
মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম
গাজীপুরে হঠাৎ করেই জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকসহ সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন তেল পাম্পে তেল সরবরাহ বন্ধ বা সীমিত করে দেওয়ায় শুক্রবার (তারিখ) দিনজুড়ে পাম্পে পাম্পে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। জরুরি কাজে বের হওয়া অনেক চালক তেল না পেয়ে মাঝপথে বিপাকে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরের টঙ্গীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক তেল পাম্পে গিয়ে চালকরা তেল না পেয়ে ফিরে আসছেন। কোথাও কোথাও তেল দেওয়া হলেও একশত বা দুইশত টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এতে করে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং পাম্পগুলোতে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজটের মতো পরিস্থিতি।
শুক্রবার সকাল থেকেই অনেক মোটরসাইকেল চালক তেল পাওয়ার আশায় বিভিন্ন পাম্পে ভিড় করতে শুরু করেন। কিন্তু অধিকাংশ পাম্পে তেল না থাকায় অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাননি। এতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন তারা।
মোটরসাইকেল চালকদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, একের পর এক তেল পাম্পে ঘুরেও তারা তেল পাচ্ছেন না। হঠাৎ করেই তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। কেউ কেউ অফিস বা জরুরি কাজে বের হয়ে মাঝপথে সমস্যায় পড়েছেন। অনেক চালক বাধ্য হয়ে মোটরসাইকেল ঠেলে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।
একজন মোটরসাইকেল চালক বলেন, “সকাল থেকে তিনটি পাম্প ঘুরেছি, কোথাও তেল পাইনি। যেখানে একটু তেল আছে, সেখানেও মাত্র একশত বা দুইশত টাকার বেশি দিচ্ছে না। এতে আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে।”
আরেক চালক জানান, হঠাৎ করে এভাবে তেল সংকট তৈরি হওয়ায় তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। দ্রুত তেল সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে দৈনন্দিন কাজকর্মে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে তেল পাম্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা জানান, সরবরাহ সংকটের কারণেই সাময়িকভাবে তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল না আসায় অনেক পাম্পে তেল শেষ হয়ে গেছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আবার নিয়মিত তেল বিক্রি শুরু হবে বলে জানান তারা।
এদিকে তেল সংকটের কারণে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল চালকদের ভিড় বাড়ছে এবং জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দ্রুত তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করে মানুষের দুর্ভোগ কমানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়রা বলছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিবহন ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তাই দ্রুত সমস্যার সমাধান প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

Reporter Name 


















