গাজীপুর , শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :

ঘুষ ফেরত চাওয়ায় পেকুয়ায় মা-মেয়ের কারাদণ্ড

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
  • ৮ Time View

এনামুল হক রাশেদী, কক্সবাজার:

কক্সবাজারের পেকুয়ায় একটি বিচারপ্রার্থী কলেজছাত্রী এবং তার মাকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম এই দণ্ডাদেশ দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, পেকুয়া থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় মা-মেয়েকে এই শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে।

কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—পেকুয়া উপজেলার সাবেক গুলদি এলাকার মৃত নুরুল আবছারের স্ত্রী রেহেনা মোস্তফা রানু (৩৮) ও তার মেয়ে কলেজছাত্রী জুবাইদা জান্নাত (২৩)।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন নিজেদের পক্ষে পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পেকুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পল্লব তাদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। ভয়ভীতি ও নানা অজুহাতে ওই টাকা আদায় করা হলেও, পরে তিনি প্রতিবেদন প্রতিপক্ষের পক্ষে জমা দেন।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, গত ৪ মার্চ বিকেলে বিষয়টি নিয়ে থানায় গেলে এসআই পল্লব ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং মা-মেয়েকে মারধর করে আটক করেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মনজিলা বেগম জানান, “জুবাইদা যখন টাকা ফেরত চান, তখন এসআই পল্লব চড়াও হন। পরে পুলিশ তাদের আটক করে থানা প্রাঙ্গণ থেকে বের হতে বাধা দেন।”

ঘটনার পর ইউএনও মাহবুব আলম ঘটনাস্থলে পৌঁছে মা-মেয়েকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি উপেক্ষা করে উল্টো তাদেরই দোষী করা হয়েছে।

জুবাইদার ছোট ভাই রুবেল জানান, “আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলা চলছে। ন্যায়বিচারের বদলে আমাদের মা ও বোনকে দোষী করা হয়েছে। ওসি ও এসআই পল্লবের যোগসাজশে ইউএনও এমন অন্যায় করেছেন।”

এ ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, জুবাইদা পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে ঘুষের টাকা ফেরত চেয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। ভিডিওতে প্রমাণ মিলেছে যে পুলিশ ও মহিলা পুলিশ কম্পাউন্ডের বাইরে দৌঁড়িয়ে তাদের আটক করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলম সাংবাদিকদের বলেন, “থানায় সরকারি কাজে বাধা এবং এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে হাতাহাতির কারণে সাজা দেওয়া হয়েছে। ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি তদন্তে বেরিয়ে আসবে।”

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খাইরুল আলম বলেন, “মা-মেয়ে পুলিশের ওপর হামলা করেছেন। তাই ইউএনও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে উপযুক্ত সাজা দিয়েছেন। ঘুষের অভিযোগ সম্পর্কে আমি অবগত নই।”

স্থানীয়রা ঘটনার ন্যায়সঙ্গত তদন্ত ও মা-মেয়ের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

পীরগঞ্জে ৩.৫ কোটি টাকায় ১৩ কিমি খাল পুনঃখনন উদ্বোধন

ঘুষ ফেরত চাওয়ায় পেকুয়ায় মা-মেয়ের কারাদণ্ড

Update Time : ০১:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

এনামুল হক রাশেদী, কক্সবাজার:

কক্সবাজারের পেকুয়ায় একটি বিচারপ্রার্থী কলেজছাত্রী এবং তার মাকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম এই দণ্ডাদেশ দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, পেকুয়া থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় মা-মেয়েকে এই শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে।

কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—পেকুয়া উপজেলার সাবেক গুলদি এলাকার মৃত নুরুল আবছারের স্ত্রী রেহেনা মোস্তফা রানু (৩৮) ও তার মেয়ে কলেজছাত্রী জুবাইদা জান্নাত (২৩)।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন নিজেদের পক্ষে পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পেকুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পল্লব তাদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। ভয়ভীতি ও নানা অজুহাতে ওই টাকা আদায় করা হলেও, পরে তিনি প্রতিবেদন প্রতিপক্ষের পক্ষে জমা দেন।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, গত ৪ মার্চ বিকেলে বিষয়টি নিয়ে থানায় গেলে এসআই পল্লব ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং মা-মেয়েকে মারধর করে আটক করেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মনজিলা বেগম জানান, “জুবাইদা যখন টাকা ফেরত চান, তখন এসআই পল্লব চড়াও হন। পরে পুলিশ তাদের আটক করে থানা প্রাঙ্গণ থেকে বের হতে বাধা দেন।”

ঘটনার পর ইউএনও মাহবুব আলম ঘটনাস্থলে পৌঁছে মা-মেয়েকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি উপেক্ষা করে উল্টো তাদেরই দোষী করা হয়েছে।

জুবাইদার ছোট ভাই রুবেল জানান, “আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলা চলছে। ন্যায়বিচারের বদলে আমাদের মা ও বোনকে দোষী করা হয়েছে। ওসি ও এসআই পল্লবের যোগসাজশে ইউএনও এমন অন্যায় করেছেন।”

এ ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, জুবাইদা পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে ঘুষের টাকা ফেরত চেয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। ভিডিওতে প্রমাণ মিলেছে যে পুলিশ ও মহিলা পুলিশ কম্পাউন্ডের বাইরে দৌঁড়িয়ে তাদের আটক করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলম সাংবাদিকদের বলেন, “থানায় সরকারি কাজে বাধা এবং এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে হাতাহাতির কারণে সাজা দেওয়া হয়েছে। ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি তদন্তে বেরিয়ে আসবে।”

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খাইরুল আলম বলেন, “মা-মেয়ে পুলিশের ওপর হামলা করেছেন। তাই ইউএনও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে উপযুক্ত সাজা দিয়েছেন। ঘুষের অভিযোগ সম্পর্কে আমি অবগত নই।”

স্থানীয়রা ঘটনার ন্যায়সঙ্গত তদন্ত ও মা-মেয়ের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।