
মো শাহজাহান কবির প্রধান পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার এক কৃষক কুমড়া চাষ করে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, নিম্নমানের বীজ সরবরাহের কারণে ১৮০ বিঘা জমিতে গাছ হলেও একটিও কুমড়া ধরেনি। এতে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. সাজ্জাদ হোসেন।
জানা গেছে, বোদা উপজেলার লাঙ্গল গ্রামের কৃষক মো. সাজ্জাদ হোসেন চলতি মৌসুমে ৬০ একর জমি লিজ নিয়ে আলু ও কুমড়া চাষের পরিকল্পনা করেন। পরে তিনি “ব্যাংকক সুইট-২” জাতের কুমড়ার বীজ কিনে জমিতে রোপণ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, “আলমগীর সীড কোম্পানি”র কাছ থেকে গত ২৬ জানুয়ারি প্রায় ১০ কেজি ৬০০ গ্রাম বীজ নগদ টাকায় কেনা হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বলেন, কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রতি একরে ১৯ থেকে ২০ টন ফলনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। সেই আশ্বাসে তিনি বিপুল পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করেন। নিয়ম মেনে চাষাবাদ, সার ও পরিচর্যা করলেও ৮০ থেকে ৯০ দিন পার হওয়ার পরও জমিতে একটি কুমড়াও ধরেনি। বর্তমানে পুরো ক্ষেতজুড়ে শুধু গাছ দেখা যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “আমি একজন সাধারণ কৃষক। জমি লিজ, বীজ, শ্রমিক, সার ও সেচে বিপুল টাকা খরচ করেছি। এখন আমি সম্পূর্ণ নিঃস্ব হওয়ার পথে। এটি স্পষ্ট বীজ প্রতারণা। আমি প্রশাসনের কাছে বিচার চাই।”
স্থানীয় বীজ ব্যবসায়ী মো. আরিফুল রহমান রাসেল জানান, কোম্পানির প্রতিনিধিরা ভালো ফলনের নিশ্চয়তা দিয়েছিল। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি কৃষককে বীজ নিতে পরামর্শ দেন। কিন্তু এখন কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে, ক্ষেতে কাজ করা শ্রমিকরাও বিপাকে পড়েছেন। শ্রমিক ললিতা বালা বলেন, “আমি এখনও ১০ হাজার টাকা পাই। প্রতিবছর এই জমি থেকে অনেক কুমড়া বিক্রি হতো। এবার কিছুই হয়নি।”
ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এ ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, কৃষকদের নিরাপদ ও মানসম্মত বীজ নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আরও অনেকে ক্ষতির মুখে পড়বেন।

Reporter Name 


















