গাজীপুর , শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
নেত্রকোনা এসপির উদ্যোগে ১৫ দিনে হারানো মোবাইল উদ্ধার। গৌরনদী ইউএনও ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচার অভিযোগ রাঙ্গামাটিতে বিশেষ অভিযানে ৪ মাদকসেবী গ্রেফতার গাজীপুর কোনাবাড়িতে ব্যবসায়ী অপহরণ, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার কালীগঞ্জে মোবাইল কোর্ট: ইভটিজিংয়ে জেল, মাটি কাটায় জরিমানা নিয়ামতপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ৮০০ ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার রাঙামাটিতে জিরো টলারেন্সে ইয়াবাসহ আটক ১ শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা সভা মিরপুরে অনুষ্ঠিত ধনবাড়ীতে সাংবাদিকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি আদমদিঘী শ্রমিক ইউনিয়নে আলিফ মাহমুদের দায়িত্ব গ্রহণ

চট্টগ্রামে ১,৬৭৩ বর্জ্য সংগ্রাহক পেল ইউনিলিভারের সুরক্ষা সামগ্রী

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
  • ৩৩ Time View

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও টেকসই করতে চট্টগ্রামে নতুন উদ্যোগ জোরদার করেছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড। নিরাপত্তা সহায়তা, সামাজিক সুরক্ষা ও কমিউনিটি–ভিত্তিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

ইউনিলিভার বাংলাদেশের ‘প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ’-এর আওতায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ১,৬৭৩ জন প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রাহকের মাঝে সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়। বিতরণকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে সেফটি ভেস্ট, বুট, রাবার গ্লাভস, হেলমেট, ফেস মাস্ক ও লোহার হুক। এসব সরঞ্জাম কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে এবং বিপজ্জনক বর্জ্যের সংস্পর্শ থেকে সুরক্ষা দিতে সহায়ক হবে।

এছাড়া স্থানীয় স্ক্র্যাপ শপ ও ভাঙারিওয়ালাদের জন্য ১৭০টি ফার্স্ট এইড বক্স সরবরাহ করা হয়েছে, যাতে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়। একই অনুষ্ঠানে স্কুল ও মাদ্রাসায় উৎসভিত্তিক বর্জ্য পৃথকীকরণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ডি-বিন’ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।

এর আগে এই উদ্যোগের আওতায় ৩,৭০০ জন বর্জ্যকর্মীকে সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান এবং ৬১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডি-বিন পদ্ধতি চালু করা হয়। এখন পর্যন্ত এ কর্মসূচির মাধ্যমে ৩০ হাজার টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি বর্জ্যকর্মী ও তাদের পরিবারের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিমা সুবিধা ও আর্থিক সহায়তা চালু রয়েছে।

মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সংক্রমণের হার কমার পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যয় হ্রাস পেয়েছে এবং কর্মীদের উৎপাদনশীলতা বেড়েছে। নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও কাঠামোবদ্ধ প্রণোদনার কারণে আয় ও সঞ্চয় বৃদ্ধি এবং জীবনমান উন্নয়নের মতো সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিবর্তনও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ইউনিলিভার বাংলাদেশের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স, পার্টনারশিপ অ্যান্ড কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর কণিকা আক্তার বলেন, “পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্যোগকে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে। ২০২২ সাল থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় আমাদের প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। বর্জ্য সংগ্রাহকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই আমাদের এই কার্যক্রম।”

দেশব্যাপী দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ও সামাজিক ইতিবাচক প্রভাব তৈরির লক্ষ্যে এই উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

নেত্রকোনা এসপির উদ্যোগে ১৫ দিনে হারানো মোবাইল উদ্ধার।

চট্টগ্রামে ১,৬৭৩ বর্জ্য সংগ্রাহক পেল ইউনিলিভারের সুরক্ষা সামগ্রী

Update Time : ১২:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও টেকসই করতে চট্টগ্রামে নতুন উদ্যোগ জোরদার করেছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড। নিরাপত্তা সহায়তা, সামাজিক সুরক্ষা ও কমিউনিটি–ভিত্তিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

ইউনিলিভার বাংলাদেশের ‘প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ’-এর আওতায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ১,৬৭৩ জন প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রাহকের মাঝে সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়। বিতরণকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে সেফটি ভেস্ট, বুট, রাবার গ্লাভস, হেলমেট, ফেস মাস্ক ও লোহার হুক। এসব সরঞ্জাম কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে এবং বিপজ্জনক বর্জ্যের সংস্পর্শ থেকে সুরক্ষা দিতে সহায়ক হবে।

এছাড়া স্থানীয় স্ক্র্যাপ শপ ও ভাঙারিওয়ালাদের জন্য ১৭০টি ফার্স্ট এইড বক্স সরবরাহ করা হয়েছে, যাতে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়। একই অনুষ্ঠানে স্কুল ও মাদ্রাসায় উৎসভিত্তিক বর্জ্য পৃথকীকরণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ডি-বিন’ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।

এর আগে এই উদ্যোগের আওতায় ৩,৭০০ জন বর্জ্যকর্মীকে সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান এবং ৬১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডি-বিন পদ্ধতি চালু করা হয়। এখন পর্যন্ত এ কর্মসূচির মাধ্যমে ৩০ হাজার টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি বর্জ্যকর্মী ও তাদের পরিবারের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিমা সুবিধা ও আর্থিক সহায়তা চালু রয়েছে।

মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সংক্রমণের হার কমার পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যয় হ্রাস পেয়েছে এবং কর্মীদের উৎপাদনশীলতা বেড়েছে। নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও কাঠামোবদ্ধ প্রণোদনার কারণে আয় ও সঞ্চয় বৃদ্ধি এবং জীবনমান উন্নয়নের মতো সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিবর্তনও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ইউনিলিভার বাংলাদেশের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স, পার্টনারশিপ অ্যান্ড কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর কণিকা আক্তার বলেন, “পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্যোগকে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে। ২০২২ সাল থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় আমাদের প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। বর্জ্য সংগ্রাহকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই আমাদের এই কার্যক্রম।”

দেশব্যাপী দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ও সামাজিক ইতিবাচক প্রভাব তৈরির লক্ষ্যে এই উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ।