গাজীপুর , শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে চট্টগ্রামে পবিত্র ঈদের জামাতে দল-মতের মানুষের ঢল সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আতাহার রহমানের ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বার্তা ঈদে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা: রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে বিশেষ প্রস্তুতি অনলাইন টিকিটিং উন্নয়ন, ট্রেনে আসছে ওয়াইফাই চট্টগ্রামে সেমাইয়ের জনপ্রিয়তা: ঈদের নাস্তায় ঐতিহ্য, স্বাদ ও দামের হালচাল চট্টগ্রামের অর্ধশতাধিক গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে ঈদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ট্যাপেন্টাডলসহ ২ চোরাকারবারী আটক গাইবান্ধায় বালু বিক্রির অভিযোগ, নেতার দাবি ‘মিথ্যা ও অপপ্রচার’ ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন দেলোয়ার হোসেন | মাতৃজগত পরিবারের বার্তা গাজীপুরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা শওকত হোসেন সরকারের
ভোটের হাওয়া
পার্বত্য তিন জেলা পরিষদ নির্বাচন: প্রধানমন্ত্রীর কাছে সমঅধিকার দাবি কালিয়াকৈরে মানবিক নেতা সাইজুদ্দিন আহমেদ কালিয়াকৈর পৌরসভা: দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত উদ্যোগে জসিম উদ্দিন চট্টগ্রামে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মিদের খুঁজছে পুলিশ গাজীপুরে ঝুট ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলা, লুটপাট ও ককটেল সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় নাসরিন রহমান পপি শহরের মতো গ্রাম গড়ার অঙ্গীকার আলা উদ্দিনের শ্রীপুরে মাওনা–উজিলাব সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন নকলায় এমপির সাথে এবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক নেতাদের সাক্ষাৎ চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৪ এপ্রিল

কলকাতায় নারী দিবসে পদযাত্রা: সমতাভিত্তিক সমাজ ও নারীর ক্ষমতায়ন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • ৩৯ Time View

 

কলকাতা: আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে কলকাতার কলেজ স্কোয়ারে বিশাল একটি পদযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। সমাজে নারীর মর্যাদা, অধিকার ও বৈষম্য দূরীকরণের বার্তা প্রচারের উদ্দেশ্যে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা স্বজন এই পদযাত্রার আয়োজন করেছে।

১৮৫৭ সালে নিউইয়র্কের একটি সুতো কারখানায় নারী শ্রমিকদের উপর অমানবিক মজুরি বৈষম্য এবং কঠোর কর্মপরিবেশের বিরুদ্ধে সেখানকার নারী শ্রমিকরা একটি বৃহত্তর আন্দোলন শুরু করেছিলেন। এই আন্দোলন পরবর্তীতে সমগ্র বিশ্বে নারীর অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ঐতিহাসিক এই আন্দোলনের স্মৃতিতে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

পদযাত্রার সময় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সম্পাদক চন্দ্রনাথ বসু বলেন, “এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। নারী নির্যাতন, বৈষম্য এবং কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগের অভাব এখনও অনেক নারীর পথচলাকে কঠিন করে তোলে। তাই নারী দিবস কেবল উদযাপনের দিন নয়, বরং এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে একটি সমতাভিত্তিক সমাজ গড়তে নারী-পুরুষ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।”

পদযাত্রা শুরু হওয়ার আগে বিদ্যাসাগর মূর্তিতে মাল্যদান করা হয়। এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন কবি আরণ্যক বসু, বরুণ চক্রবর্তী, সিরাজুল ইসলাম ঢালী, মুকুল চক্রবর্তী, ড. অমর ঘোষ এবং ড. সোহিনী চক্রবর্তী।

পদযাত্রায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়। সংগীত পরিবেশন করেন ড. দীপা দাস, অঞ্জলি বেলেল, সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায় এবং ঝিমলি চক্রবর্তী। কবিতা পাঠ করেন প্রত্যুষা চট্টোপাধ্যায়, সীমা সোম, ড. সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ। নৃত্যানুষ্ঠানে অংশ নেন কনীনিকা রায় চৌধুরী।

পদযাত্রার সমাপনীতে সেরা বঙ্গ নারীর সম্মাননা প্রদান করা হয়। এই বছর সম্মাননা পান বিশিষ্ট সমাজসেবী ও কবি জয়তী চক্রবর্তী এবং সঙ্গীতা বসু রায়। অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করেন পৌলভি মিশ্র এবং সায়ন বেরা।

