
বিশেষ প্রতিনিধি:
নরসিংদীর মাধবদী থানা এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা আমেনা হত্যা মামলার মূল আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাসহ মোট সাতজনকে গ্রেফতার করেছে নরসিংদী জেলা পুলিশ। পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত ৯টার দিকে ভিকটিমকে ফুসলিয়ে অপহরণ করে কোতোয়ালীরচর হোসেন বাজার এলাকায় একটি টেক্সটাইল মিলের পেছনে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হলে আসামিরা পুনরায় ভিকটিমকে অপহরণ করে।
ঘটনার ধারাবাহিকতায় ২৫ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে কোতোয়ালীরচর বড়ইতলা তিন রাস্তার মোড়ে ভিকটিম ও তার স্বামীকে পথরোধ করে ভিকটিমকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় আসামিরা। পরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে কোতোয়ালীরচর দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে ভিকটিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে সেখানে ফেলে রাখা হয়।
পুলিশ জানায়, মামলার মূল অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাকে গাজীপুর জেলার মাওনা এলাকা থেকে এবং অপর অভিযুক্ত হযরত আলীকে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আলোচিত এ ঘটনায় চারজন ধর্ষকসহ মোট সাতজনকে আটক করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন:
১. নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮)
২. এবাদুল্লাহ (৪০)
৩. হযরত আলী (৪০)
৪. গাফফার (৩৭)
৫. আহাম্মদ আলী মেম্বার ওরফে আহাম্মদ দেওয়ান (৬৫)
৬. মো. ইমরান দেওয়ান (৩২)
৭. মো. আইয়ুব (৩০)
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলমান। দ্রুত আসামি গ্রেফতার হওয়ায় এলাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
উল্লেখ্য, ঘটনাটি নরসিংদী জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং দ্রুত বিচারের দাবিতে বিভিন্ন মহল প্রতিবাদ জানায়। খায়রুল কবির খোকন, ড. শফিকুর রহমান ও হাসান আব্দুল্লাহ জারজিস আলমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ঘটনার নিন্দা জানান। এদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নরসিংদী সদর থানা শাখা থেকে আহমদ মেম্বারকে সাধারণ সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর এক সদস্যের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

Reporter Name 


















