গাজীপুর , বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন দেলোয়ার হোসেন | মাতৃজগত পরিবারের বার্তা গাজীপুরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা শওকত হোসেন সরকারের গাজীপুর মহানগরবাসীকে ঈদুল ফিতরের আন্তরিক শুভেচ্ছা। গাজীপুর ১৮নং ওয়ার্ড প্রার্থী মনিরুজ্জামানের ঈদ শুভেচ্ছা গাজীপুরবাসীকে ঈদ শুভেচ্ছা ও নিরাপদ যাত্রার আহ্বান চট্টগ্রামে জমজমাট ঈদের কেনাকাটা, টুপি ও নতুন নোটে আগ্রহ ফরিদপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিধন ও ড্রেন-খাল পরিষ্কার অভিযান শুরু পাঁচবিবিতে পুকুরে বিষে মাছ নিধন, চাষির ১০ লাখ টাকার ক্ষতি পীরগঞ্জে আকস্মিক বৃষ্টিতে কৃষকের ফসল নষ্ট, বিপাকে ক্ষুদ্র চাষি ঈদ শুভেচ্ছায় লিটন খান, গড়তে চান মাদকমুক্ত ৫ নং ওয়ার্ড
ভোটের হাওয়া
পার্বত্য তিন জেলা পরিষদ নির্বাচন: প্রধানমন্ত্রীর কাছে সমঅধিকার দাবি কালিয়াকৈরে মানবিক নেতা সাইজুদ্দিন আহমেদ কালিয়াকৈর পৌরসভা: দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত উদ্যোগে জসিম উদ্দিন চট্টগ্রামে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মিদের খুঁজছে পুলিশ গাজীপুরে ঝুট ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলা, লুটপাট ও ককটেল সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় নাসরিন রহমান পপি শহরের মতো গ্রাম গড়ার অঙ্গীকার আলা উদ্দিনের শ্রীপুরে মাওনা–উজিলাব সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন নকলায় এমপির সাথে এবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক নেতাদের সাক্ষাৎ চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৪ এপ্রিল

মাধবদীতে আমেনা হত্যা: মূল হোতা সৎ বাবা গ্রেপ্তার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
  • ৮ Time View

মাধবদীতে আমেনা হত্যা: মূল হোতা সৎ বাবা গ্রেপ্তার, নেপথ্যে ‘সামাজিক ক্ষোভ’ ও দলবদ্ধ ধর্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, নরসিংদী | ০৭ মার্চ, ২০২৬

নরসিংদীর মাধবদীতে দেশজুড়ে আলোচিত আমেনা হত্যাকাণ্ডের জট খুলেছে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ জানিয়েছে, আমেনার সৎ বাবা মোঃ আশরাফ আলীই এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও ঘাতক। মূলত পারিবারিক কলহ এবং সামাজিক লোকলজ্জার ক্ষোভ থেকে নিজের সন্তানতুল্য মেয়েকে ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করেন তিনি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা

পুলিশি তদন্ত ও ঘাতক আশরাফ আলীর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাতে এক পরিকল্পিত ছক সাজানো হয়। সহকর্মী সুমনের বাড়িতে যাওয়ার নাম করে আমেনাকে সাথে নিয়ে বের হন আশরাফ। পথিমধ্যে নির্জন স্থানে আমেনার নিজের ওড়না দিয়েই তার গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আশরাফ আলী জানান, আমেনার কিছু ব্যক্তিগত আচরণ ও ‘অসামাজিক কর্মকাণ্ডে’ তিনি অতিষ্ঠ ছিলেন। সমাজের মানুষের কাছে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার হাত থেকে বাঁচতেই তিনি এই চরম পথ বেছে নেন।

হত্যাকাণ্ডের আগে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার আমেনা

তদন্তে বেরিয়ে এসেছে আরও এক ভয়াবহ তথ্য। হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১০-১২ দিন আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে হযরত আলীর বাড়িতে আমেনাকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। এই পাশবিকতায় জড়িত ছিলেন হযরত আলী, এবাদুল্লাহ, জামান ও গাফফার। এছাড়া আমেনার প্রেমিক নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা প্রেমের সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন।

সাঁড়াশি অভিযানে ৯ জন গ্রেপ্তার

ঘটনার পর থেকে গাজীপুর, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন:

