গাজীপুর , মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
ভোটের হাওয়া
পার্বত্য তিন জেলা পরিষদ নির্বাচন: প্রধানমন্ত্রীর কাছে সমঅধিকার দাবি কালিয়াকৈরে মানবিক নেতা সাইজুদ্দিন আহমেদ কালিয়াকৈর পৌরসভা: দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত উদ্যোগে জসিম উদ্দিন চট্টগ্রামে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মিদের খুঁজছে পুলিশ গাজীপুরে ঝুট ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলা, লুটপাট ও ককটেল সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় নাসরিন রহমান পপি শহরের মতো গ্রাম গড়ার অঙ্গীকার আলা উদ্দিনের শ্রীপুরে মাওনা–উজিলাব সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন নকলায় এমপির সাথে এবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক নেতাদের সাক্ষাৎ চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৪ এপ্রিল

পেঁয়াজের দাম কম হয় ভালো নেই সালথার পেঁয়াজ চাষিরা 

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
  • ১৪ Time View

মোঃ ইলিয়াছ খান (সালথা উপজেলা) প্রতিনিধি

পেঁয়াজের রাজধানীর খ্যাত ফরিদপুরের সালথা উপজেলার পেঁয়াজ চাষিরা অনেক বড় হংকটে পড়েছেন। মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পাওয়ার আশায় যারা পেঁয়াজ চাষে আশাবাদী ছিলেন ,তারা রমজানের মধ্যেই হঠাৎ করেই বাজারে পেঁয়াজের দাম কমে যাওয়ার তাদের সে আসা ভেঙ্গে গেছে। বর্তমানে প্রতি মন পিয়ার দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৯৫০ টাকা থেকে ১১০০ টাকায়। যা উৎপাদনের খরচের তুলনায় অনেক কম। 

আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) সার জমিনে উপজেলার বালিয়া বাজারে পেঁয়াজ হাটে ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাদের তুলনায় বিক্রেতার সংখ্যা বেশি।

নগদ টাকার প্রয়োজন হয় অনেক কৃষক বাধ্য হয়েই কম দামে অপরিপক্ক পেঁয়াজ বিক্রি করে হতাশ মনে বাড়ি ফিরছেন। উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গিয়েছে, চলতি মৌসুমে সালথা উপজেলায় ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে পিয়াজের আবাদ হয়েছে। 

কৃষকদের ভাষা অনুযায়ী সার, বীজ, কীটনাশক, শ্রমিক মজুরি, শেষও পরিবহন খরচ মিলিয়ে প্রতিমান পেঁয়াজ উৎপাদনের খরচ পড়েছে প্রায় ১৪০০/১৫০০ টাকা। ফলে বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে প্রতিবনে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষীদের। 

বালিয়া গট্টি গ্রামের এক কৃষক বলেন, আমি ৫/৬ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন, প্রতি মন প্রায় ১২ থেকে ১৩ শত টাকা খরচ হয়েছে। যে সব কৃষকদের ফলন ভালো হয়েছে তাদের খরচ তুলনামূলক কম পড়েছে। আর যাদের ফলন কম হয়েছে তাদের খরচ বেশি হয়েছে। তিনি আরো বলেন, উৎপাদনের খরচের তুলনায় যদি ন্যায্য দাম না পাওয়া যায়, তাহলে কৃষকরা ভবিষ্যতে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারাতে পারেন। এতে দেশের উৎপাদন কমে গেলে বাইরের দেশ থেকে আমদানি করতে হতে পারে। বালিয়া বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা এক কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, উৎপাদনের প্রতি মনে প্রায় ১৪শ থেকে ১৫শত টাকা খরচ পড়ে। কারণ কীটনাশক, স্যার ও বিভিন্ন ওষুধ বেশি দামে কিনতে হয়, কিন্তু বর্তমানে তিনি প্রতি পেঁয়াজ মাত্র ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে লোকসানে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। পালিয়া বাজারে পিঁয়াজ বিক্রি করতে আসা অপরাধ কৃষক হতাশ সুরে বলেন,সার, বীজ, কীটনাশক, শ্রমিক, পানি সব কিছু মিলিয়ে প্রতি মন পেঁয়াজে প্রায় ১৫০০ টাকা খরচ হয়েছে। এখন বিক্রি করতে হচ্ছে ৯৫০ টাকা থেকে ১১০০ টাকায় এই লোকেশন নিয়ে আমরা কিভাবে সংসার চালাবো।

