গাজীপুর , রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :

কালিহাতীতে নির্বাচনী উত্তাপ, কার দখলে যাবে টাঙ্গাইল-৪ আসন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৮ Time View

শরিফুল ইসলাম, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের রাজনৈতিক মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। একাধিক শক্তিশালী প্রার্থী ও দলীয় বিভক্তির কারণে এই আসনে ভোটের সমীকরণ দিন দিন আরও জটিল রূপ নিচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীর অংশগ্রহণ ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য লুৎফর রহমান মতিন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী দৌড়ে থাকলেও স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় বিভাজনের কারণে বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাংক দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একাংশ সরাসরি ধানের শীষে ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নিলেও, অপর অংশ ঝুঁকছে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার হালিম মিয়ার মোটরসাইকেল প্রতীকের দিকে। এতে করে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে এগোতে পারছেন না।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাঁস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। এই আসন থেকে তিনি ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং স্থানীয়ভাবে তার একটি সুসংগঠিত ও স্থায়ী ভোটব্যাংক রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেই ভোটব্যাংকের ওপর ভর করেই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে রয়েছেন।

বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা দলের সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার হালিম মিয়া মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে মূলত বিএনপির ভোট বিভাজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাকে ইতিমধ্যে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে তার উপস্থিতি ধানের শীষের প্রার্থীর জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

এদিকে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলী প্রচারণার দিক থেকে তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান অবস্থানে রয়েছেন। ফেস্টুন, ব্যানার, মাইকিং এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে তিনি ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, তার সক্রিয় প্রচারণা ও মাঠে উপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াচ্ছে।

এছাড়াও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক (দাঁড়িপাল্লা) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আলী আহমেদ আমজাদ (হাতপাখা) নির্বাচনী মাঠে থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে হাঁস, ধানের শীষ, মোটরসাইকেল ও লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীদের মধ্যে।

সব মিলিয়ে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে ভোটের চিত্র এখনো অনিশ্চিত। বিএনপির ভোট বিভাজন, লতিফ সিদ্দিকীর নিজস্ব ভোটব্যাংক এবং জাতীয় পার্টির সক্রিয় প্রচারণা—সবকিছু মিলিয়ে এই আসনের ফলাফল নির্ধারিত হবে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা ও ভোটারদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

পীরগঞ্জে ৩.৫ কোটি টাকায় ১৩ কিমি খাল পুনঃখনন উদ্বোধন

কালিহাতীতে নির্বাচনী উত্তাপ, কার দখলে যাবে টাঙ্গাইল-৪ আসন

Update Time : ০৬:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শরিফুল ইসলাম, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের রাজনৈতিক মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। একাধিক শক্তিশালী প্রার্থী ও দলীয় বিভক্তির কারণে এই আসনে ভোটের সমীকরণ দিন দিন আরও জটিল রূপ নিচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীর অংশগ্রহণ ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য লুৎফর রহমান মতিন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী দৌড়ে থাকলেও স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় বিভাজনের কারণে বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাংক দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একাংশ সরাসরি ধানের শীষে ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নিলেও, অপর অংশ ঝুঁকছে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার হালিম মিয়ার মোটরসাইকেল প্রতীকের দিকে। এতে করে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে এগোতে পারছেন না।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাঁস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। এই আসন থেকে তিনি ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং স্থানীয়ভাবে তার একটি সুসংগঠিত ও স্থায়ী ভোটব্যাংক রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেই ভোটব্যাংকের ওপর ভর করেই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে রয়েছেন।

বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা দলের সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার হালিম মিয়া মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে মূলত বিএনপির ভোট বিভাজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাকে ইতিমধ্যে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে তার উপস্থিতি ধানের শীষের প্রার্থীর জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

এদিকে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলী প্রচারণার দিক থেকে তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান অবস্থানে রয়েছেন। ফেস্টুন, ব্যানার, মাইকিং এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে তিনি ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, তার সক্রিয় প্রচারণা ও মাঠে উপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াচ্ছে।

এছাড়াও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক (দাঁড়িপাল্লা) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আলী আহমেদ আমজাদ (হাতপাখা) নির্বাচনী মাঠে থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে হাঁস, ধানের শীষ, মোটরসাইকেল ও লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীদের মধ্যে।

সব মিলিয়ে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে ভোটের চিত্র এখনো অনিশ্চিত। বিএনপির ভোট বিভাজন, লতিফ সিদ্দিকীর নিজস্ব ভোটব্যাংক এবং জাতীয় পার্টির সক্রিয় প্রচারণা—সবকিছু মিলিয়ে এই আসনের ফলাফল নির্ধারিত হবে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা ও ভোটারদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।