের কার্যক্রম স্থগিত রাখছে। এতে করে শ্রমিকদের আইনগত পাওনা আদায়ে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে।
বক্তারা জানান, বর্তমানে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ সংক্রান্ত সরকারি কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করেছে। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরাও আদালতে পক্ষভুক্ত হয়ে নিজেদের ন্যায্য পাওনার দাবি তুলে ধরেছেন।
শ্রমিক নেতারা আশা প্রকাশ করেন, আদালত শ্রমিকদের ন্যায়বিচার এবং মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত দেবেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে অবিলম্বে মালিকের সম্পত্তি ও কারখানার মালামাল বিক্রির মাধ্যমে ডার্ড গ্রুপ শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা এবং সিজন্স ড্রেসেস লিমিটেড শ্রমিক দাবি পূরণের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর, প্রশাসক নিয়োগ এবং কারখানা পুনরায় চালুর দাবি তোলা হয়।
শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলন ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

Reporter Name 


















