
দেলোয়ার হোসেন, গাজীপুর | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
গাজীপুরের ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে বিএনপি আয়োজিত জনসভা রূপ নেয় এক অভূতপূর্ব জনসমুদ্রে। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় আনুষ্ঠানিকভাবে জনসভা শুরু হলেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য শোনার অপেক্ষায় গভীর রাত পর্যন্ত মাঠ ও আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা ছিল লোকে লোকারণ্য।
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাজীপুর জেলার পাঁচটি আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া ও ভোট প্রার্থনার লক্ষ্যে এ জনসভার আয়োজন করা হয়।
দীর্ঘ দুই দশক পর প্রিয় নেতাকে সরাসরি দেখা ও তাঁর বক্তব্য শোনার আগ্রহে দুপুর থেকেই গাজীপুরের বিভিন্ন থানা ও ইউনিয়ন থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে সমবেত হতে থাকেন। জনসভা শুরুর আগেই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। ভিড় ছড়িয়ে পড়ে শিববাড়ি থেকে জোড়পুকুর পাড় এবং তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ এলাকা পর্যন্ত।
অত্যধিক জনস্রোতের কারণে চান্দনা চৌরাস্তা থেকে সভাস্থলে পৌঁছাতে তারেক রহমানের গাড়িবহরের প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। এ সময় অনেক নেতাকর্মীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রিয় নেতার সঙ্গে সেলফি তুলতে দেখা যায়।
রাত পৌনে ১২টার দিকে স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে মঞ্চে উপস্থিত হন তারেক রহমান। বক্তব্যের শুরুতেই বিলম্বের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি জানান, বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশের নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য ‘ফ্যামেলি কার্ড’ এবং কৃষকদের উন্নয়নে ‘কৃষি কার্ড’ চালু করা হবে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে।
তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পোশাক শিল্পে অবদান এবং বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে নারী শিক্ষায় অবৈতনিক সুবিধার কথা স্মরণ করেন। একই সঙ্গে গাজীপুরের পোশাক শিল্পকে আরও সম্প্রসারণ করে নারী শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য আধুনিক ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন।
গাজীপুরের সঙ্গে নিজের গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তারেক রহমান বলেন,
“গাজীপুর রাজবাড়ীর দক্ষিণ পাশের একটি লাল বাসায় আমার শৈশব কেটেছে। এই মাঠেই আমি খেলেছি। তাই গাজীপুরের মানুষের সঙ্গে আমার সম্পর্ক আলাদা।”
তিনি গাজীপুরের যানজট নিরসনে জয়দেবপুর রেলগেট এলাকায় ফ্লাইওভার নির্মাণ এবং তুরাগ, চিলাই ও শালদহ নদী খনন ও দূষণমুক্ত করার বিশেষ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
নির্বাচন নিয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,
“তাহাজ্জুদ পড়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন, ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করে লাইনে দাঁড়াবেন। লক্ষ্য রাখবেন, আপনাদের আগে যেন অন্য কেউ কেন্দ্রে ঢুকতে না পারে।”
পরে তিনি গাজীপুরের পাঁচটি আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের মঞ্চে পরিচয় করিয়ে দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।
গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মঞ্জুরুল করিম রনি ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ব্যারিস্টার ইসরাক আহমেদ সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

Reporter Name 









