গাজীপুর , সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
ভোটের হাওয়া
পার্বত্য তিন জেলা পরিষদ নির্বাচন: প্রধানমন্ত্রীর কাছে সমঅধিকার দাবি কালিয়াকৈরে মানবিক নেতা সাইজুদ্দিন আহমেদ কালিয়াকৈর পৌরসভা: দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত উদ্যোগে জসিম উদ্দিন চট্টগ্রামে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মিদের খুঁজছে পুলিশ গাজীপুরে ঝুট ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলা, লুটপাট ও ককটেল সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় নাসরিন রহমান পপি শহরের মতো গ্রাম গড়ার অঙ্গীকার আলা উদ্দিনের শ্রীপুরে মাওনা–উজিলাব সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন নকলায় এমপির সাথে এবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক নেতাদের সাক্ষাৎ চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৪ এপ্রিল

ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে অস্বীকৃতিতে নারায়ণগঞ্জে জামায়াত কর্মীদের বাড়িতে হামলা, বোমা বিস্ফোরণ ও লুটপাট

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ Time View

আতঙ্কে জনপদ

মোঃ মাহবুবুর রহমান | নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, বোমা বিস্ফোরণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় একাধিক জামায়াত কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয় থেকে ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের আড়াইহাজার উপজেলার উচিৎপুরা ইউনিয়নের বড়াইপাড়া গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, উচিৎপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেনের নির্দেশ ও পরিকল্পনায় মো. নূর মোহাম্মদ (পাগলা মাস্তান), ইউনুছ, সুজন (ফালাইন্না) ও জয়নালের নেতৃত্বে ৫০–৬০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল দেশীয় অস্ত্র ও বোমা নিয়ে জামায়াতে ইসলামী কর্মী মো. কবির হোসেনের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা একাধিক বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে, বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করে।

হামলার সময় মো. কবির হোসেনসহ জামায়াত কর্মী মো. তাজুল ইসলাম, মো. নাজমুল ইসলাম, মূসা মিয়া, সানাউল্লাহ ও মো. ফারুক হোসেনের মাথা, ঘাড় ও পিঠে দেশীয় অস্ত্রের কোপে গুরুতর জখম হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঘটনার আগে একই দিন সকালে অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন নিজে কবির হোসেনের বাড়িতে গিয়ে তাকে জামায়াতে ইসলামী ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিতে এবং দাঁড়িপাল্লা মার্কার পরিবর্তে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে চাপ দেন। এতে তিনি রাজি না হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য, নারায়ণগঞ্জ জেলা আমীর ও জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন,

“দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম ও রক্তক্ষয়ী জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে যে নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে জনগণ আর কোনো সন্ত্রাসী ও ফ্যাসিবাদী আচরণ দেখতে চায় না। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দলের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে আজ জনগণ আতঙ্কিত।”

তারা আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে নারী ও শিশুদের লাঞ্ছিত করা, হুমকি দেওয়া এবং কর্মীদের বাড়িঘরে হামলার মতো ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। সরকার যেখানে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আশ্বাস দিচ্ছে, সেখানে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নির্বাচনী পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, অতীতেও সংসদ সদস্য প্রার্থী ও দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়িতে একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা দৃশ্যমান হয়নি।

জামায়াতে ইসলামী অবিলম্বে হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নির্বাচনী পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Motaleb Hossain

Popular Post

গাজীপুরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা শওকত হোসেন সরকারের

ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে অস্বীকৃতিতে নারায়ণগঞ্জে জামায়াত কর্মীদের বাড়িতে হামলা, বোমা বিস্ফোরণ ও লুটপাট

Update Time : ০১:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আতঙ্কে জনপদ

মোঃ মাহবুবুর রহমান | নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, বোমা বিস্ফোরণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় একাধিক জামায়াত কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয় থেকে ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের আড়াইহাজার উপজেলার উচিৎপুরা ইউনিয়নের বড়াইপাড়া গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, উচিৎপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেনের নির্দেশ ও পরিকল্পনায় মো. নূর মোহাম্মদ (পাগলা মাস্তান), ইউনুছ, সুজন (ফালাইন্না) ও জয়নালের নেতৃত্বে ৫০–৬০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল দেশীয় অস্ত্র ও বোমা নিয়ে জামায়াতে ইসলামী কর্মী মো. কবির হোসেনের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা একাধিক বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে, বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করে।

হামলার সময় মো. কবির হোসেনসহ জামায়াত কর্মী মো. তাজুল ইসলাম, মো. নাজমুল ইসলাম, মূসা মিয়া, সানাউল্লাহ ও মো. ফারুক হোসেনের মাথা, ঘাড় ও পিঠে দেশীয় অস্ত্রের কোপে গুরুতর জখম হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঘটনার আগে একই দিন সকালে অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন নিজে কবির হোসেনের বাড়িতে গিয়ে তাকে জামায়াতে ইসলামী ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিতে এবং দাঁড়িপাল্লা মার্কার পরিবর্তে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে চাপ দেন। এতে তিনি রাজি না হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য, নারায়ণগঞ্জ জেলা আমীর ও জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন,

“দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম ও রক্তক্ষয়ী জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে যে নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে জনগণ আর কোনো সন্ত্রাসী ও ফ্যাসিবাদী আচরণ দেখতে চায় না। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দলের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে আজ জনগণ আতঙ্কিত।”

তারা আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে নারী ও শিশুদের লাঞ্ছিত করা, হুমকি দেওয়া এবং কর্মীদের বাড়িঘরে হামলার মতো ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। সরকার যেখানে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আশ্বাস দিচ্ছে, সেখানে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নির্বাচনী পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, অতীতেও সংসদ সদস্য প্রার্থী ও দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়িতে একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা দৃশ্যমান হয়নি।

জামায়াতে ইসলামী অবিলম্বে হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নির্বাচনী পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে।