গাজীপুর , রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :

কালিয়াকৈরে রেলওয়ে জমি দখল ও অবৈধ ঘর নির্মাণে উত্তেজনা

  • Reporter Name
  • Update Time : ৩ ঘন্টা আগে
  • ১০ Time View

কালিয়াকৈর, গাজীপুর প্রতিনিধিঃ

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার পূর্ব চান্দ্রা মাটিকাটা রেললাইন বটতলা এলাকায় আবারও কালিয়াকৈর রেলওয়ে জমি দখল করে ব্যাপকভাবে অবৈধ ঘর নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের অভিযোগ, সরকারি রেলওয়ের মূল্যবান জমি দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র দখল করে নিচ্ছে এবং সেখানে টিনশেড ঘর নির্মাণ করে ভাড়া ও দখল বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে ৫ আগস্টের পূর্বে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে ওই এলাকায় থাকা সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছিল। কিন্তু সেই অভিযান শেষ হওয়ার কয়েক মাস না যেতেই আবারও একই স্থানে নতুন করে দখল কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে রেললাইনের দুই পাশজুড়ে প্রায় ২০০টির মতো ছোট ছোট টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ফরহাদ ফকির নামে একজন ব্যক্তি ৮টি ঘর, আক্কাস ১২টি, খলিল ভান্ডারী ৯টি, সাইফুল ৯টি, চিত্তরঞ্জন ৪টি এবং আবু বক্কর ২টি ঘর নির্মাণ করেছেন। এছাড়া রেফাজ ডাক্তার নামে পরিচিত একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নেতৃত্বে অন্তত আরও ২০টির বেশি ঘর নির্মাণাধীন রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মোট ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তি একত্রিত হয়ে এই দখল বাণিজ্যে সক্রিয়ভাবে জড়িত।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রেললাইনের খুব কাছাকাছি অবৈধভাবে নির্মিত ঘরগুলো ঘন ঘন স্থাপিত হওয়ায় রেল চলাচলের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, এসব ঘর নির্মাণে কোনো ধরনের অনুমতি নেওয়া হয়নি। বরং প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে “ম্যানেজ” করে প্রকাশ্যে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এখানে দীর্ঘদিন ধরে একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে। তারা রেলওয়ের জমি দখল করে ঘর বানিয়ে ভাড়া দেয় এবং নিয়মিত টাকা আদায় করে। এতে সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে পারছে না।

অন্যদিকে খলিল ভান্ডারী দাবি করেছেন, তিনি জিয়া নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকায় জায়গাটি কিনেছেন। তবে রেলওয়ের জমি কেনাবেচার এই দাবি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে ইতোমধ্যে কিছু ঘরে পরিবার বসবাস শুরু করেছে এবং কিছু ঘর ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। এতে করে শুধু সরকারি সম্পত্তি বেদখলই হচ্ছে না, বরং রেললাইনের নিরাপত্তাও মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে উপসহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানিয়েছেন, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে এবং খুব দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.এইচ.এম. ফখরুল হোসাইন বলেন, রেলওয়ের সরকারি জমি দখল করে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তারা বলছেন, কালিয়াকৈর রেলওয়ে জমি দখল বন্ধ না হলে সরকারি সম্পত্তি চিরতরে হারিয়ে যাবে এবং অবৈধ ঘর নির্মাণ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

পীরগঞ্জে ৩.৫ কোটি টাকায় ১৩ কিমি খাল পুনঃখনন উদ্বোধন

কালিয়াকৈরে রেলওয়ে জমি দখল ও অবৈধ ঘর নির্মাণে উত্তেজনা

Update Time : ৩ ঘন্টা আগে

কালিয়াকৈর, গাজীপুর প্রতিনিধিঃ

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার পূর্ব চান্দ্রা মাটিকাটা রেললাইন বটতলা এলাকায় আবারও কালিয়াকৈর রেলওয়ে জমি দখল করে ব্যাপকভাবে অবৈধ ঘর নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের অভিযোগ, সরকারি রেলওয়ের মূল্যবান জমি দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র দখল করে নিচ্ছে এবং সেখানে টিনশেড ঘর নির্মাণ করে ভাড়া ও দখল বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে ৫ আগস্টের পূর্বে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে ওই এলাকায় থাকা সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছিল। কিন্তু সেই অভিযান শেষ হওয়ার কয়েক মাস না যেতেই আবারও একই স্থানে নতুন করে দখল কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে রেললাইনের দুই পাশজুড়ে প্রায় ২০০টির মতো ছোট ছোট টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ফরহাদ ফকির নামে একজন ব্যক্তি ৮টি ঘর, আক্কাস ১২টি, খলিল ভান্ডারী ৯টি, সাইফুল ৯টি, চিত্তরঞ্জন ৪টি এবং আবু বক্কর ২টি ঘর নির্মাণ করেছেন। এছাড়া রেফাজ ডাক্তার নামে পরিচিত একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নেতৃত্বে অন্তত আরও ২০টির বেশি ঘর নির্মাণাধীন রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মোট ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তি একত্রিত হয়ে এই দখল বাণিজ্যে সক্রিয়ভাবে জড়িত।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রেললাইনের খুব কাছাকাছি অবৈধভাবে নির্মিত ঘরগুলো ঘন ঘন স্থাপিত হওয়ায় রেল চলাচলের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, এসব ঘর নির্মাণে কোনো ধরনের অনুমতি নেওয়া হয়নি। বরং প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে “ম্যানেজ” করে প্রকাশ্যে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এখানে দীর্ঘদিন ধরে একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে। তারা রেলওয়ের জমি দখল করে ঘর বানিয়ে ভাড়া দেয় এবং নিয়মিত টাকা আদায় করে। এতে সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে পারছে না।

অন্যদিকে খলিল ভান্ডারী দাবি করেছেন, তিনি জিয়া নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকায় জায়গাটি কিনেছেন। তবে রেলওয়ের জমি কেনাবেচার এই দাবি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে ইতোমধ্যে কিছু ঘরে পরিবার বসবাস শুরু করেছে এবং কিছু ঘর ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। এতে করে শুধু সরকারি সম্পত্তি বেদখলই হচ্ছে না, বরং রেললাইনের নিরাপত্তাও মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে উপসহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানিয়েছেন, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে এবং খুব দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.এইচ.এম. ফখরুল হোসাইন বলেন, রেলওয়ের সরকারি জমি দখল করে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তারা বলছেন, কালিয়াকৈর রেলওয়ে জমি দখল বন্ধ না হলে সরকারি সম্পত্তি চিরতরে হারিয়ে যাবে এবং অবৈধ ঘর নির্মাণ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।