সালথা উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নের সাপ্তাহিক পেঁয়াজের হাট বসে। এরমধ্যে শনিবার ও বুধবার ঠেনঠেনিয়া ও সালথা সদর হাট বৃহস্পতিবার ও রবিবার বসে। শুক্রবার ও সোমবার বালিয়া গট্টি, কাকদী জয়কাইল, মোন্তার মোড়,মাঝারদিয়া, বাউশষখালী, ও যদুনন্দী এলাকায় বড় বড় পেঁয়াজের হাট বসে। এসব হাটে ফরিদপুর ছাড়াও আশপাশের জেলাও বিভাগীয় শহর থেকে পাইকাররা এসে ট্রাকভর্তি পেঁয়াজ কিনে নিয়ে যান। তবুও স্থানীয় চাষীরা বলেছেন, লোকসানের ট্রাক চেপে যাচ্ছেন তাদের ঘাম ঝরানো ফসল।

পেঁয়াজ চাষীদের দাবি, পেঁয়াজের মতো গুরুত্বপূর্ণ কৃষি পণ্যের জন্য সরকারিভাবে ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন ধান ও গমের মতো পেঁয়াজ ও যদি সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়, তাহলে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়বেন না। তারা আরো বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে কল্ডস্টেরেজ বা হিমাগার নির্মাণ করা হলে কৃষকরা সহজে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারবেন।

সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুদর্শন শিকদার বলেন, পেঁয়াজের দাম মূলত বাজারে চাহিদার উপর নির্ভর করে। সাধারণত প্রতিবছর মৌসুমীর শুরুতে পেঁয়াজের দাম মোটামুটি ভালো থাকে, তবে চলতি বছরে এর ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। 

বর্তমানে বাজারে চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় দাম ও কম। এ অবস্থায় অনেক কৃষ ক ধার দেনা পরিষদের জন্য বাধ্য হয়ে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। তবে কৃষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যদি সম্ভব হয় তাহলে পেঁয়াজ কিছুদিন সংরক্ষণ করে রাখা উচিত। পরবর্তীতে বাজারের চাহিদা বাড়লে তখন বিক্রি করলে তারা ভাল দাম পেতে পারেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গাজীপুরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা শওকত হোসেন সরকারের

পেঁয়াজের দাম কম হয় ভালো নেই সালথার পেঁয়াজ চাষিরা 

Update Time : ১০:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

মোঃ ইলিয়াছ খান (সালথা উপজেলা) প্রতিনিধি

পেঁয়াজের রাজধানীর খ্যাত ফরিদপুরের সালথা উপজেলার পেঁয়াজ চাষিরা অনেক বড় হংকটে পড়েছেন। মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পাওয়ার আশায় যারা পেঁয়াজ চাষে আশাবাদী ছিলেন ,তারা রমজানের মধ্যেই হঠাৎ করেই বাজারে পেঁয়াজের দাম কমে যাওয়ার তাদের সে আসা ভেঙ্গে গেছে। বর্তমানে প্রতি মন পিয়ার দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৯৫০ টাকা থেকে ১১০০ টাকায়। যা উৎপাদনের খরচের তুলনায় অনেক কম। 

আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) সার জমিনে উপজেলার বালিয়া বাজারে পেঁয়াজ হাটে ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাদের তুলনায় বিক্রেতার সংখ্যা বেশি।

নগদ টাকার প্রয়োজন হয় অনেক কৃষক বাধ্য হয়েই কম দামে অপরিপক্ক পেঁয়াজ বিক্রি করে হতাশ মনে বাড়ি ফিরছেন। উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গিয়েছে, চলতি মৌসুমে সালথা উপজেলায় ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে পিয়াজের আবাদ হয়েছে। 

