
মোঃ জালাল উদ্দিন, ফটো সাংবাদিক
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন হিসাব-নিকাশ ও জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে। আদালত ও নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দেবিদ্বারের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরাজ করছে উৎকণ্ঠা, অপেক্ষা এবং সম্ভাব্য বিকল্প সমর্থন নিয়ে আলোচনা।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় রয়েছে—যদি শেষ পর্যন্ত মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন বৈধতা না পায়, তাহলে বিএনপির একটি বড় অংশ গণঅধিকার পরিষদের ‘ট্রাক’ মার্কাকে সমর্থন দিতে পারে। বিষয়টি এখন আর কেবল গুঞ্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং দলীয় পর্যায়ের বক্তব্য ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় তা ধীরে ধীরে স্পষ্ট রূপ নিচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এএফএম তারেক মুন্সী এক সাক্ষাৎকারে বলেন,
“আমরা সবাই চাই মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন বৈধতা পাক। এতে দেবিদ্বারের বিএনপিতে স্বস্তি ফিরে আসবে। তবে যদি শেষ পর্যন্ত তিনি বৈধতা না পান, সেক্ষেত্রে গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক মার্কাকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে আমাদের কেন্দ্রীয় নির্দেশনার অপেক্ষা করতে হবে।”
তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশনা এলে বিএনপি ও এর সকল অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সংগঠিতভাবে ট্রাক মার্কার পক্ষে মাঠে কাজ করতে পারেন।
সরেজমিনে দেবিদ্বার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মনোনয়ন বৈধতা নিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার কারণে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও মনমরা ভাব স্পষ্ট। অনেকেই মনে করছেন, এই আসনে বিএনপির নির্বাচনী ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই আদালত ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, যদি শেষ পর্যন্ত মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী প্রার্থিতার বৈধতা না পান, তবে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপির সকল অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ও ট্রাক মার্কার প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে মাঠে নামতে প্রস্তুত রয়েছেন। এতে দেবিদ্বার আসনের নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির ভোটব্যাংক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংগঠিত। ফলে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে নেওয়া যেকোনো সিদ্ধান্ত এই আসনের নির্বাচনী ফলাফলে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বিকল্প সমর্থনের সিদ্ধান্ত এলে তা শুধু স্থানীয় রাজনীতিতেই নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
এদিকে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আ. জসিম উদ্দিন ইতোমধ্যেই মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় তার গণসংযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, বিএনপির সাংগঠনিক সমর্থন পেলে ট্রাক মার্কার প্রচারণা আরও গতি ও শক্তি পেতে পারে।
সব মিলিয়ে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের রাজনীতি এখন দাঁড়িয়ে আছে এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে। প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে আদালত ও নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন। সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন, তা আসন্ন নির্বাচনে এই আসনের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন মোড় আনতে পারে—এ বিষয়ে একমত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা।

Reporter Name 









