
খুলনার ডুমুরিয়ায় সরকারি কর্মকর্তা ‘বড় বাবু’ এখন ঠিকাদার: নিয়মনীতির শর্তে প্রশ্নবিদ্ধ
সাংবাদিক মোঃ মোতালেব হোসেন ভ্রাম্যমান প্রতিনিধ
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ভুমি অফিসের প্রধান সহকারী মোঃ নাছিমুল হক গাজী সরকারি কর্মচারী হয়েও দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারি কাজে নিয়োজিত থাকার অভিযোগে শিরোনামে রয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত শুক্রবার সকালেও ডুমুরিয়া মুক্তিযোদ্ধা মোড়ে পুননির্মাণাধীন একটি সড়কের কাজে তাকে সরাসরি নিয়োজিত থাকতে দেখা গেছে। তবে নাছিমুল হক গাজী নিজেকে পার্টনারশিপে জড়িত থাকার দাবি করেছেন।
সরকারি চাকুরির মূলনীতি অনুযায়ী একজন কর্মকর্তা বা কর্মচারী কোনওভাবে ঠিকাদারি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারেন না। তবু তিনি ডুমুরিয়া ভুমি অফিসের বড় বাবু হিসেবে নিয়ম না মেনে ঠিকাদারি পেশায় জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সড়ক সংস্কার প্রকল্পটি চলতি রয়েছে খুলনা–সাতক্ষীরা মহাসড়ক থেকে মুক্তিযোদ্ধা মোড় হয়ে ডুমুরিয়া আলিয়া মাদ্রাসা পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এলাকায়। ‘জিওবি মেইনটেনেন্স’ প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দে সংস্কারকাজ প্রায় শেষের পথে। মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স শাহিদা এন্টারপ্রাইজ হলেও কাজ বাস্তবায়ন করছেন সানজিদা আক্তার নামে একজন নারী ঠিকাদার। স্থানীয়দের বক্তব্য, “ডুমুরিয়া ভুমি অফিসের বড় বাবু এখন বড় ঠিকাদার; সর্বক্ষন তিনি কাজ দেখাশোনা করছেন এবং হয়তোবা সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছেন।”
ঠিকাদার সানজিদা আক্তার জানান, “মূল ঠিকাদারের কাজ থেকে আমি কাজটি কিনে নিয়েছি। সহযোগিতার জন্য আমার খালাতো ভাই নাছিমুল হক দেখাশোনা করছেন।”
এ বিষয়ে নাছিমুল হক গাজী বলেন, “আমি পার্টনারশিপে রয়েছি।” এলজিইডির উপ সহকারী প্রকৌশলী মোঃ ফেরদৌস আলম জানান, “কাজের সাইডে প্রায়ই নাছিমুল হক গাজীর সঙ্গে দেখা যায়, তবে মূল ঠিকাদার শাহিদা এন্টারপ্রাইজ।” সহকারী (ভুমি) অমিত কুমার বিশ্বাস জানিয়েছেন, “শুনেছি নাছিমুল হকের ছেলের নামে ঠিকাদারি লাইসেন্স আছে। তিনি এসব কাজ দেখাশোনা করছেন।”
উল্লেখ্য, সরকারি কর্মচারী আচরণবিধির ১৭ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনও সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী ঠিকাদারি বা ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে পারবেন না। এই বিধিনিষেধ শুধুমাত্র চাকরিজীবীদের জন্য নয়; তার স্ত্রী, সন্তানসহ নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের জন্যও প্রযোজ্য।

Reporter Name 


















