
মোঃ সুলতান মাহমুদ গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকায় শ্রীপুর খাস জমি দখল এবং সরকারি পুকুর পাড় দখল করে বাড়ি ও দোকানপাট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী একটি মহল ধীরে ধীরে সরকারি সম্পত্তি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করছে। এতে সরকারি সম্পদ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রীপুর থানার মোড় এলাকায় অবস্থিত শাহীন ক্যাডেট একাডেমির পাশেই সরকারি খাস জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই এলাকার মেসার্স সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজ ও ক্রোকারিজ দোকানের মালিক বিক্রমপুইরা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ সোহেল তার দোকানের পেছনে প্রায় তিন গণ্ডা সরকারি খাস জমি দখল করে একটি বড় গোডাউন নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জায়গাটি সরকারি খাস জমি হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু সম্প্রতি সেখানে নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, যদি এখনই প্রশাসন ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও সরকারি জমি দখল হয়ে যেতে পারে।
এদিকে শ্রীপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আনোয়ারা মান্নান ফ্যাক্টরির পাশে মাধখলা বেলতলী পুকুর পাড়েও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আলমগীরের স্ত্রী আসমা আক্তার তার মামা ভান্ডারী রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ গণ্ডা জমি প্রায় ৫ লাখ টাকায় কিনেছেন। বর্তমানে সেখানে ছয় কক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণের কাজ চলছে।
তবে এলাকাবাসীর দাবি, এই জমির একটি বড় অংশ আসলে সরকারি পুকুর পাড়ের অন্তর্ভুক্ত। ফলে এটি ব্যক্তিগতভাবে বিক্রি বা হস্তান্তর করার কোনো সুযোগ নেই। স্থানীয়রা মনে করছেন, এটি সরকারি পুকুর পাড় দখল করার একটি কৌশল হতে পারে।
জমি বিক্রির বিষয়ে ভান্ডারী রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি দখল সূত্রে আমার ভাগ্নি আসমা আক্তারের কাছে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে তিন লাখ টাকায় জমি বিক্রি করেছি। আমি নিয়মিত ট্যাক্স পরিশোধ করি এবং পৌরসভার ট্যাক্সের কাগজপত্রও আমার কাছে রয়েছে।”
তবে সচেতন মহলের মতে, সরকারি খাস জমি বা পুকুর পাড় কোনো ব্যক্তি ব্যক্তিগতভাবে বিক্রি করতে পারেন না। এসব জমি রাষ্ট্রের সম্পত্তি এবং তা সংরক্ষণ করা প্রশাসনের দায়িত্ব। তাই এসব জমিতে নির্মাণকাজ আইনগতভাবে বৈধ নয় বলেও তারা দাবি করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক বছরে শ্রীপুর এলাকায় বিভিন্ন স্থানে সরকারি খাস জমি দখলের ঘটনা বেড়েছে। বিশেষ করে পুকুর পাড় ও খোলা সরকারি জমি দখল করে দোকান, গোডাউন কিংবা বাসা নির্মাণের অভিযোগ প্রায়ই শোনা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সাইদুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমি নায়েবকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। তদন্ত করে যদি সরকারি জমি দখলের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও সরকারি জমি দখলের ঘটনা ঘটতে পারে। তারা সরকারি পুকুর পাড় ও খাস জমি রক্ষায় দ্রুত তদন্ত ও দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সচেতন মহল মনে করছে, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা কমে আসবে।

Reporter Name 



















