
স্টাফ রিপোর্টার
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় এলাকাবাসীর সহায়তায় বিপুল পরিমাণ বিদেশি বিয়ারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শিল্প প্রতিষ্ঠানের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার চলছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পৌর ঘোনাপাড়া পাথরঘাট সংলগ্ন চায়না বাংলা কংক্রিট অ্যান্ড ব্লক ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে অভিযান চালায় কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। অভিযানে প্রতিষ্ঠানের পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান থেকে ৪২ কার্টুনে থাকা মোট ১,৮২৪ ক্যান বিদেশি বিয়ার জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— কিশোরগঞ্জ সদর থানার ফোরাক্কা এলাকার ফজলুর রহমানের ছেলে মো. মেহেদী হাসান (৩৪), সিলেটের ছাতক থানার জৈন্তাপুর এলাকার নিজাম উদ্দিনের ছেলে নাজির হোসেন (২১) এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার বাগলা এলাকার আব্দুল বারেকের ছেলে আমান উল্লাহ (৩৩)।
পুলিশ জানায়, এলাকাবাসী একটি মিনি ট্রাকে বিপুল পরিমাণ বিয়ার দেখতে পেয়ে তিনজনকে আটক করে থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে ওসি মো. জাকির হোসেন ও সেকেন্ড অফিসার মো. শামীমসহ পাঁচ সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ারসহ আসামিদের গ্রেপ্তার করে। পরে সিজার তালিকা প্রস্তুত করে জব্দকৃত মাদক ও ব্যবহৃত যানবাহন থানায় নিয়ে আসা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, এই শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কালীগঞ্জ, গাজীপুর, টঙ্গীসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক সরবরাহ করা হচ্ছিল। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যই অভিযানের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এ ঘটনার পর এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে গ্রেপ্তারের ভয়ে আত্মগোপনে রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে কালীগঞ্জের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য একে এম ফজলুল হক মিলন সম্প্রতি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় মাদকের বিরুদ্ধে ‘কোনো ছাড় দেওয়া হবে না’ বলে ঘোষণা দিলেও, ঘটনার পর কিছু প্রভাবশালী মহল থেকে তদবিরের অভিযোগ উঠেছে—যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, “অভিযান চালিয়ে তিনজনকে মাদকসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।” মামলা নম্বর: ৩০/০২/২০২৬।
পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

Reporter Name 


















