গাজীপুর , রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
গাজীপুরে ধান নষ্টের ক্ষতি সইতে না পেরে কৃষকের মৃত্যুর ঘটনা কোনাবাড়ীতে প্রকাশ্যে অসামাজিক কর্মকাণ্ড, নীরব পুলিশে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মদনে সাংবাদিক বাবুলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ, ২৪ ঘণ্টার জবাব নির্দেশ বাংলাদেশ প্রেসক্লাব হবিগঞ্জে প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও কমিটি অনুমোদন রাজশাহীতে অটোরিকশা চালক হত্যা: ছিনতাই চক্রের ৪ জন গ্রেপ্তার রাঙ্গামাটিতে ট্রাফিক সচেতনতা ও ডিজিটাল বাস ডাটাবেস চালু, নতুন যুগ নরসিংদীতে মাদক উদ্ধার: গাঁজা, ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ ২ কারবারি আটক কুমড়া চাষে ফল না আসায় পঞ্চগড়ে কৃষকের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি কর্ণফুলী ড্রাই ডককে আন্তর্জাতিক মানে উন্নয়নের আশ্বাস কঠোর নজরদারিতে চট্টগ্রাম বন্দরে দস্যুতা শূন্যে, বাড়ছে আন্তর্জাতিক আস্থা
ভোটের হাওয়া
নেত্রকোণা ছাত্রদল কমিটিতে সহ-সভাপতি হলেন গোলাম কিবরিয়া বিএমডিএ চেয়ারম্যান হিসেবে হাসান জাফির তুহিন যোগদান রাঙ্গামাটিতে ছাত্রদল কমিটি বাতিলের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও অগ্নিসংযোগ এসআইআর বিতর্কে পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহাসিক ভোটগ্রহণ ঢাকা উত্তর সিটিতে বিএনপি নেতার ত্যাগ ও অবদান পার্বত্য তিন জেলা পরিষদ নির্বাচন: প্রধানমন্ত্রীর কাছে সমঅধিকার দাবি কালিয়াকৈরে মানবিক নেতা সাইজুদ্দিন আহমেদ কালিয়াকৈর পৌরসভা: দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত উদ্যোগে জসিম উদ্দিন চট্টগ্রামে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মিদের খুঁজছে পুলিশ গাজীপুরে ঝুট ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলা, লুটপাট ও ককটেল

কুমড়া চাষে ফল না আসায় পঞ্চগড়ে কৃষকের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি

  • Reporter Name
  • Update Time : ২২ ঘন্টা আগে
  • ২৫ Time View

মো শাহজাহান কবির প্রধান পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি।

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার এক কৃষক কুমড়া চাষ করে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, নিম্নমানের বীজ সরবরাহের কারণে ১৮০ বিঘা জমিতে গাছ হলেও একটিও কুমড়া ধরেনি। এতে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. সাজ্জাদ হোসেন।

জানা গেছে, বোদা উপজেলার লাঙ্গল গ্রামের কৃষক মো. সাজ্জাদ হোসেন চলতি মৌসুমে ৬০ একর জমি লিজ নিয়ে আলু ও কুমড়া চাষের পরিকল্পনা করেন। পরে তিনি “ব্যাংকক সুইট-২” জাতের কুমড়ার বীজ কিনে জমিতে রোপণ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, “আলমগীর সীড কোম্পানি”র কাছ থেকে গত ২৬ জানুয়ারি প্রায় ১০ কেজি ৬০০ গ্রাম বীজ নগদ টাকায় কেনা হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বলেন, কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রতি একরে ১৯ থেকে ২০ টন ফলনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। সেই আশ্বাসে তিনি বিপুল পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করেন। নিয়ম মেনে চাষাবাদ, সার ও পরিচর্যা করলেও ৮০ থেকে ৯০ দিন পার হওয়ার পরও জমিতে একটি কুমড়াও ধরেনি। বর্তমানে পুরো ক্ষেতজুড়ে শুধু গাছ দেখা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “আমি একজন সাধারণ কৃষক। জমি লিজ, বীজ, শ্রমিক, সার ও সেচে বিপুল টাকা খরচ করেছি। এখন আমি সম্পূর্ণ নিঃস্ব হওয়ার পথে। এটি স্পষ্ট বীজ প্রতারণা। আমি প্রশাসনের কাছে বিচার চাই।”

