গাজীপুর , শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
গাজীপুরে সাংবাদিকের ওপর হামলা, মোবাইল ছিনতাইচেষ্টার অভিযোগ বাসন থানার অভিযানে ইয়াবাসহ ছয় আসামি গ্রেপ্তার, আদালতে প্রেরণ কালিয়াকৈরে পিচ্চি আকাশ গ্রেপ্তার, ১৮ মামলার আসামির অস্ত্র উদ্ধার নাসিরনগরে জাল টাকা উদ্ধার: ১২টি নোটসহ একজন গ্রেপ্তার মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান হলেন চট্টগ্রাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতে ২৪৫ কোটি টাকার প্রস্তাব গাজীপুরে ড্রেন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, দ্রুত ব্যবস্থা চাইলেন এলাকাবাসী উত্তরায় বাস দুর্ঘটনায় দুই সাংবাদিক নিহত, নিরাপদ সড়কের দাবিতে ক্ষোভ দোয়ারাবাজারে রেজাউল করিমকে ঘিরে বাড়ছে জনআলোচনা রাঙ্গামাটি হাসপাতালে ইএনটি বিশেষজ্ঞ ডা. ওমর ফারুকের অবসর
ভোটের হাওয়া
দোয়ারাবাজারে রেজাউল করিমকে ঘিরে বাড়ছে জনআলোচনা সোনাপুরে মানবিক কর্মকাণ্ডে জনসমর্থন পাচ্ছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী ছারোয়ার সরিকল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম মৃধাকে ঘিরে আলোচনা ২৩ জুনকে ঘিরে সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেন আহমদ শফিক শুভ বাসন থানায় পুলিশের জালে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা লিটন মন্ডল মান্দা যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল: অপপ্রচার ও অশিষ্ট রাজনীতির প্রতিবাদ গাজীপুরে তারেক জিয়া পরিষদের ৪১ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা নাসিরনগরে ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল শোডাউন, থানায় মামলা দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর নতুন সিদ্ধান্তে তরিকুল ইসলাম সজিব নেত্রকোণা ছাত্রদল কমিটিতে সহ-সভাপতি হলেন গোলাম কিবরিয়া

কুমড়া চাষে ফল না আসায় পঞ্চগড়ে কৃষকের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
  • ৫২ Time View

মো শাহজাহান কবির প্রধান পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি।

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার এক কৃষক কুমড়া চাষ করে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, নিম্নমানের বীজ সরবরাহের কারণে ১৮০ বিঘা জমিতে গাছ হলেও একটিও কুমড়া ধরেনি। এতে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. সাজ্জাদ হোসেন।

জানা গেছে, বোদা উপজেলার লাঙ্গল গ্রামের কৃষক মো. সাজ্জাদ হোসেন চলতি মৌসুমে ৬০ একর জমি লিজ নিয়ে আলু ও কুমড়া চাষের পরিকল্পনা করেন। পরে তিনি “ব্যাংকক সুইট-২” জাতের কুমড়ার বীজ কিনে জমিতে রোপণ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, “আলমগীর সীড কোম্পানি”র কাছ থেকে গত ২৬ জানুয়ারি প্রায় ১০ কেজি ৬০০ গ্রাম বীজ নগদ টাকায় কেনা হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বলেন, কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রতি একরে ১৯ থেকে ২০ টন ফলনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। সেই আশ্বাসে তিনি বিপুল পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করেন। নিয়ম মেনে চাষাবাদ, সার ও পরিচর্যা করলেও ৮০ থেকে ৯০ দিন পার হওয়ার পরও জমিতে একটি কুমড়াও ধরেনি। বর্তমানে পুরো ক্ষেতজুড়ে শুধু গাছ দেখা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “আমি একজন সাধারণ কৃষক। জমি লিজ, বীজ, শ্রমিক, সার ও সেচে বিপুল টাকা খরচ করেছি। এখন আমি সম্পূর্ণ নিঃস্ব হওয়ার পথে। এটি স্পষ্ট বীজ প্রতারণা। আমি প্রশাসনের কাছে বিচার চাই।”

