
চিত্র সাংবাদিকদের ভাবনায় সরস্বতী পুজো ও চিত্র প্রদর্শনীর শুভ সূচনা
কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ প্রতিনিধি: সমরেশ রায় ও শম্পা দাস
চিত্র সাংবাদিকদের ভাবনা ও সৃজনশীলতার মেলবন্ধনে কলকাতায় শুভ সূচনা হলো সরস্বতী পুজো ও চিত্র প্রদর্শনীর। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) কলকাতার এসপ্ল্যানেড ইস্টে অবস্থিত ঐতিহাসিক সিদো কানহু ডহর প্রাঙ্গণে কলকাতা ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
২২ জানুয়ারি দুপুর ২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এ আয়োজনে সরস্বতী পুজো ষষ্ঠতম বর্ষে এবং চিত্র প্রদর্শনী দ্বিতীয় বর্ষে পদার্পণ করলো। এবছরের ভাবনা—
“চিত্র যেথা ভয় শূন্য”।
ফিতে কেটে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন মাননীয় মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলকাতা মহানগরীর মেয়র ও মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, বিধায়ক দেবাশীষ কুমার, কলকাতা ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক পিন্টু প্রধান, সভাপতি শ্যামল মৈত্রসহ বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ ও অসংখ্য চিত্র সাংবাদিক।
উদ্বোধনের পর অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে ও পুষ্পস্তবক দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়।
এই চিত্র প্রদর্শনীতে ১২৫ জন চিত্র সাংবাদিকের তোলা প্রায় ২৫৫টি ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে। ছবিগুলোতে সমাজের নানা দিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনা, চলচ্চিত্র জগতের স্বনামধন্য অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মুহূর্ত, ক্রীড়াজগতের স্মরণীয় দৃশ্যসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ সময়ের দলিল তুলে ধরা হয়েছে।
প্রদর্শনীটি ২৩ জানুয়ারি থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। জনবহুল রাস্তার পাশে এই প্রদর্শনী দেখতে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন পথচলতি মানুষ।
চিত্র সাংবাদিকরা বলেন, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। সংবাদচিত্র ইতিহাসে নীরব সাক্ষীর ভূমিকা পালন করে—শব্দের আগেই সত্য তুলে ধরে। একটি লেন্সের ভেতর দিয়ে সমাজ নিজেকে দেখে, আর সেই সব মুহূর্তই এই প্রদর্শনীতে সংরক্ষিত হয়েছে।
কলকাতা ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক পিন্টু প্রধান বলেন,
“বহু বাধা ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে আমরা এই জায়গায় পৌঁছেছি। এক সময় এই জনবহুল স্থানে পুজো ও প্রদর্শনী করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সকলের সহযোগিতায় আজ আমরা ষষ্ঠতম বর্ষে সরস্বতী পুজো এবং দ্বিতীয় বর্ষে চিত্র প্রদর্শনী আয়োজন করতে পেরেছি।”
তিনি আরও বলেন,
“চিত্র সাংবাদিকরা কখনো রাজনৈতিক রঙে ছবি তোলেন না। সবার মুহূর্ত তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
এই আয়োজনে প্রশাসন, কর্পোরেশন, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানান তিনি।

Reporter Name 



