স্থানীয় বীজ ব্যবসায়ী মো. আরিফুল রহমান রাসেল জানান, কোম্পানির প্রতিনিধিরা ভালো ফলনের নিশ্চয়তা দিয়েছিল। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি কৃষককে বীজ নিতে পরামর্শ দেন। কিন্তু এখন কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে, ক্ষেতে কাজ করা শ্রমিকরাও বিপাকে পড়েছেন। শ্রমিক ললিতা বালা বলেন, “আমি এখনও ১০ হাজার টাকা পাই। প্রতিবছর এই জমি থেকে অনেক কুমড়া বিক্রি হতো। এবার কিছুই হয়নি।”

ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এ ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, কৃষকদের নিরাপদ ও মানসম্মত বীজ নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আরও অনেকে ক্ষতির মুখে পড়বেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গাজীপুরে ধান নষ্টের ক্ষতি সইতে না পেরে কৃষকের মৃত্যুর ঘটনা

কুমড়া চাষে ফল না আসায় পঞ্চগড়ে কৃষকের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি

Update Time : ২২ ঘন্টা আগে

মো শাহজাহান কবির প্রধান পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি।

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার এক কৃষক কুমড়া চাষ করে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, নিম্নমানের বীজ সরবরাহের কারণে ১৮০ বিঘা জমিতে গাছ হলেও একটিও কুমড়া ধরেনি। এতে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. সাজ্জাদ হোসেন।

জানা গেছে, বোদা উপজেলার লাঙ্গল গ্রামের কৃষক মো. সাজ্জাদ হোসেন চলতি মৌসুমে ৬০ একর জমি লিজ নিয়ে আলু ও কুমড়া চাষের পরিকল্পনা করেন। পরে তিনি “ব্যাংকক সুইট-২” জাতের কুমড়ার বীজ কিনে জমিতে রোপণ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, “আলমগীর সীড কোম্পানি”র কাছ থেকে গত ২৬ জানুয়ারি প্রায় ১০ কেজি ৬০০ গ্রাম বীজ নগদ টাকায় কেনা হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বলেন, কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রতি একরে ১৯ থেকে ২০ টন ফলনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। সেই আশ্বাসে তিনি বিপুল পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করেন। নিয়ম মেনে চাষাবাদ, সার ও পরিচর্যা করলেও ৮০ থেকে ৯০ দিন পার হওয়ার পরও জমিতে একটি কুমড়াও ধরেনি। বর্তমানে পুরো ক্ষেতজুড়ে শুধু গাছ দেখা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “আমি একজন সাধারণ কৃষক। জমি লিজ, বীজ, শ্রমিক, সার ও সেচে বিপুল টাকা খরচ করেছি। এখন আমি সম্পূর্ণ নিঃস্ব হওয়ার পথে। এটি স্পষ্ট বীজ প্রতারণা। আমি প্রশাসনের কাছে বিচার চাই।”

স্থানীয় বীজ ব্যবসায়ী মো. আরিফুল রহমান রাসেল জানান, কোম্পানির প্রতিনিধিরা ভালো ফলনের নিশ্চয়তা দিয়েছিল। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি কৃষককে বীজ নিতে পরামর্শ দেন। কিন্তু এখন কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে, ক্ষেতে কাজ করা শ্রমিকরাও বিপাকে পড়েছেন। শ্রমিক ললিতা বালা বলেন, “আমি এখনও ১০ হাজার টাকা পাই। প্রতিবছর এই জমি থেকে অনেক কুমড়া বিক্রি হতো। এবার কিছুই হয়নি।”

ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এ ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, কৃষকদের নিরাপদ ও মানসম্মত বীজ নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আরও অনেকে ক্ষতির মুখে পড়বেন।