
মল্লিক এম.আই বুলবুল সোহেল, পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি:
বরগুনার পাথরঘাটায় ফাঁদ পেতে বন্যপ্রাণী হরিণ নিধনের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে স্বামীকে তালাক দিয়েছেন তার স্ত্রী। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, গত সোমবার (০২ মার্চ ২০২৬) রাতে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের বাদুরতলার খাল এলাকায় বন বিভাগ ও যৌথ বাহিনীর একটি ঝটিকা অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার থেকে দুটি জবাই করা হরিণ এবং ৯০০টি বিশেষ ফাঁদ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে মো. হানিফ (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
আটক হানিফ পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের হাঁড়িটানা গ্রামের বাসিন্দা। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলেন।
গ্রেপ্তারের পর তাকে পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক মো. পনির শেখ এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
আদালতের নির্দেশে জব্দ করা হরিণের চামড়া ও শিং সরকারিভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মাংস কেরোসিন মিশিয়ে মাটিচাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে বলে বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে স্বামীর এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সামাজিকভাবে লজ্জিত হয়ে তাকে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন স্ত্রী শাহীনুর বেগম (৪০)। তিনি বলেন, “হানিফ আগে সাগরে মাছ ধরতেন। কিন্তু ইদানীং তিনি অবৈধভাবে হরিণ শিকারে জড়িয়ে পড়েন। পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার নিষেধ করা হলেও তিনি কথা শোনেননি।”
শাহীনুর বেগমের ছোট ভাই জহিরুল ইসলাম, যিনি পাথরঘাটা সদর বিট কার্যালয়ে বন বিভাগের মালির দায়িত্বে কর্মরত, বলেন, “হানিফের এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে বন বিভাগে আমার কাজ করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। বহুবার সতর্ক করার পরও তিনি বিরত হননি। পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে আমার বোন এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।”
স্থানীয়রা বলছেন, বন্যপ্রাণী নিধনের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় একটি পরিবারের ভাঙনের ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Reporter Name 


















