গাজীপুর , সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
ভোটের হাওয়া
পার্বত্য তিন জেলা পরিষদ নির্বাচন: প্রধানমন্ত্রীর কাছে সমঅধিকার দাবি কালিয়াকৈরে মানবিক নেতা সাইজুদ্দিন আহমেদ কালিয়াকৈর পৌরসভা: দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত উদ্যোগে জসিম উদ্দিন চট্টগ্রামে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মিদের খুঁজছে পুলিশ গাজীপুরে ঝুট ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলা, লুটপাট ও ককটেল সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় নাসরিন রহমান পপি শহরের মতো গ্রাম গড়ার অঙ্গীকার আলা উদ্দিনের শ্রীপুরে মাওনা–উজিলাব সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন নকলায় এমপির সাথে এবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক নেতাদের সাক্ষাৎ চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৪ এপ্রিল

গাজীপুরে বকেয়া বিলের দাবিতে শ্রমিকদের কর্মবিরতি, ভাঙচুর।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩১ Time View

মোঃসুলতান মাহমুদ, স্টাফ রিপোর্টার।

গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে বকেয়া নাইট বিল ও বাৎসরিক ছুটির টাকার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করেছে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।

কোনাবাড়ী জরুন এলাকায় ‘রিপন নীট ওয়্যার লিমিটেড কারখানার’ পোশাক শ্রমিকরা বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে এ কর্মবিরতি শুরু করেন।

এক পর্যায়ে শ্রমিকরা কারখানার কয়েকজন কর্মকর্তাকে লাঞ্চিত ও ভেতরে ভাঙচুর শুরু করে। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে বিকালে পাওনা পরিশোধ শুরু হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ কোনাবাড়ী জোনের পরিদর্শক মো. মোর্শেদ জামান বলেন, “কারখানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শিল্প পুলিশের পাশাপাশি পর্যাপ্ত মেট্রোপলিটন পুলিশও মোতায়েন করা হয়। বকেয়া নাইট বিল দেওয়া শুরু করলে শ্রমিকরা আন্দোলন ছেড়ে বেড়িয়ে যায়।”

পুলিশ ও আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত তিন মাসের বকেয়া নাইট বিল ও বাৎসরিক ছুটির টাকার দাবিতে শ্রমিকরা বুধবার বেলা ১২টা থেকে কর্মবিরতি শুরু করে। সেদিন বিকাল ৫টার দিকে আন্দোলন স্থগিত করে করে চলে যান তারা।

একই দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার সময় শ্রমিকরা কারখানাতে গিয়ে আবারও কর্মবিরতি শুরু করেন। এ সময় পাওনা পরিশোধ নিয়ে কারখানার কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে শ্রমিকদের তর্কবিতর্ক শুরু হয়।

এক পর্যায়ে শ্রমিককরা তাদের শারীরিকভাবে ‘লাঞ্ছিত’ করে। পরে শ্রমিকরা সবাই কারখানার এসেম্বলিতে গিয়ে অবস্থান নেয় এবং কারখানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বকেয়া পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা ভাঙচুর বন্ধ করে কারখানার ভেতরে অবস্থান নেয়।

রিপন নীট ওয়্যার লিমিটেডের কাটিং সেকশনের এক অপারেটর (নাম প্রকাশ করতে চাননি) বলছিলেন, প্রতিদিন রাত ১১-১২টা পর্যন্ত তারা ডিউটি করেন। অথচ ঠিক মতো নাইট বিল পরিশোধ করে না কারখানা কর্তৃপক্ষ। রোজার মাসেও রাত ১১টা পর্যন্ত ডিউটি করতে হয়।

ওই সেকশনের ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, শ্রমিকরা একই দাবিতে তারা বুধবার আন্দোলন করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার পর থেকে আবার আন্দোলন শুরু হয়। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা স্টাফদের ওপর হামলা চালিয়ে কারখানায় ভাঙচুর করে।

তিনি বলেন, “আমি কোনোমতে পালিয়ে রক্ষা পেয়েছি।”

