
অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী।
রাজশাহী মহানগরীতে সংঘবদ্ধ ডাকাতি, ছিনতাই, চুরি ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত একাধিক মামলার আসামি মিলনকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৫)। র্যাবের একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীতে মিলন গ্রেফতার ঘটনাটি স্থানীয় অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
র্যাব-৫ রাজশাহীর সদর কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাহিনীটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিভিন্ন ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী, ডাকাত, অপহরণকারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারসহ অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে র্যাব দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে র্যাব-৫ রাজশাহী অভিযান পরিচালনা করে রাজশাহী মহানগরীর শাহ মখদুম থানাধীন এরাবিয়ান মডেল বালিকা মাদ্রাসার সামনে। অভিযানের সময় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত এবং একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মিলনকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত মিলন দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত ও ছিনতাইকারী চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এই চক্রটি রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি, ছিনতাই, চুরি এবং মাদক ব্যবসা পরিচালনা করত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিলন এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, মিলনের বিরুদ্ধে রাজশাহী মহানগর পুলিশের বিভিন্ন থানায় মোট ১৩টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে রাজপাড়া থানায় দায়ের করা চোরাই মালামাল সংরক্ষণ সংক্রান্ত মামলা (এফআইআর নং-৪, তারিখ ৪ মার্চ ২০২৬, ধারা ৪১৩ দণ্ডবিধি) উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া শাহ মখদুম থানায় মারধর, চুরি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে দায়ের করা মামলা (এফআইআর নং-৬, তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ধারা ৩২৩/৩৭৯/৫০৬/৩৪ দণ্ডবিধি) এবং তানোর থানায় দায়ের করা চুরির মামলা (এফআইআর নং-৫, ধারা ৩৭৯ দণ্ডবিধি) রয়েছে।
র্যাব সূত্রে আরও জানা যায়, কাশিয়াডাঙ্গা থানায় বাড়িঘরে চুরি সংক্রান্ত মামলা, রাজপাড়া ও বোয়ালিয়া থানায় ছিনতাইয়ের অভিযোগে দায়ের করা মামলা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী একাধিক মামলায় তিনি অভিযুক্ত। এসব মামলার বেশ কয়েকটি ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এবং পূর্বের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০ অনুযায়ী দায়ের করা একাধিক মামলায়ও মিলনের নাম রয়েছে। এছাড়াও রাজপাড়া থানায় দায়ের করা একটি জুয়া আইনের মামলাতেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানা গেছে।
র্যাবের কর্মকর্তারা জানান, রাজশাহীতে অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গ্রেফতারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মিলনকে রাজশাহী মহানগরীর শাহ মখদুম থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানায় তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে রাজশাহী মহানগরীতে অপরাধের প্রবণতা কমবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।

Reporter Name 


















