গাজীপুর , রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :

বিএনপি নেতা আল-আমীনকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ, তারেক রহমানের দৃষ্টি কামনা পরিবারের

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৮ Time View

বিএনপি নেতা আল-আমীনকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ, তারেক রহমানের দৃষ্টি কামনা পরিবারের

স্টাফ রিপোর্টার :

চাঁদপুর জেলার কল্যাণপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক যুবনেতা ও বিএনপির রাজপথের পরীক্ষিত কর্মী আল-আমীনকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার করে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছে তার পরিবার।

আল-আমীনের পরিবার জানায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। তিনি কল্যাণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুবনেতা, শফিকুর রহমান ভূঁইয়া কমিটির নেতা এবং চাঁদপুর জেলা যুবদলের সম্মানিত সদস্য। ২০০৯ সালে তেজগাঁও থানা এলাকায় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। কামাল আহমেদ আসাদের সঙ্গে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন পর্যায়ে দলের কর্মসূচিতে অংশ নেন।

পরিবারের দাবি, ২০১৪ সালের আন্দোলন, ২০১৮ সালের নির্বাচনী প্রচারণা এবং ২০২৪ সালের ঢাকার আন্দোলনসহ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন আল-আমীন। ২০১৮ সালে দাসাদী বাজার এলাকায় বিএনপির পক্ষে একমাত্র ক্যাম্প পরিচালনাও করা হয় তার নেতৃত্বে।

আল-আমীনের স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, ৫ আগস্টের পর চাঁদপুর জেলা বিএনপিতে গ্রুপিং রাজনীতি শুরু হয় এবং আওয়ামী লীগের দোসরদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় আল-আমীনের সঙ্গে জেলা বিএনপির একটি প্রভাবশালী অংশের শত্রুতা তৈরি হয়। এরই জেরে তাকে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত মো. শাওন—যিনি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন—বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলার নম্বর উল্লেখ করে পরিবার জানায়, কোনো ধরনের সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়াই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আল-আমীনকে ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে চাঁদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

আল-আমীনের স্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, চাঁদপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বাহার মিয়া আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তদন্ত ছাড়াই গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করেন। যদিও আল-আমীনের বিরুদ্ধে কখনো চাঁদা দাবি, হুমকি কিংবা অপরাধমূলক কোনো কর্মকাণ্ডের প্রমাণ নেই।

পরিবারের দাবি, আল-আমীনের পক্ষে চাঁদপুর আদালতে কোনো আইনজীবী দাঁড়াতে পারছেন না। জেলা বিএনপির ঘনিষ্ঠ আইনজীবীদের প্রভাবের কারণে আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়। এমনকি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েও কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

আল-আমীনের পরিবার প্রশ্ন তুলে বলেন, একজন বাংলাদেশি নাগরিক ও বিএনপির পরীক্ষিত কর্মী হয়েও কেন তিনি আইনজীবী নিয়োগ ও ন্যায়বিচারের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন?

এ বিষয়ে আল-আমীনের পরিবার বিএনপির হাইকমান্ড এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সামনে জাতীয় নির্বাচন। এই সময়ে দলের ভেতরে বিভাজন ও মিথ্যা মামলার রাজনীতি বন্ধ হওয়া জরুরি। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে আল-আমীনের মুক্তির দাবি জানান।

পরিবারের শেষ বক্তব্য—“বিএনপি করা কি আজ অপরাধ? আওয়ামী দোসরদের প্রতিবাদ করাই কি আল-আমীনের অপরাধ?”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Motaleb Hossain

পীরগঞ্জে ৩.৫ কোটি টাকায় ১৩ কিমি খাল পুনঃখনন উদ্বোধন

বিএনপি নেতা আল-আমীনকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ, তারেক রহমানের দৃষ্টি কামনা পরিবারের

Update Time : ০৪:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

বিএনপি নেতা আল-আমীনকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ, তারেক রহমানের দৃষ্টি কামনা পরিবারের

স্টাফ রিপোর্টার :

চাঁদপুর জেলার কল্যাণপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক যুবনেতা ও বিএনপির রাজপথের পরীক্ষিত কর্মী আল-আমীনকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার করে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছে তার পরিবার।

আল-আমীনের পরিবার জানায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। তিনি কল্যাণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুবনেতা, শফিকুর রহমান ভূঁইয়া কমিটির নেতা এবং চাঁদপুর জেলা যুবদলের সম্মানিত সদস্য। ২০০৯ সালে তেজগাঁও থানা এলাকায় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। কামাল আহমেদ আসাদের সঙ্গে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন পর্যায়ে দলের কর্মসূচিতে অংশ নেন।

পরিবারের দাবি, ২০১৪ সালের আন্দোলন, ২০১৮ সালের নির্বাচনী প্রচারণা এবং ২০২৪ সালের ঢাকার আন্দোলনসহ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন আল-আমীন। ২০১৮ সালে দাসাদী বাজার এলাকায় বিএনপির পক্ষে একমাত্র ক্যাম্প পরিচালনাও করা হয় তার নেতৃত্বে।

আল-আমীনের স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, ৫ আগস্টের পর চাঁদপুর জেলা বিএনপিতে গ্রুপিং রাজনীতি শুরু হয় এবং আওয়ামী লীগের দোসরদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় আল-আমীনের সঙ্গে জেলা বিএনপির একটি প্রভাবশালী অংশের শত্রুতা তৈরি হয়। এরই জেরে তাকে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত মো. শাওন—যিনি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন—বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলার নম্বর উল্লেখ করে পরিবার জানায়, কোনো ধরনের সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়াই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আল-আমীনকে ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে চাঁদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

আল-আমীনের স্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, চাঁদপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বাহার মিয়া আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তদন্ত ছাড়াই গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করেন। যদিও আল-আমীনের বিরুদ্ধে কখনো চাঁদা দাবি, হুমকি কিংবা অপরাধমূলক কোনো কর্মকাণ্ডের প্রমাণ নেই।

পরিবারের দাবি, আল-আমীনের পক্ষে চাঁদপুর আদালতে কোনো আইনজীবী দাঁড়াতে পারছেন না। জেলা বিএনপির ঘনিষ্ঠ আইনজীবীদের প্রভাবের কারণে আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়। এমনকি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েও কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

আল-আমীনের পরিবার প্রশ্ন তুলে বলেন, একজন বাংলাদেশি নাগরিক ও বিএনপির পরীক্ষিত কর্মী হয়েও কেন তিনি আইনজীবী নিয়োগ ও ন্যায়বিচারের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন?

এ বিষয়ে আল-আমীনের পরিবার বিএনপির হাইকমান্ড এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সামনে জাতীয় নির্বাচন। এই সময়ে দলের ভেতরে বিভাজন ও মিথ্যা মামলার রাজনীতি বন্ধ হওয়া জরুরি। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে আল-আমীনের মুক্তির দাবি জানান।

পরিবারের শেষ বক্তব্য—“বিএনপি করা কি আজ অপরাধ? আওয়ামী দোসরদের প্রতিবাদ করাই কি আল-আমীনের অপরাধ?”