এসব বিষয়ে রিপন নীট ওয়্যার লিমিটেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাদ্দাম হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিন মাসের বকেয়া নাইট বিল ও বাৎসরিক ছুটির মধ্যে এক মাসের লাইট বিল পরিশোধের আশ্বাস দিলেও শ্রমিকরা তা না মেনে আন্দোলন অব্যাহত রাখে। পরে মালিক তাদের তিন মাসের নাইট বিল এবং রোববার বাৎসরিক ছুটির বকেয়া টাকা পরিশোধ করার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

বিকাল ৩টার দিকে নাইট বিল দেওয়া শুরু হয় বলে জানান তিনি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গাজীপুরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা শওকত হোসেন সরকারের

গাজীপুরে বকেয়া বিলের দাবিতে শ্রমিকদের কর্মবিরতি, ভাঙচুর।

Update Time : ০৪:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মোঃসুলতান মাহমুদ, স্টাফ রিপোর্টার।

গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে বকেয়া নাইট বিল ও বাৎসরিক ছুটির টাকার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করেছে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।

কোনাবাড়ী জরুন এলাকায় ‘রিপন নীট ওয়্যার লিমিটেড কারখানার’ পোশাক শ্রমিকরা বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে এ কর্মবিরতি শুরু করেন।

এক পর্যায়ে শ্রমিকরা কারখানার কয়েকজন কর্মকর্তাকে লাঞ্চিত ও ভেতরে ভাঙচুর শুরু করে। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে বিকালে পাওনা পরিশোধ শুরু হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ কোনাবাড়ী জোনের পরিদর্শক মো. মোর্শেদ জামান বলেন, “কারখানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শিল্প পুলিশের পাশাপাশি পর্যাপ্ত মেট্রোপলিটন পুলিশও মোতায়েন করা হয়। বকেয়া নাইট বিল দেওয়া শুরু করলে শ্রমিকরা আন্দোলন ছেড়ে বেড়িয়ে যায়।”

পুলিশ ও আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত তিন মাসের বকেয়া নাইট বিল ও বাৎসরিক ছুটির টাকার দাবিতে শ্রমিকরা বুধবার বেলা ১২টা থেকে কর্মবিরতি শুরু করে। সেদিন বিকাল ৫টার দিকে আন্দোলন স্থগিত করে করে চলে যান তারা।

একই দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার সময় শ্রমিকরা কারখানাতে গিয়ে আবারও কর্মবিরতি শুরু করেন। এ সময় পাওনা পরিশোধ নিয়ে কারখানার কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে শ্রমিকদের তর্কবিতর্ক শুরু হয়।

এক পর্যায়ে শ্রমিককরা তাদের শারীরিকভাবে ‘লাঞ্ছিত’ করে। পরে শ্রমিকরা সবাই কারখানার এসেম্বলিতে গিয়ে অবস্থান নেয় এবং কারখানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বকেয়া পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা ভাঙচুর বন্ধ করে কারখানার ভেতরে অবস্থান নেয়।

রিপন নীট ওয়্যার লিমিটেডের কাটিং সেকশনের এক অপারেটর (নাম প্রকাশ করতে চাননি) বলছিলেন, প্রতিদিন রাত ১১-১২টা পর্যন্ত তারা ডিউটি করেন। অথচ ঠিক মতো নাইট বিল পরিশোধ করে না কারখানা কর্তৃপক্ষ। রোজার মাসেও রাত ১১টা পর্যন্ত ডিউটি করতে হয়।

ওই সেকশনের ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, শ্রমিকরা একই দাবিতে তারা বুধবার আন্দোলন করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার পর থেকে আবার আন্দোলন শুরু হয়। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা স্টাফদের ওপর হামলা চালিয়ে কারখানায় ভাঙচুর করে।

তিনি বলেন, “আমি কোনোমতে পালিয়ে রক্ষা পেয়েছি।”

এসব বিষয়ে রিপন নীট ওয়্যার লিমিটেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাদ্দাম হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিন মাসের বকেয়া নাইট বিল ও বাৎসরিক ছুটির মধ্যে এক মাসের লাইট বিল পরিশোধের আশ্বাস দিলেও শ্রমিকরা তা না মেনে আন্দোলন অব্যাহত রাখে। পরে মালিক তাদের তিন মাসের নাইট বিল এবং রোববার বাৎসরিক ছুটির বকেয়া টাকা পরিশোধ করার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

বিকাল ৩টার দিকে নাইট বিল দেওয়া শুরু হয় বলে জানান তিনি।