
ডেমরায় স্ট্রিট ফুডের ব্যবসায় খুলছে অনেকের ভাগ্যের চাকা
মানহীন খাবারের অভিযোগ, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন
স্টাফ রিপোর্টার
রাজধানীর ডেমরা এলাকায় স্ট্রিট ফুডের ব্যবসা দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। স্বল্প পুঁজি ও সহজ ব্যবস্থাপনায় এই ব্যবসায় যুক্ত হয়ে অনেকেই বদলে নিচ্ছেন নিজেদের ভাগ্য। ছাত্র-ছাত্রী, বেকার যুবক, গৃহিণী থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষিত তরুণ-তরুণীরাও এখন স্ট্রিট ফুড ব্যবসায় আগ্রহী হচ্ছেন।
‘স্ট্রিট ফুড’ বা রাস্তার খাবার—নানা অভিযোগ উপেক্ষা করেই এখন তুমুল জনপ্রিয়। রাস্তার পাশে ঝকঝকে, দৃষ্টিনন্দন ছোট ছোট দোকান ও ফুড কার্টে বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভিড় করেন খাবারপ্রেমীরা। একসময় যেখানে চা-বিস্কুটেই সীমাবদ্ধ ছিল রাস্তার খাবার, সেখানে এখন চাপ, ফুচকা, চটপটি, ঝালমুড়ি, চিকেন ফ্রাই, পিজ্জা, হালিম, পিঠা, শরবত, কফি—কি নেই এই স্ট্রিট ফুডে!
ডেমরার কোনাপাড়া, সামসুল হক খান স্কুল রোড, ডগাইর শাপলা চত্বর, বড়ভাঙ্গা, হাজিনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিকাল থেকেই স্ট্রিট ফুডের দোকানগুলো জমে ওঠে। তুলনামূলক কম দামে গরম গরম খাবার পাওয়ায় সব বয়সী মানুষের কাছে এর চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শনির আখড়া, মাতুয়াইল, কোনাপাড়া অটো স্ট্যান্ড, শাহজালাল রোড, আল-আমিন রোড, ফার্মের মোড়, সারুলিয়া, আমুলিয়া মডেল টাউন, স্টাফ কোয়ার্টার, শীতলক্ষ্যা নদীর নৌকা ঘাট এলাকাগুলো সন্ধ্যার পর স্ট্রিট ফুড-প্রেমীদের ভিড়ে মুখর থাকে। কেউ দাঁড়িয়ে, কেউ বসে, আবার কেউ অপেক্ষায় থেকে খাবার উপভোগ করছেন।
কাঁচঘেরা ছোট দোকান কিংবা ভ্যানে অনেক ক্ষেত্রে গ্লাভস পরে পরিষ্কারভাবে খাবার পরিবেশন করা হলেও অভিযোগ রয়েছে—কিছু দোকানে মানহীন উপকরণ ও পুরনো পোড়া তেলে খাবার ভাজা হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মতামত
বিএএফ শাহীন কলেজের শিক্ষার্থী সাবিব বলেন, “বন্ধুদের সঙ্গে এখানে প্রায়ই আসি। তুলনামূলক কম দামে ভালো খাবার পাওয়া যায়। গরুর শিক কাবাব খুবই মজাদার।”
ডগাইর দারুচ্ছুন্নাত ফাযিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আয়েশা বলেন, “খাবার সুস্বাদু হলেও অনেক দোকানে ২-৩ দিনের পুরনো তেলে ভাজা হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।”
হাজিনগরের দোকানদার তানভীর জানান, প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বেচাকেনা চলে। “করোনার সময় ব্যবসা খারাপ ছিল, এখন ২ জন স্টাফ নিয়ে মোটামুটি ভালোই চলছে। প্রতিদিন গড়ে আড়াই হাজার টাকার মতো লাভ থাকে।”
স্টাফ কোয়ার্টারের চা বিক্রেতা রবিন বলেন, তার দোকানে ৯ ধরনের চা বিক্রি হয় এবং শীত মৌসুমে দৈনিক ২ থেকে ৩ হাজার টাকা আয় হয়।
স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা
এ বিষয়ে তেজগাঁও সার্কেলের থানা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী মোঃ ওমর ফারুক বলেন,
“অপরিষ্কার পরিবেশে তৈরি স্ট্রিট ফুড খেলে ডায়রিয়া, আমাশয়, কলেরা, টাইফয়েড, ফুড পয়জনিং, গ্যাস্ট্রিক, জন্ডিস ও অ্যালার্জিসহ নানা জটিল রোগ হতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্ট্রিট ফুড আমাদের কর্মসংস্থান ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য আশীর্বাদ হলেও খাদ্যমান ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা না গেলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে। তাই ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয়কেই সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Reporter Name 


