স্থানীয় বীজ ব্যবসায়ী মো. আরিফুল রহমান রাসেল জানান, কোম্পানির প্রতিনিধিরা ভালো ফলনের নিশ্চয়তা দিয়েছিল। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি কৃষককে বীজ নিতে পরামর্শ দেন। কিন্তু এখন কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে, ক্ষেতে কাজ করা শ্রমিকরাও বিপাকে পড়েছেন। শ্রমিক ললিতা বালা বলেন, “আমি এখনও ১০ হাজার টাকা পাই। প্রতিবছর এই জমি থেকে অনেক কুমড়া বিক্রি হতো। এবার কিছুই হয়নি।”

ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এ ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, কৃষকদের নিরাপদ ও মানসম্মত বীজ নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আরও অনেকে ক্ষতির মুখে পড়বেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

গাজীপুরে সাংবাদিকের ওপর হামলা, মোবাইল ছিনতাইচেষ্টার অভিযোগ

কুমড়া চাষে ফল না আসায় পঞ্চগড়ে কৃষকের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি

Update Time : ০৩:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

মো শাহজাহান কবির প্রধান পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি।

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার এক কৃষক কুমড়া চাষ করে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, নিম্নমানের বীজ সরবরাহের কারণে ১৮০ বিঘা জমিতে গাছ হলেও একটিও কুমড়া ধরেনি। এতে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. সাজ্জাদ হোসেন।

জানা গেছে, বোদা উপজেলার লাঙ্গল গ্রামের কৃষক মো. সাজ্জাদ হোসেন চলতি মৌসুমে ৬০ একর জমি লিজ নিয়ে আলু ও কুমড়া চাষের পরিকল্পনা করেন। পরে তিনি “ব্যাংকক সুইট-২” জাতের কুমড়ার বীজ কিনে জমিতে রোপণ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, “আলমগীর সীড কোম্পানি”র কাছ থেকে গত ২৬ জানুয়ারি প্রায় ১০ কেজি ৬০০ গ্রাম বীজ নগদ টাকায় কেনা হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বলেন, কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রতি একরে ১৯ থেকে ২০ টন ফলনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। সেই আশ্বাসে তিনি বিপুল পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করেন। নিয়ম মেনে চাষাবাদ, সার ও পরিচর্যা করলেও ৮০ থেকে ৯০ দিন পার হওয়ার পরও জমিতে একটি কুমড়াও ধরেনি। বর্তমানে পুরো ক্ষেতজুড়ে শুধু গাছ দেখা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “আমি একজন সাধারণ কৃষক। জমি লিজ, বীজ, শ্রমিক, সার ও সেচে বিপুল টাকা খরচ করেছি। এখন আমি সম্পূর্ণ নিঃস্ব হওয়ার পথে। এটি স্পষ্ট বীজ প্রতারণা। আমি প্রশাসনের কাছে বিচার চাই।”

স্থানীয় বীজ ব্যবসায়ী মো. আরিফুল রহমান রাসেল জানান, কোম্পানির প্রতিনিধিরা ভালো ফলনের নিশ্চয়তা দিয়েছিল। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি কৃষককে বীজ নিতে পরামর্শ দেন। কিন্তু এখন কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে, ক্ষেতে কাজ করা শ্রমিকরাও বিপাকে পড়েছেন। শ্রমিক ললিতা বালা বলেন, “আমি এখনও ১০ হাজার টাকা পাই। প্রতিবছর এই জমি থেকে অনেক কুমড়া বিক্রি হতো। এবার কিছুই হয়নি।”

ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এ ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, কৃষকদের নিরাপদ ও মানসম্মত বীজ নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আরও অনেকে ক্ষতির মুখে পড়বেন।