
গাজীপুরের কালীগঞ্জে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান সম্প্রতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। উপজেলার জামালপুর ও বাশাইর বাজারে পরিচালিত এই অভিযানে ধার্যকৃত মূল্যের বেশি মূল্যে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা এবং অন্যান্য পণ্য অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রির অপরাধে মোট ৫ জন ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
ভ্রাম্যমান আদালতের নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সরওয়ার লিমা। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে পরিচালিত এই অভিযান ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এবং পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন ২০১০ অনুযায়ী করা হয়। অভিযানের সময় ৪টি মামলায় ১৮ হাজার টাকা এবং ১টি মামলায় ১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়, ফলে মোট ৫টি মামলায় ১৯ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
দোকানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার কারণে ব্যবসায়ী দুর্জয় নন্দী এবং মো. শামীম ভূইয়েকে ৩ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়। একই কারণে ব্যবসায়ী মো. মোমেনকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাটজাত মোড়ক বিহীন চালের বস্তা ব্যবহার করায় চাউল ব্যবসায়ী মো. আলী আজগরকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও মূল্য তালিকা না থাকা এবং লাইসেন্সসহ অন্যান্য অনুমোদনপত্র না থাকার অপরাধে মো. রেজাউল হক মির্জাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরওয়ার লিমা জানান, এই অভিযান মূলত মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের নিয়ন্ত্রণ এবং আইন না মেনে ব্যবসা পরিচালনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অংশ। তিনি বলেন, “প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার লক্ষ্য নিয়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হয়ে আসছে।”
এই অভিযান থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ছাড় নেই। ব্যবসায়ীদের জন্য এটি সতর্কবার্তা যে, বাজারে মূল্য তালিকা না প্রদর্শন, অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য বিক্রয় বা লাইসেন্সবিহীন ব্যবসায়িক কার্যক্রম বরদাস্ত করা হবে না।
কালীগঞ্জে ব্যবসায়ী জরিমানা এবং ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান স্থানীয় জনগণ এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ভোক্তারা আশা করছেন, এই ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হলে বাজারে কৃত্রিম মূল্য বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি কমবে।
ভ্রাম্যমান আদালতগুলি এই ধরনের অভিযান চালিয়ে শুধু অর্থদণ্ড দেয় না, বরং ব্যবসায়ীদের নৈতিক ও আইনগত দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। এটি বাজারে স্বচ্ছতা এবং ভোক্তার অধিকার সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
উপজেলার বাজারগুলোতে নিয়মিতভাবে অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আইন মেনে কাজ করার মনোভাব তৈরি করা হচ্ছে। এই ধরণের পদক্ষেপ ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পাওয়ার নিশ্চয়তা এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

Reporter Name 


