কৃষকদের ভাষা অনুযায়ী সার, বীজ, কীটনাশক, শ্রমিক মজুরি, শেষও পরিবহন খরচ মিলিয়ে প্রতিমান পেঁয়াজ উৎপাদনের খরচ পড়েছে প্রায় ১৪০০/১৫০০ টাকা। ফলে বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে প্রতিবনে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষীদের। 

বালিয়া গট্টি গ্রামের এক কৃষক বলেন, আমি ৫/৬ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন, প্রতি মন প্রায় ১২ থেকে ১৩ শত টাকা খরচ হয়েছে। যে সব কৃষকদের ফলন ভালো হয়েছে তাদের খরচ তুলনামূলক কম পড়েছে। আর যাদের ফলন কম হয়েছে তাদের খরচ বেশি হয়েছে। তিনি আরো বলেন, উৎপাদনের খরচের তুলনায় যদি ন্যায্য দাম না পাওয়া যায়, তাহলে কৃষকরা ভবিষ্যতে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারাতে পারেন। এতে দেশের উৎপাদন কমে গেলে বাইরের দেশ থেকে আমদানি করতে হতে পারে। বালিয়া বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা এক কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, উৎপাদনের প্রতি মনে প্রায় ১৪শ থেকে ১৫শত টাকা খরচ পড়ে। কারণ কীটনাশক, স্যার ও বিভিন্ন ওষুধ বেশি দামে কিনতে হয়, কিন্তু বর্তমানে তিনি প্রতি পেঁয়াজ মাত্র ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে লোকসানে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। পালিয়া বাজারে পিঁয়াজ বিক্রি করতে আসা অপরাধ কৃষক হতাশ সুরে বলেন,সার, বীজ, কীটনাশক, শ্রমিক, পানি সব কিছু মিলিয়ে প্রতি মন পেঁয়াজে প্রায় ১৫০০ টাকা খরচ হয়েছে। এখন বিক্রি করতে হচ্ছে ৯৫০ টাকা থেকে ১১০০ টাকায় এই লোকেশন নিয়ে আমরা কিভাবে সংসার চালাবো।

সালথা উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নের সাপ্তাহিক পেঁয়াজের হাট বসে। এরমধ্যে শনিবার ও বুধবার ঠেনঠেনিয়া ও সালথা সদর হাট বৃহস্পতিবার ও রবিবার বসে। শুক্রবার ও সোমবার বালিয়া গট্টি, কাকদী জয়কাইল, মোন্তার মোড়,মাঝারদিয়া, বাউশষখালী, ও যদুনন্দী এলাকায় বড় বড় পেঁয়াজের হাট বসে। এসব হাটে ফরিদপুর ছাড়াও আশপাশের জেলাও বিভাগীয় শহর থেকে পাইকাররা এসে ট্রাকভর্তি পেঁয়াজ কিনে নিয়ে যান। তবুও স্থানীয় চাষীরা বলেছেন, লোকসানের ট্রাক চেপে যাচ্ছেন তাদের ঘাম ঝরানো ফসল।

পেঁয়াজ চাষীদের দাবি, পেঁয়াজের মতো গুরুত্বপূর্ণ কৃষি পণ্যের জন্য সরকারিভাবে ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন ধান ও গমের মতো পেঁয়াজ ও যদি সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়, তাহলে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়বেন না। তারা আরো বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে কল্ডস্টেরেজ বা হিমাগার নির্মাণ করা হলে কৃষকরা সহজে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারবেন।

সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুদর্শন শিকদার বলেন, পেঁয়াজের দাম মূলত বাজারে চাহিদার উপর নির্ভর করে। সাধারণত প্রতিবছর মৌসুমীর শুরুতে পেঁয়াজের দাম মোটামুটি ভালো থাকে, তবে চলতি বছরে এর ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। 

বর্তমানে বাজারে চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় দাম ও কম। এ অবস্থায় অনেক কৃষ ক ধার দেনা পরিষদের জন্য বাধ্য হয়ে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। তবে কৃষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যদি সম্ভব হয় তাহলে পেঁয়াজ কিছুদিন সংরক্ষণ করে রাখা উচিত। পরবর্তীতে বাজারের চাহিদা বাড়লে তখন বিক্রি করলে তারা ভাল দাম পেতে পারেন।