
গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কোনাবাড়িতে দায়িত্বহীনতা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের চরম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এক পুলিশ সদস্য। মোবাইল ফোনে ক্যাসিনো গেম ও অনলাইন জুয়া খেলতে থাকা অবস্থায় ভিডিও ধারণ করায় এক গার্মেন্টস শ্রমিককে নির্মমভাবে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক অপহরণের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
প্রকাশ্যে জুয়া, ভিডিও করায় ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কোনাবাড়ি এলাকার এক গার্মেন্টস শ্রমিক প্রকাশ্যে ওই পুলিশ সদস্যকে মোবাইলে ক্যাসিনো গেম ও অনলাইন জুয়া খেলতে দেখতে পান। বিষয়টি সন্দেহজনক ও অনৈতিক মনে হওয়ায় তিনি ভিডিও ধারণ শুরু করেন।
ভিডিও করার বিষয়টি টের পেয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং প্রকাশ্যে শ্রমিকটির ওপর চড়াও হন। ক্ষমতার দম্ভে তিনি শ্রমিককে বেধড়ক মারধর করেন এবং হুমকি দিয়ে বলেন—
“তুই পুলিশের ভিডিও করছিস? তোকে মামলা দিয়ে জেলে পাঠাবো!”
মারধরের পর জোরপূর্বক বাইপাস এলাকায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ
অভিযোগ রয়েছে, শুধু মারধরেই ক্ষান্ত হননি ওই পুলিশ সদস্য। তিনি শ্রমিককে মারতে মারতে কোনাবাড়ি এলাকা থেকে জোরপূর্বক গাজীপুর-বগুড়া বাইপাস এলাকায় নিয়ে যান—যা কার্যত অপহরণের শামিল।
ভীত-সন্ত্রস্ত শ্রমিক পুলিশের পায়ে ধরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন—
“স্যার, আমি আর ভিডিও করবো না, আমাকে ক্ষমা করে দিন।”
তবুও পুলিশ সদস্যের আচরণে কোনো মানবিকতার ছাপ দেখা যায়নি বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
জনতার প্রতিবাদে আটক পুলিশ সদস্য
এই বর্বর ও হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখে স্থানীয় জনগণ ফুঁসে ওঠে। তারা ঘটনাস্থলে এগিয়ে এসে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে আটক করে রাখে। ক্ষুব্ধ জনতার ভাষ্য—
“আইনের লোক হয়েও যদি জুয়া খেলে আর সাধারণ মানুষকে মারধর করে, তাহলে তাকে ছাড় দেওয়া যায় না।”
সাংবাদিক ও বাসন থানা পুলিশের হস্তক্ষেপ
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন একাধিক সংবাদকর্মী এবং বাসন থানা পুলিশের সদস্যরা। সাংবাদিকরা প্রশ্ন তোলেন—
“আপনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হয়ে কেন মোবাইলে জুয়া খেলবেন? সাধারণ মানুষ ভিডিও না করলে দুর্নীতি প্রকাশ পাবে কীভাবে?”
জনমনে তীব্র ক্ষোভ—দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
ঘটনার পর থেকে পুরো কোনাবাড়ি এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকরা অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা, সাময়িক বরখাস্ত, বিভাগীয় তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তাদের ভাষায়—
“যারা জনগণের নিরাপত্তা দেওয়ার কথা, তারাই যদি জুয়া খেলে, মানুষকে নির্যাতন করে ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে—তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?”
বড় প্রশ্ন—আইনের রক্ষকরাই যদি অপরাধী হন?
এই ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—
আইনের রক্ষক বাহিনীর সদস্যরাই যদি অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে ন্যায়বিচার ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কে?
সচেতন মহলের মতে, এই ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কঠোর তদন্ত নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও বাড়বে এবং পুলিশের প্রতি জনআস্থা ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

Reporter Name 









