
নেত্রকোনার মদনে মানতের রোজা পালন করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৫ বছর বয়সী গৃহিণী খুদেজা আক্তার। দীর্ঘ আড়াই মাস ধরে টানা রোজা রাখার কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বুধবার (২০ মে) সকালে তাকে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরের মুক্তি ও নির্বাচনে বিজয়ের জন্য বহু আগে মানত করেছিলেন খুদেজা আক্তার। তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, বাবর কারামুক্ত হয়ে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি টানা আড়াই মাস রোজা রাখবেন।
খুদেজা আক্তার নেত্রকোনার মদন উপজেলার চানগাঁও (চকপাড়া) গ্রামের মৃত আব্দুল হাসেমের স্ত্রী। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘ ১৭ বছর কারাভোগের পর মুক্তি পান লুৎফুজ্জামান বাবর। পরে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর নিজের মানত পূরণের উদ্দেশ্যে গত ২১ মার্চ, ঈদুল ফিতরের পরদিন থেকেই রোজা রাখা শুরু করেন খুদেজা আক্তার।
পরিবারের সদস্যরা জানান, এর আগে পুরো রমজান মাসেও নিয়মিত রোজা পালন করেছিলেন তিনি। এরপর আবার মানতের রোজা শুরু করেন। দীর্ঘ সময় ধরে রোজা রাখার কারণে তিনি কয়েকবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। এমনকি ৮ থেকে ১০ বার হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছে। তারপরও তিনি রোজা ভাঙতে রাজি হননি।
খুদেজা আক্তারের ছেলে শেখ রবিন বলেন, “মা অনেক আগে থেকেই এই মানত করেছিলেন। বাবর সাহেব মুক্তি পেয়ে আবার এমপি নির্বাচিত হওয়ায় মা তার মানতের রোজা পালন করছেন। অসুস্থ হলেও তিনি রোজা ভাঙতে চান না।”
পুত্রবধূ রনি আক্তার জানান, পরিবারের সবাই তাকে বিশ্রাম নেওয়ার অনুরোধ করলেও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। তাদের দাবি, মানসিক দৃঢ়তার কারণেই তিনি এতদিন রোজা চালিয়ে গেছেন।
এ বিষয়ে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুরুল হুদা খান বলেন, “দীর্ঘদিন রোজা রাখার কারণে খুদেজা আক্তার শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে।”
স্থানীয়দের মধ্যে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই খুদেজা আক্তারের ধর্মীয় বিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তার প্রশংসা করছেন। আবার চিকিৎসকরা দীর্ঘ সময় টানা রোজা রাখার ক্ষেত্রে শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

Reporter Name 



















