
মোঃ রাসেল মিয়া গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুর সদর উপজেলার অধীন কাউলতিয়া ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে চলছে অবৈধভাবে মাটি কাটার মহোৎসব। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্র প্রশাসনের চোখের সামনে ফসলি জমি ও নদীর পাড় কেটে কোটি টাকার মাটি বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। এতে কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হওয়া ছাড়াও পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত ট্রাক ও ডাম্পারযোগে মাটি পরিবহন করা হয়। দিনের আলো ফোটার আগেই শত শত ঘনফুট মাটি বিভিন্ন ইটভাটা, বাড়ি নির্মাণ প্রকল্প ও শিল্পকারখানায় সরবরাহ করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের পেছনে স্থানীয় ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কিছু কথিত নেতা এবং প্রভাবশালী মহল জড়িত।
কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বছরের পর বছর চাষাবাদ করা উর্বর জমি এক রাতেই খাদের রূপ নিচ্ছে। জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি তুলে নেওয়ায় ভবিষ্যতে সেখানে ফসল ফলানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। এতে কৃষকের জীবন-জীবিকা মারাত্মক সংকটে পড়বে।
পরিবেশবিদদের মতে, নির্বিচারে মাটি কাটার ফলে ভূমিক্ষয়, জলাবদ্ধতা এবং বর্ষা মৌসুমে বন্যার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। নদীর পাড় কেটে নেওয়ায় ভাঙন তীব্র হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তারা সতর্ক করে বলেন, এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে এর দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ক্ষতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
এ বিষয়ে গাজীপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, সম্প্রতি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আইনি ব্যবস্থা চলমান রয়েছে। প্রয়োজন হলে আবারও অভিযান চালানো হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে স্থানীয়দের দাবি, সাময়িক জরিমানা দিয়ে এ অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ হবে না। নিয়মিত নজরদারি, জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং প্রশাসনের কঠোর অবস্থান ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত ও জোরালো অভিযান চালিয়ে অবৈধ মাটি কাটা সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে এবং পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Reporter Name 


















