
বিশেষ সংবাদদাতাঃ চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম নগরীর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইপিজেড মোড়ে অবস্থিত চৌধুরী মিনি সুপার মার্কেটে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মার্কেটের পেছনের অংশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে একাধিক দোকানে, যা মারাত্মক আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
স্থানীয়রা দ্রুত খবর দিলে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুনের তীব্রতায় মার্কেটের বেশ কয়েকটি দোকানের বিপুল পরিমাণ মালামাল, আসবাবপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে আগুনের সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ শফিউল আলম। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন যুব জামায়াতে ইসলামীর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড নেতা মোঃ সাহেদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।
পরিদর্শনকালে শফিউল আলম ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, “ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তালিকা প্রণয়ন ও দ্রুত আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। ব্যবসায়ীদের পাশে থাকাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে মার্কেট এলাকায় আধুনিক অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা অত্যন্ত প্রয়োজন।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চৌধুরী মিনি সুপার মার্কেটের সদ্য নির্বাচিত সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। তারা জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও নিরাপদ বাণিজ্যিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, “অনেকে ব্যাংক ঋণ ও ধারদেনা করে ব্যবসা চালাচ্ছিল। হঠাৎ এ অগ্নিকাণ্ডে আমাদের স্বপ্ন ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন ধ্বংস হয়ে গেছে। দ্রুত সরকারি সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ এবং স্থায়ী অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা দাবি করছি।”
ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে। ব্যবসায়ী মহল মনে করছে, ইপিজেডের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় নিয়মিত বৈদ্যুতিক লাইনের তদারকি, ফায়ার সেফটি মহড়া এবং জরুরি সরঞ্জাম নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যতেও বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি থে
কে যাবে।

Reporter Name 


