উক্ত পদযাত্রার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা সমাজে নারী ও পুরুষের সমানাধিকারের গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন। বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায়, নারী শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাজনীতি, অর্থনীতি ও ক্রীড়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। এই ধরনের পদযাত্রা নারীর মর্যাদা, অধিকার এবং সামাজিক সমতা প্রচারের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি করে।

স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা স্বজনের উদ্যোগে আয়োজিত পদযাত্রা শুধু উদযাপনের জন্য নয়, বরং এটি সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার বার্তা বহন করে। উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা সকলেই মন্তব্য করেছেন যে, নারীর প্রতি সমতা এবং সম্মান নিশ্চিত করা সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।

এই পদযাত্রা নারী দিবসকে শুধুমাত্র স্মরণীয় করে রাখেনি, বরং সমাজে নারীর মর্যাদা, সমানাধিকারের প্রয়োজনীয়তা এবং সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের বার্তা প্রদান করেছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে চট্টগ্রামে পবিত্র ঈদের জামাতে দল-মতের মানুষের ঢল

কলকাতায় নারী দিবসে পদযাত্রা: সমতাভিত্তিক সমাজ ও নারীর ক্ষমতায়ন

Update Time : ০৪:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

 

কলকাতা: আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে কলকাতার কলেজ স্কোয়ারে বিশাল একটি পদযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। সমাজে নারীর মর্যাদা, অধিকার ও বৈষম্য দূরীকরণের বার্তা প্রচারের উদ্দেশ্যে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা স্বজন এই পদযাত্রার আয়োজন করেছে।

১৮৫৭ সালে নিউইয়র্কের একটি সুতো কারখানায় নারী শ্রমিকদের উপর অমানবিক মজুরি বৈষম্য এবং কঠোর কর্মপরিবেশের বিরুদ্ধে সেখানকার নারী শ্রমিকরা একটি বৃহত্তর আন্দোলন শুরু করেছিলেন। এই আন্দোলন পরবর্তীতে সমগ্র বিশ্বে নারীর অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ঐতিহাসিক এই আন্দোলনের স্মৃতিতে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

পদযাত্রার সময় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সম্পাদক চন্দ্রনাথ বসু বলেন, “এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। নারী নির্যাতন, বৈষম্য এবং কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগের অভাব এখনও অনেক নারীর পথচলাকে কঠিন করে তোলে। তাই নারী দিবস কেবল উদযাপনের দিন নয়, বরং এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে একটি সমতাভিত্তিক সমাজ গড়তে নারী-পুরুষ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।”

পদযাত্রা শুরু হওয়ার আগে বিদ্যাসাগর মূর্তিতে মাল্যদান করা হয়। এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন কবি আরণ্যক বসু, বরুণ চক্রবর্তী, সিরাজুল ইসলাম ঢালী, মুকুল চক্রবর্তী, ড. অমর ঘোষ এবং ড. সোহিনী চক্রবর্তী।

পদযাত্রায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়। সংগীত পরিবেশন করেন ড. দীপা দাস, অঞ্জলি বেলেল, সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায় এবং ঝিমলি চক্রবর্তী। কবিতা পাঠ করেন প্রত্যুষা চট্টোপাধ্যায়, সীমা সোম, ড. সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ। নৃত্যানুষ্ঠানে অংশ নেন কনীনিকা রায় চৌধুরী।

পদযাত্রার সমাপনীতে সেরা বঙ্গ নারীর সম্মাননা প্রদান করা হয়। এই বছর সম্মাননা পান বিশিষ্ট সমাজসেবী ও কবি জয়তী চক্রবর্তী এবং সঙ্গীতা বসু রায়। অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করেন পৌলভি মিশ্র এবং সায়ন বেরা।

উক্ত পদযাত্রার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা সমাজে নারী ও পুরুষের সমানাধিকারের গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন। বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায়, নারী শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাজনীতি, অর্থনীতি ও ক্রীড়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। এই ধরনের পদযাত্রা নারীর মর্যাদা, অধিকার এবং সামাজিক সমতা প্রচারের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি করে।

স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা স্বজনের উদ্যোগে আয়োজিত পদযাত্রা শুধু উদযাপনের জন্য নয়, বরং এটি সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার বার্তা বহন করে। উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা সকলেই মন্তব্য করেছেন যে, নারীর প্রতি সমতা এবং সম্মান নিশ্চিত করা সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।

এই পদযাত্রা নারী দিবসকে শুধুমাত্র স্মরণীয় করে রাখেনি, বরং সমাজে নারীর মর্যাদা, সমানাধিকারের প্রয়োজনীয়তা এবং সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের বার্তা প্রদান করেছে।