মোঃ আশরাফ আলী (৪০): ভিকটিমের সৎ পিতা ও প্রধান অভিযুক্ত।

নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮): ভিকটিমের প্রেমিক।

ধর্ষণ ও সংশ্লিষ্টতায় অভিযুক্ত: এবাদুল্লাহ (৪০), হযরত আলী (৪০), গাফফার (৩৭)।

সহযোগিতার অভিযোগে: আহাম্মদ আলী মেম্বার (৬৫), মোঃ ইমরান দেওয়ান (৩২), মোঃ আইয়ুব (৩০) এবং ইছাহাক ওরফে ইছা (৪০)।

আইনি পদক্ষেপ

এই নৃশংস ঘটনায় মাধবদী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় (মামলা নং ২৫, তারিখ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত আশরাফ আলীসহ নূরা ও হযরত আলী আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশের বক্তব্য: “এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমরা মূল হোতাসহ ৪ জন ধর্ষককে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। আমেনাকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম এবং তথ্য সংগ্রহের কাজ এখনও অব্যাহত রয়েছে।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন দেলোয়ার হোসেন | মাতৃজগত পরিবারের বার্তা

মাধবদীতে আমেনা হত্যা: মূল হোতা সৎ বাবা গ্রেপ্তার

Update Time : ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

মাধবদীতে আমেনা হত্যা: মূল হোতা সৎ বাবা গ্রেপ্তার, নেপথ্যে ‘সামাজিক ক্ষোভ’ ও দলবদ্ধ ধর্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, নরসিংদী | ০৭ মার্চ, ২০২৬

নরসিংদীর মাধবদীতে দেশজুড়ে আলোচিত আমেনা হত্যাকাণ্ডের জট খুলেছে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ জানিয়েছে, আমেনার সৎ বাবা মোঃ আশরাফ আলীই এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও ঘাতক। মূলত পারিবারিক কলহ এবং সামাজিক লোকলজ্জার ক্ষোভ থেকে নিজের সন্তানতুল্য মেয়েকে ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করেন তিনি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা

পুলিশি তদন্ত ও ঘাতক আশরাফ আলীর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাতে এক পরিকল্পিত ছক সাজানো হয়। সহকর্মী সুমনের বাড়িতে যাওয়ার নাম করে আমেনাকে সাথে নিয়ে বের হন আশরাফ। পথিমধ্যে নির্জন স্থানে আমেনার নিজের ওড়না দিয়েই তার গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আশরাফ আলী জানান, আমেনার কিছু ব্যক্তিগত আচরণ ও ‘অসামাজিক কর্মকাণ্ডে’ তিনি অতিষ্ঠ ছিলেন। সমাজের মানুষের কাছে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার হাত থেকে বাঁচতেই তিনি এই চরম পথ বেছে নেন।

হত্যাকাণ্ডের আগে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার আমেনা

তদন্তে বেরিয়ে এসেছে আরও এক ভয়াবহ তথ্য। হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১০-১২ দিন আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে হযরত আলীর বাড়িতে আমেনাকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। এই পাশবিকতায় জড়িত ছিলেন হযরত আলী, এবাদুল্লাহ, জামান ও গাফফার। এছাড়া আমেনার প্রেমিক নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা প্রেমের সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন।

সাঁড়াশি অভিযানে ৯ জন গ্রেপ্তার

ঘটনার পর থেকে গাজীপুর, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন:

মোঃ আশরাফ আলী (৪০): ভিকটিমের সৎ পিতা ও প্রধান অভিযুক্ত।

নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮): ভিকটিমের প্রেমিক।

ধর্ষণ ও সংশ্লিষ্টতায় অভিযুক্ত: এবাদুল্লাহ (৪০), হযরত আলী (৪০), গাফফার (৩৭)।

সহযোগিতার অভিযোগে: আহাম্মদ আলী মেম্বার (৬৫), মোঃ ইমরান দেওয়ান (৩২), মোঃ আইয়ুব (৩০) এবং ইছাহাক ওরফে ইছা (৪০)।

আইনি পদক্ষেপ

এই নৃশংস ঘটনায় মাধবদী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় (মামলা নং ২৫, তারিখ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত আশরাফ আলীসহ নূরা ও হযরত আলী আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশের বক্তব্য: “এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমরা মূল হোতাসহ ৪ জন ধর্ষককে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। আমেনাকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম এবং তথ্য সংগ্রহের কাজ এখনও অব্যাহত রয়েছে।”